জনগণ বারবার প্রতারিত হলেও নীরব থাকে না
মহিউদ্দিন আহমদ
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লিওন ট্রটস্কি ছিলেন অক্টোবর বিপ্লবের অন্যতম নেতা। কিন্তু লেনিনের মৃত্যুর পর তিনি ক্ষমতা হারান এবং নির্বাসনে যান। ১৯৩৬ সালে নরওয়েতে নির্বাসিত অবস্থায় তিনি ‘রেভুল্যুশন বিট্রেইড’ নামে একটি বই লেখেন। এটি হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনামূলক গ্রন্থ, যেখানে তিনি দেখান, কীভাবে স্টালিনের আমলে ঘোষিত শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র একটি আমলাতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। এটি মূলত মার্কসবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে স্টালিনবাদের বিরুদ্ধে একটি তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
ট্রটস্কি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন অর্থনৈতিকভাবে শ্রমিক রাষ্ট্রের চরিত্র বজায় রাখলেও রাজনৈতিকভাবে তার আমলাতান্ত্রিক অবক্ষয় হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বিপ্লবের ব্যর্থতার কারণে শ্রমিক শ্রেণি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এ সুযোগে একটি বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত আমলাতান্ত্রিক শ্রেণি ক্ষমতা দখল করে। এটি স্টালিনবাদের বিরুদ্ধে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তাত্ত্বিক সমালোচনা।
ট্রটস্কির মতে, স্টালিনের নেতৃত্বে ‘এক দেশে সমাজতন্ত্র’ নীতি আন্তর্জাতিক বিপ্লবের লক্ষ্যকে পরিত্যাগ করে। এর ফলে সোভিয়েত রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র থেকে সরে গিয়ে একনায়কতান্ত্রিক শাসনে পরিণত হয়। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক ভিত্তি সমাজতান্ত্রিক হলেও রাজনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে হবে। শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক সোভিয়েত পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন হয় ভেঙে পড়বে, নয়তো পুঁজিবাদে ফিরে যাবে। ট্রটস্কির ‘শ্রমিক রাষ্ট্রের অবক্ষয়’ ধারণা পরবর্তী ট্রটস্কিবাদী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। বইটি চতুর্থ আন্তর্জাতিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এ বিশ্লেষণের অনেক দিককে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ করে।
রেভুল্যুশন বিট্রেইড শুধু একটি রাজনৈতিক গ্রন্থ নয়, বরং সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র বনাম আমলাতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্রের দ্বন্দ্বের একটি মৌলিক বিশ্লেষণ। ট্রটস্কি দেখিয়েছেন যে, বিপ্লবের সাফল্য টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রমিক শ্রেণির সক্রিয় গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
স্টালিনবাদীরা অবশ্য এ ব্যাখ্যা সমর্থন করেন না। তারা ট্রটস্কিকে কমিউনিজমের শত্রু মনে করেন। ভিন্নমতাবলম্বী কমিউনিস্টদের সম্পর্কে তাদের মুখে অহরহ উচ্চারিত একটি গালি হচ্ছে ‘ট্রটস্কিবাদী’। এ গালি যারা দেন, তাদের বেশির ভাগই বইটি পড়ে দেখেননি। এটা আমাদের জানা, অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ সমাজের রাজনীতিও থাকে পশ্চাৎপদ। এখানে গণতন্ত্রের নামে গড়ে ওঠে অলিগার্ক। সামষ্টির শাসনের নামে চালু হয় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ। এর সহযোগী কিংবা নিয়ামক শক্তি হচ্ছে সিভিল-মিলিটারি আমলাতন্ত্র।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, বিপ্লব বা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণের সক্রিয় গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। রেভুল্যুশন বিট্রেইড আমাদের শেখায়-যদি জনগণের ক্ষমতা আমলাতন্ত্র বা বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়, তবে বিপ্লবের লক্ষ্য ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের জন্য এ শিক্ষা হলো : গণতন্ত্রকে শুধু পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আটকে না রেখে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে জনগণের সচেতন ও স্বাধীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে স্থানীয় সরকার, যেটি আমাদের দেশে দাঁড়াতেই পারছে না।
এদেশে একটা মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, সমতা ও ন্যায়। কেননা পাকিস্তানি এস্টাবলিশমেন্ট এটি দেয়নি। তারা জবরদস্তি করে একটা সিভিল-মিলিটারি আমলা আর বড় পুঁজিপতিদের একটা অলিগার্ক তৈরি করে দেশ শাসন করছিল। দেশের একটি অংশ হয়ে উঠেছিল অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল তার ফলশ্রুতি। এ দেশের মানুষ যুদ্ধ চায়নি। যুদ্ধটা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধ যে কত ভয়ংকর, কত নৃশংস, যে একাত্তর দেখেনি সে বুঝবে না।
একাত্তর ছিল এমন একটা লড়াই, যেখানে সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গেছে, নানা ভূমিকায়। এটা ছিল জনগণের যূথবদ্ধ লড়াই। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই আদর্শকে পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়। জনগণ যে মুক্তি চেয়েছিল, তা আমলাতন্ত্র, দুর্নীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের কারণে সীমিত হয়ে পড়ে। নেতারা জনগণের অংশগ্রহণের পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি গড়ে তোলেন। দলীয়করণ ও ব্যক্তিপূজা জনগণের গণতান্ত্রিক শক্তিকে দুর্বল করে ফেলে। মানুষের মধ্যে তৈরি হয় গভীর বিচ্ছিন্নতাবোধ। শাসকরা এটি বুঝতে পারেননি যে, তাদের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। ১৯৭৫ সালের আগস্ট অভ্যুত্থানে দেখা গেল, এত বড় একটা নৃশংস ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও পতিত শাসকদের পক্ষে কেউ পথে বের হয়নি। কারণ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের এতই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল যে, যারা উৎখাত হয়েছিল শুধু তারা এবং তাদের অনুগ্রহজীবীরা ছাড়া সবাই এ পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছিল কিংবা মেনে নিয়েছিল।
১৯৭৫-এর পর বারবার সামরিক শাসন এসেছে, যা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করেছে। প্রতিবারই জনগণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে, কিন্তু স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। নির্বাচনি প্রতারণা যত বেড়েছে। গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা ততই প্রকট হয়েছে। নির্বাচন জনগণের ক্ষমতা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলেও বারবার তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা, জাল ভোট, প্রশাসনিক প্রভাব-এসব কারণে জনগণ তাদের প্রকৃত ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেনি। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে নিজেদের পারিবারিক ও গোষ্ঠীস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা যায়, জনগণ বারবার প্রতারিত হলেও তারা নীরব থাকেনি। ১৯৯০-এর গণআন্দোলন সামরিক স্বৈরাচারের অবসান ঘটায়। অল্প কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার ফিরে আসে পুরোনো ব্যবস্থা। রাজনীতিবিদদের সীমাহীন ক্ষমতালিপ্সা, ঔদ্ধত্য ও নোংরা প্রতিযোগিতা ডেকে আনে এক-এগারো। এক-এগারোর শর্তগুলো তৈরি করে দিয়েছিলেন রাজনীতিবিদরা। তারপর তারাই এর ভিকটিম হন। এক-এগারো থেকে তারা কেউ শিক্ষা নিয়েছেন বলে মনে হয় না। কারণ আমরা আবারও সেই পুরোনো ব্যবস্থায়ই ফিরে গেছি, যেখানে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশ নেওয়ার সুযোগ আগের মতোই রুদ্ধ থেকে যায়। আবারও সেই পলিটিক্যাল সিন্ডিকেট। রাজনৈতিক নেতৃত্ব বারবার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে আর সবসময় ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আউড়ে গেছে।
২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুতই সর্বাত্মক গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়, যার ফলে ৫ আগস্ট ২০২৪-এ দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকার পতন ঘটে এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।
আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য পুনঃস্থাপিত কোটা বাতিলের দাবিতে। ছাত্র ও সাধারণ মানুষ আশা করেছিলেন, একটি জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি স্বচ্ছ প্রশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র। যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়বে। বৈষম্যহীন, সমান অধিকারভিত্তিক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের প্রত্যাশা ছিল আন্দোলনের মূল স্লোগান। আন্দোলন শুধু কোটা সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি সর্বাত্মক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রূপ নেয়। শত শত ছাত্র-তরুণ নিহত ও আহত হন। রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও দমন-পীড়ন আন্দোলনের বড় মূল্য হয়ে দাঁড়ায়।
৫ আগস্ট ২০২৪-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন, যা আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অর্জন। ৮ আগস্ট ২০২৪ একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সুপ্রিমকোর্টের রায় অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ সরকারি চাকরি মেধাভিত্তিক করার নির্দেশনা কার্যকর হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পর স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা এখনো চ্যালেঞ্জ।
২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা। প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন। প্রাপ্তি হিসাবে এসেছে সরকার পতন, কোটা সংস্কার এবং দেড় বছর পর একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রতিষ্ঠা। তবে অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণ-আন্দোলন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ১৯৪৮ আর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন-সবই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গতিপথ নির্ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। আবার পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান থেকে শুরু করে সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত সব শাসক আন্দোলনকারীদের বলেছেন রাষ্ট্রের দুশমন, ষড়যন্ত্রকারী, বিদেশি শক্তির এজেন্ট। সময় বদলায়, শাসকের ভাষা বদলায় না।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন কোটা সংস্কার আন্দোলন ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা খুবই কঠিন হবে, এবং সম্ভবত কখনোই পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানা যাবে না। এর কয়েকটি কারণ আছে। আন্দোলনের সময় সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী নিহতের সংখ্যা কম দেখাতে চেয়েছিল, আবার বিরোধী পক্ষ অনেক সময় বেশি দেখিয়েছে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আড়ালে থেকে গেছে। হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় সংগঠন-সব জায়গায় আলাদা আলাদা তালিকা তৈরি হয়েছে। এগুলো একত্রিত করা হয়নি। অনেক মানুষ নিহত না হলেও নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের ভাগ্য অজানা। এদের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে ধরা পড়েনি। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অনুমান দিয়েছে (যেমন প্রায় ১,৪০০ নিহত), কিন্তু তারা নিজেরা প্রত্যক্ষভাবে প্রতিটি মৃত্যুর রেকর্ড রাখতে পারেনি। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে। আমরা হয়তো একটি আনুমানিক পরিসংখ্যান পাব, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল সংখ্যা সম্ভবত ইতিহাসের অন্ধকারেই থেকে যাবে, যেমনটি থেকে গেছে একাত্তরের নিহতদের ক্ষেত্রে।
এত যে রক্ত ঝরল, মানুষ মরল, অনেকেই চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেলেন, এর কি কোনো মূল্য নেই? আবারও আমরা দেখি পুরোনো ব্যবস্থাই ফিরে আসছে। ক্ষমতার লড়াইয়ে এক পক্ষ হেরে গেছে। তারা পালিয়েছে, গর্তে লুকিয়েছে, বিদেশে বসে ফেসবুকে চোখরাঙানি দিচ্ছে। অপর পক্ষ ‘যুদ্ধশেষের প্রাপ্য চাই’ বলে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-মারামারি করছে। সবাই বিজয়ের দাবি করছে। ‘ভিক্টরি হ্যাজ মেনি ফাদার্স’! এখানে জনগণ কই?
এ মুহূর্তে আমার কাছে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক বই হলো ট্রটস্কির ‘রেভুল্যুশন বিট্রেইড’।
মহিউদ্দিন আহমদ : লেখক ও গবেষক
