Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপদ ভবিষ্যৎ

Advertisement

Icon

আহসান হাবিব

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপদ ভবিষ্যৎ

Advertisement

প্রতিবছর ৯ আগস্ট বিশ্বজুড়ে যখন ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ উদ্যাপিত হয়, তখন বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিভাষা, ঐতিহাসিক সত্য এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে চাঙা হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ দিবসটির মূল উদ্দেশ্য বিশ্বের নানা প্রান্তের অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার, অনন্য সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা। তবে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) ও সমতলে বসবাসকারী অনগ্রসর নৃ-গোষ্ঠীগুলোর পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিভাষা ‘ইনডিজেনাস পিপলসে’র অন্ধ অনুকরণ এবং দেশীয় সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে এক ধরনের প্ররোচনামূলক রাজনৈতিক বয়ান তৈরির অপচেষ্টা প্রতিনিয়ত লক্ষ করা যায়।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমানায় অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান) কেবল ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের স্বাধীন ভূখণ্ডের এক-দশমাংশজুড়ে বিস্তৃত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্তিত্বের এক প্রাণকেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল ও স্থানীয় পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অ-বাঙালি জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার যে নিরবচ্ছিন্ন বয়ান তৈরি করা হচ্ছে, তা কেবল ভাষাভিত্তিক বা নৃ-বিজ্ঞানসংক্রান্ত কোনো পরিচিতির লড়াই নয়। এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন ও সনদের ধারাকে ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড বিচ্ছিন্নকরণের সূক্ষ্ম ভূ-রাজনৈতিক নকশা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সংকটের শেকড় অনুসন্ধানে ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ প্রবর্তনের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ড ও মূলধারার জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। পাকিস্তান আমলেও এ ঔপনিবেশিক কাঠামোর কার্যকর ও স্থায়ী নিরসন সম্ভব হয়নি।

স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নকালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের একমুখী সংজ্ঞায়ন পাহাড়ের অ-বাঙালি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বকে বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের দূরদর্শিতার অভাবে পাহাড়ে যে অসন্তোষের বীজ রোপিত হয়েছিল, তা অচিরেই সশস্ত্র রূপলাভ করে। এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাহাড়ে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্য আনা এবং ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে সমতল থেকে বাঙালি বসতি স্থাপন এবং ভূমিসংস্কারের যে সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তা বাংলাদেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রে একটি দূরদর্শী কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল। সেই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পুনর্বিন্যাসের ফলেই আজ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলটি বাংলাদেশের মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে টিকে রয়েছে।

তবে পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’ পাহাড়ের স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। সমতলের বাঙালি সমাজ ও জাতীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যত আলোচনার প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে এবং পার্শ্ববর্তী শক্তিগুলোর কৌশলগত সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পাদিত এ চুক্তি পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি আনার বদলে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও বিচ্ছিন্নতাবাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দাঁড় করিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যবহৃত ‘ইনডিজেনাস’ শব্দের বহুল চর্চা থাকলেও বাংলাদেশের সংবিধান এবং নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস স্পষ্টভাষায় এ পরিভাষার প্রয়োগকে অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করে। ২০১১ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ২৩ক সংযোজন করা হয়, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে : ‘রাষ্ট্র উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’

নৃ-বিজ্ঞান ও ইতিহাসের নিরিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশের অপরাপর অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো এ পলিমাটির আদি বাসিন্দা বা ‘আদিবাসী’ নয়। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ও অঞ্চল-যেমন মিয়ানমার (তৎকালীন আরাকান), তিব্বত, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে অভিবাসিত হয়ে তারা এ ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন করেছে। পক্ষান্তরে, এ ভূখণ্ডের বাঙালি জনগোষ্ঠী হাজার হাজার বছর ধরে এ গাঙ্গেয় বদ্বীপ ও তৎসংলগ্ন ভূমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে আসছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো পরিভাষা প্রচলিত থাকলেই তা অন্ধভাবে মেনে নিয়ে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক পরিচয় নির্ধারণ করতে পারে না। চীন, ভারত বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু রাষ্ট্র নিজেদের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ইতিহাস ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের নির্দেশিকাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করেনি; বরং নিজস্ব সংবিধান ও আইনকেই প্রাধান্য দিয়েছে।

বর্তমানে পার্বত্য অঞ্চলে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশই বাঙালি। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ডজনখানেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস হলেও মূলত একটি নির্দিষ্ট একক নৃ-গোষ্ঠী প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ এক অদ্ভুত ও অন্যায্য বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে :

১. পার্বত্য চট্টগ্রামে বহাল থাকা ঔপনিবেশিক আমলের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বিভিন্ন বিধানের কারণে ভূমির মালিকানায় চূড়ান্ত অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একজন উপজাতীয় নাগরিক বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে স্বাধীনভাবে জমি ক্রয়-বিক্রয় ও বসবাস করতে পারলেও দেশের সাধারণ বাঙালি নাগরিক পার্বত্য চট্টগ্রামে এক ছটাক ভূমিও ক্রয় করতে পারেন না।

২. পাহাড়ে বসবাসকারী উপজাতীয় অধিবাসী ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী-ঠিকাদার শ্রেণি রাষ্ট্রকে কোনো ভূমিকর বা আয়কর প্রদান না করেই করমুক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ একই ভৌগোলিক সীমানায় বসবাসকারী বাঙালি নাগরিককে পূর্ণমাত্রায় আয়কর, ভূমি রাজস্ব এবং বিভিন্ন আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হয়।

৩. জেএসএস, ইউপিডিএফ এবং সাম্প্রতিককালে কেএনএফের মতো সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়জুড়ে চাঁদাবাজি, আধুনিক অস্ত্রের কেনাবেচা এবং নিজস্ব ক্যাডারদের মাধ্যমে এক ধরনের ‘বিকল্প সরকার’ প্রতিষ্ঠা করেছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭-এ বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ অনুচ্ছেদ ২৮ বৈষম্য রোধ করেছে এবং অনুচ্ছেদ ৪২ সম্পত্তির মালিকানার অধিকার দিয়েছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান ব্যবস্থা সংবিধানের এ চেতনাকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করছে। একই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এক দল নাগরিক অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করবেন, আর অন্য নাগরিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে-তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মনে রাখতে হবে, কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বা আঞ্চলিক পরিষদের মতো নিষ্ক্রিয় বা একপেশে কাঠামোর ওপর ভরসা করে জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখা অসম্ভব। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিম্নে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি :

১. আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা কাটিয়ে সরাসরি সরকারপ্রধানের (প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা) নির্বাহী নজরদারিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত আপেক্স বডি’ গঠন করতে হবে। এ বডি সেনা গোয়েন্দা, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভূ-রাজনৈতিক গবেষকদের সমন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সার্বিক নীতি ও কৌশল নির্ধারণ ও পরিচালনা করবে।

২. ‘আদিবাসী’ শব্দটির কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি বাংলাদেশে নেই। তাই গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও এনজিওগুলোর প্রতি রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা স্পষ্ট হতে হবে। সংবিধানসম্মত পরিভাষা-‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠী’-ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য বিকৃত করে সামাজিক বিভাজন সৃষ্টিকারী অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৩. পাহাড়ে বসবাসকারী সমতলের বাঙালি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিদ্যমান আইনি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে হবে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪২-এর চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাহাড়ে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ভূমি আইন সংস্কার করা আবশ্যক, যেন যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দেশের যে কোনো অংশেই ভূমির অধিকার চর্চা করতে পারেন। একতরফা ট্যাক্স-ফ্রি সুবিধা এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য বন্ধ করে সব নাগরিকের জন্য সমান আইন চালু করতে হবে।

৪. সীমান্ত ইস্যুতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে তোষণনীতি বাদ দিয়ে জোরালো ও কৌশলগত অবস্থান নিতে হবে। প্রতিবেশী ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন কোনো সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা না চালাতে পারে, সে বিষয়ে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত পারের অস্ত্র ও মাদক পাচার বন্ধে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করতে হবে।

৫. পাহাড় থেকে সব ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিরপেক্ষ ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালাতে হবে। সাধারণ উপজাতীয় অধিবাসীদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে তাদের এবং পাহাড়ি বাঙালিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতপূর্বক মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের কোনো বিচ্ছিন্ন বা দর কষাকষির ভূখণ্ড নয়; এটি হাজারও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের মানচিত্রের এক অবিচ্ছেদ্য ও পবিত্র অংশ। সুতরাং আবেগ নয়, সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্রনীতি, সাংবিধানিক ন্যায়বিচার এবং আত্মবিশ্বাসী কৌশলগত কূটনীতিই পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে। সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আমাদের সর্বপ্রধান ও অভিন্ন জাতীয় পরিচিতি হলো-‘আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা সবাই বাংলাদেশি।’ পাহাড়ে বসবাসকারী বাঙালি কিংবা বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী-সবাই রাষ্ট্রের কাছে সমান মর্যাদার অধিকারী। সেখানে কারোর জন্য অতিরিক্ত সুবিধা বা বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই। পাহাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় অখণ্ডতার কোনো বিকল্প নেই এবং এ অখণ্ডতা রক্ষায় রাষ্ট্রকে সাংবিধানিক ও আইনি কঠোরতা বজায় রাখতে হবে। যদি আমরা এখনই বহিরাগত প্রক্সি চক্রান্ত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদকে কঠোর হস্তে দমন করতে ব্যর্থ হই, তবে ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের কখনো ক্ষমা করবে না।

আহসান হাবিব : সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

হালফিল বয়ান রোহিঙ্গা সংকটের চেইন-রিঅ্যাকশন

রোহিঙ্গা সংকটের চেইন-রিঅ্যাকশন

অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের সন্ধানে বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের সন্ধানে বাংলাদেশ

নারীর বিদেশযাত্রা ও ইমিগ্রেশনের দায়িত্বশীলতা

নারীর বিদেশযাত্রা ও ইমিগ্রেশনের দায়িত্বশীলতা

পুঁজির বৃত্তে বন্দি বাজার : করণীয় কী

পুঁজির বৃত্তে বন্দি বাজার : করণীয় কী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম