Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

হালফিল বয়ান

ভিসি নিয়োগ, আনুগত্য ও জ্ঞানের প্রজাতন্ত্র

Advertisement

Icon

ড. মাহফুজ পারভেজ

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভিসি নিয়োগ, আনুগত্য ও জ্ঞানের প্রজাতন্ত্র

Advertisement

সরকার বদলের পর বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন টকশো এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে পুরোনো বিতর্ক আবারও ফিরে এসেছে-এগুলো কি দলীয় নিয়োগ, নাকি নির্দলীয়? এসব প্রশ্ন বাংলাদেশের রাষ্ট্র-রাজনীতিকে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতায় একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদে নিয়োগ বহুদিন ধরেই শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্ষমতার রাজনৈতিক বিন্যাসের অংশ হয়ে আছে। যে দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেও তার প্রভাব প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যায়। অতীতের সরকারগুলো যেমন এ অনুশীলন থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, বর্তমানেও তেমন কোনো মৌলিক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়নি।

ভিসি নিয়োগ শুধু ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং বিদ্যমান কাঠামোগত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়, আমলাতন্ত্র, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সংস্কার, শুদ্ধাচার, শুদ্ধিকরণের বদলে দলীয় প্রভাব বিস্তারের যে রাজনৈতিক মানসিকতা, তা এখনো অটুট রয়েছে। অতীতের দুর্নীতিগ্রস্তরাও খোলস পালটে এ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে নানা কৌশলে ও তেল-মর্দনের মাধ্যমে সামনে চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভিসি, প্রো-ভিসি কিংবা কোষাধ্যক্ষের মতো পদগুলো প্রায়শই একাডেমিক নেতৃত্বের চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের জায়গা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ প্রবণতার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে। কারণ যখন শীর্ষ নিয়োগ রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে হয়, তখন নিচের স্তরেও একই সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন, গবেষণা প্রকল্প কিংবা আবাসিক হল পরিচালনা-সব ক্ষেত্রেই দলীয় পরিচয় ও গোষ্ঠীগত সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে মেধা ও নৈতিকতার পরিবর্তে ‘কোন বলয়ের লোক’-এ প্রশ্নটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয় তখন ধীরে ধীরে জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান থেকে দলীয় আনুগত্য ও পারস্পরিক পৃষ্ঠপোষকতার কাঠামোয় রূপ নিতে শুরু করে।

আর এখান থেকেই জন্ম নেয় আরও বড় সংকট-দুর্নীতি ও নিয়োগবাণিজ্য। যখন কোনো পদকে রাজনৈতিক বিনিয়োগ হিসাবে দেখা হয়, তখন সেটি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তৈরি হয়। প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিয়োগে পক্ষপাত, আর্থিক অনিয়ম, দলীয়করণ এবং ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার প্রবণতা বাড়তে থাকে। এতে শুধু প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয় না, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হতাশা, অবিশ্বাস এবং নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হয়। অনেক মেধাবী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষক ধীরে ধীরে প্রশাসনিক কাঠামো থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন, কারণ তারা বুঝতে পারেন যে, যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের মূল্য বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধারাবাহিক দলীয়করণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুমতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও সংকুচিত করে, যা গণতন্ত্রের জরুরি পূর্বশর্ত।

একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা-দৃষ্টিভঙ্গি, জ্ঞানচর্চায় অবদান, নৈতিক দৃঢ়তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সংকট মোকাবিলার স্বাধীন সক্ষমতা। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা কি রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক মর্যাদা ধারণ করেন? তারা কি নতুন প্রজন্মকে চিন্তার নেতৃত্ব দিতে পারবেন? তারা কি বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু নিয়ন্ত্রণ করবেন, নাকি রূপান্তর করবেন?

এখানে আরও একটি গভীর দার্শনিক প্রশ্ন আছে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে চায়, তাহলে তার প্রয়োজন হয় আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি। শুধু স্লোগান বা আনুগত্য দিয়ে রাজনৈতিক দর্শন টিকে থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ই সেই জায়গা, যেখানে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন ধারণা তৈরি হয়। তাহলে প্রশ্ন উঠবেই-নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কারা সত্যিকার অর্থে দলগুলোর রাজনৈতিক দর্শনকে একাডেমিক ও নীতিগত পর্যায়ে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম? শুধু রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা যোগ্যতাহীন একজনকে জ্ঞান-নেতা বানায় না। অতীতে অনুগতদের নিকৃষ্ট কার্যকলাপ, অপকর্ম, অদক্ষতা, অযোগ্যতা ও লজ্জাজনক পতনের মধ্যে উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির আরেক কঠিন বাস্তবতা হলো-উপাচার্যের প্রধান চাপ আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই। শিক্ষক রাজনীতি, ছাত্রসংগঠনের প্রভাব, নিয়োগ ও পদোন্নতির দ্বন্দ্ব, টেন্ডারসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, হল নিয়ন্ত্রণ-সব মিলিয়ে ভিসি পদটি প্রায়শই জ্ঞানচর্চার নয়, বরং ক্ষমতা ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। এ পরিস্থিতিতে নতুন ভিসিরা কি বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক সংঘাত ও গোষ্ঠীবাদের বাইরে এনে একাডেমিক পরিবেশ পুনর্গঠন করবেন? নাকি তারাও শেষ পর্যন্ত পদ রক্ষার রাজনীতিতে আনুগত্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে যাবেন?

এখানে একটি নির্মম বাস্তবতা স্বীকার করা জরুরি, বাংলাদেশে অনেক ভিসি প্রশাসনিক স্থিতি বজায় রাখতে গিয়ে আপসের রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা অনেক সময় বিরোধিতা দমন, দলীয় কর্মীদের সন্তুষ্ট রাখা এবং ক্ষমতাকেন্দ্রের আস্থা বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে জ্ঞান উৎপাদনের জায়গা থেকে আনুগত্য ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। এটি শুধু একাডেমিয়ার সংকট নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সংকট।

ভিসি নিয়োগগুলোর আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো নারী নেতৃত্বের অনুপস্থিতি। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে কি এমন কোনো যোগ্য নারী অধ্যাপক নেই, যিনি ভিসি হওয়ার যোগ্য? নিশ্চয়ই আছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মুখ-ভরা পরিবর্তনের পরও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি এখনো গভীরভাবে পুরুষতান্ত্রিক। নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে দৃশ্যমান হলেও ক্ষমতার উচ্চস্তরে তাদের উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। এটি শুধু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন নয়, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্রের প্রশ্ন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা তখনই অর্থবহ হয়, যখন নারী, সংখ্যালঘু, ভিন্নমতাবলম্বী এবং দলনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীরা ক্ষমতার কাঠামোয় ন্যায্য অংশগ্রহণের সুযোগ পান। অন্যথায় ‘গণতন্ত্র’ শুধু নির্বাচনি ব্যবস্থায় ও দলীয় একাধিপত্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

আমরা ইতোমধ্যে এমন এক সমাজে প্রবেশ করছি, যেখানে কিছু রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বা পদককে মানুষ নিছক সম্মান নয়, বরং ক্ষমতাকেন্দ্রিক আনুগত্যের প্রতীক হিসাবেও দেখতে শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদগুলোর ক্ষেত্রেও যদি একই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সেটি হবে জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত এবং কলঙ্কজনক অধ্যায়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, জাতির নৈতিক বিবেক, সমালোচনামূলক চিন্তার ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির জায়গা। একটি জাতির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে না পারে, তাহলে সেই রাষ্ট্রও দীর্ঘমেয়াদে সৃজনশীল, গণতান্ত্রিক ও আত্মবিশ্বাসী হতে পারে না।

অতএব, এখন সময় এসেছে ভিসি নিয়োগকে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসাবে না দেখে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্ন হিসাবে বিবেচনা করার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবদ্ধ আইন, যা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অকার্যকর, তাকে কাজ করতে দেওয়ার মাধ্যমে সিনেটভিত্তিক নির্বাচন, স্বচ্ছ সার্চ কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং জেন্ডার ইকুইটির মতো বিষয়গুলোকে বাস্তব অর্থে কার্যকর করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় যে ধীরে ধীরে তার মৌলিক চরিত্র হারাচ্ছে, তা পুনরুদ্ধার করা গণতান্ত্রিক সুশাসনের জন্যই জরুরি। তা না হলে রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ সৃষ্টি হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকেই। অতীতে সেটা হয়েছেও। যখন বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাধীন কণ্ঠ হারিয়ে নীরব হয়, জ্ঞানচর্চার মুক্ত পরিসর সংকুচিত হয়, দলীয় বৃত্ত বড় হয়, তখন তা গোষ্ঠীগত আনুগত্য ও ব্যক্তিস্বার্থের কারাগারে আবদ্ধ হয়।

কিছু কিছু পরিণতি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নয়, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের সংকট রূপে অক্টোপাসের মতো আবির্ভূত হয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ই একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেক। সে বিবেক যদি নিয়ন্ত্রিত, ভীত, দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা আপসকামী হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সুশাসনও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। তখন সত্য উচ্চারণের সাহস কমে আসে, সমালোচনার জায়গা হ্রাস পায় এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয়কে স্বাভাবিক হিসাবে মেনে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি-উভয়ই অসহায়ের মতো পতন ও অবক্ষয়ের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে। অতীতে অনিয়ম, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের অপশাসনে যে পতন, পরিণতি ও অবক্ষয় হয়েছে, বর্তমান ও ভবিষ্যতে তেমন করুণ পরিণতি ঠেকাতে দরকার সাহসী নীতিমালা ও কঠিন পদক্ষেপ। ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে আনুগত্যের বিশ্ববিদ্যালয় নাকি জ্ঞানের প্রজাতন্ত্র হচ্ছে, তা সরকারকেই স্পষ্ট করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পতন ও অবক্ষয় রোধে আগাম সতর্ক থাকতে হবে। নইলে অতীতের মতো অধিকাংশ ভিসি খুবই অসুন্দর ও অপমানজনক বিদায় নিতে বাধ্য হবেন। কেউ রাতের অন্ধকারে, কেউ মিটিং চলাকালীন, কেউ কর্মস্থলে আসার পথে, কেউ কর্মস্থলে আসতে লজ্জা পেয়ে এবং কেউ জেল-হাজতে গিয়ে ভিসি পদের যে পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন, তার কালিমা সংশ্লিষ্টদের ললাটেও বর্তাবে।

প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ : চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)

[email protected]

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

অন্যমত ফ্যাসিস্ট সরকারের ঋণের বোঝাই অর্থনীতিকে স্থবির করেছে

ফ্যাসিস্ট সরকারের ঋণের বোঝাই অর্থনীতিকে স্থবির করেছে

রংপুরের আলুচাষিদের দরকার বাজার, সহানুভূতি নয়

রংপুরের আলুচাষিদের দরকার বাজার, সহানুভূতি নয়

শিক্ষা খাতের গলদ থেকে যে বিস্ফোরণ

শিক্ষা খাতের গলদ থেকে যে বিস্ফোরণ

দৃষ্টিপাত সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হোক

সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হোক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম