এদেশে প্রাথমিক শিক্ষা সর্বজনীন হয় না কেন?
Advertisement
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আমাদের দেশে গত একশ-দেড়শ বছরে জনশিক্ষার কিছুটা প্রসার হইয়াছে, একথা অস্বীকার করার উপায় নাই। গ্রামের লোক, কৃষক পরিবার হইতে আগত সদস্যরাও ‘আধুনিক’ শিক্ষার সুযোগ পাইয়াছেন। আপনারা জানেন, আমাদের দেশে আধুনিক শিক্ষা মানে ইংরেজি শিক্ষাই। এই শিক্ষার ভিত পাতা হইয়াছিল ব্রিটিশ শাসনের কমবেশি দুইশ বছরে।
দুঃখের মধ্যে, প্রায় একশ বছর পার হইতে চলিল, আমরা দুই দুইবার স্বাধীনতার স্বাদ পাইলাম। তাহার পর, আবার তাহার পর, আমাদের দেশে বারো বছরের বুনিয়াদি শিক্ষা স্থগিত থাকুক, এমন কি পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষাও সর্বজনীন হয় নাই। বলা বাহুল্য আমাদের প্রতিবেশী ভারত আর পাকিস্তানও এই নিয়মের অতিক্রম নয়।
ইহার কারণ শুদ্ধমাত্র শাসক ইংরেজের স্বার্থপরতা আর সংকীর্ণ চরিত্র বিশ্লেষণে মিলিবে না। পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান পণ্ডিত পরমেশ আচার্য্য এবং অন্যান্য ইতিহাস বিশেষজ্ঞ দেখাইয়াছেন বিভাগপূর্ব পরাধীন বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার রোধের পেছনে শুদ্ধমাত্র ব্রিটিশ সরকারের নীতি নয়, বাংলার ইতিহাসে যে শ্রেণীর পরিচয় ‘ভদ্রলোক’, তাহাদের বিরোধিতাও কম কার্যকর ছিল না। সোজা কথায়, বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা সর্বজনীন না হওয়ার ইতিহাস বুঝিতে হইলে এই বৈষম্যের, বা শ্রেণী সংগ্রামের কাহিনিটি মোটেও এড়াইয়া যাওয়া যাইবে না। বর্তমান নিবন্ধে আমরা এই সমস্যার আদিকল্প আলোচনা করিব।
ব্রিটিশশাসিত ভারতে জনশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য নীতি প্রথম ঘোষিত হইয়াছিল ইংরেজ-বিজয়ের কমবেশি আশি বছর পর, বড়লাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে, ইংরেজি ১৮৩৫ সালের মার্চ মাসে। মাত্র একটি প্রশ্নের জবাবে এই নীতি প্রণীত হইয়াছিল। প্রশ্নটা ছিল এই: সরকার অর্থব্যয় করিবেন শিক্ষার কোন ধারার পেছনে বা উপখাতে: দেশীয় সনাতন বিদ্যার পেছনে, নাকি এয়ুরোপীয় বিজ্ঞানচর্চার খাতে?
এই প্রশ্নের জের আমরা আজিকালি যাহাকে বলিলেন প্রাথমিক শিক্ষা, সেই শিক্ষা পর্যন্ত পৌঁছায় নাই। ১৮৩৫ সালের নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছিলেন শিক্ষাখাতে যতটুকু অর্থ বার্ষিক বরাদ্দ হইবে, তাহা ব্যয় করা হইবে অন্যত্র নয়, শুদ্ধমাত্র ইংরেজি ভাষার মধ্যস্থতায় এয়ুরোপীয় বিজ্ঞানচর্চার পেছনে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে যে শিক্ষাব্যবস্থা কায়েমমোকাম আছে, তাহার ভিত্তি ১৮৩৫ সালের ৭ মার্চ নাগাদ প্রচারিত এই নীতি।
এই নীতিটা স্থির করার আগে ভারতে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকমহল দীর্ঘদিন ধরিয়া একটা বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন। বিতর্কের দুর্বল পক্ষ চাহিতেন ব্রিটিশ সরকার যুগপদ সনাতন দেশীয় শিক্ষার (মানে সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি প্রভৃতি ভাষায় প্রচলিত জ্ঞানচর্চার) এবং এয়ুরোপীয় বিজ্ঞানচর্চার পেছনে অর্থব্যয় করুন। ঐদিকে সবল পক্ষের চাহিদা ছিল শুদ্ধমাত্র ইংরেজি ভাষার মধ্যস্থতায় এয়ুরোপীয় বিজ্ঞানচর্চার বিস্তার। যে পথে এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হইয়াছিল, তাহাতে যাঁহারা সবল, তাঁহারা অর্থাৎ ইংরেজি পক্ষ জয়লাভ করিয়াছিলেন। বোঝা গিয়াছিল দেশীয় প্রজাসাধারণের শিক্ষাদীক্ষার প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর দৃষ্টিভঙ্গি ততদিনে (১৮১৩-১৮৩৫) বদলাইয়া যাইতেছিল।
ঘটনার শুরু ১৮১৩ সালে। ঐ বছর বিলেতের পার্লামেন্টে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সনদ নবায়ন করা হইয়াছিল। সনদে সংযুক্ত বিধিবিধানের একটি ছিল এই : “ফিবছর একলক্ষ রুপির (১০,০০০ পাউন্ডের) কম নয় এমন অর্থ বরাদ্দ করিয়া একটি তহবিল গঠন করিতে হইবে; বরাদ্দকৃত অর্থ একদিকে ‘সাহিত্যের পুনরুজ্জীবন ও উন্নতিসাধনের’ আর ‘দেশীয় পণ্ডিতদের উৎসাহদানের’ জন্য এবং অন্যদিকে ‘ভারতে ব্রিটিশ অধিকৃত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে বিজ্ঞানশিক্ষা প্রবর্তন ও বিকাশের কাজে’ খরচ করা সমীচীন হইবে। এককথায় বার্ষিক তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য ছিল দ্বিবিধ : প্রাচ্যের জ্ঞানসাধনা এবং পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানচর্চা-যুগপদ দুই ধরনের শিক্ষাদীক্ষায় উৎসাহ যোগানো।
বিশ বছরের মাথায়, ১৮৩৩ সাল নাগাদ, কোম্পানির সনদ আরেকবার নবায়ন করিতে হইল। এই উপলক্ষে গঠিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাছাই কমিটির প্রতিবেদনটি ১৮৩২ সালে প্রকাশিত হয়। স্বনামধন্য ইতিহাসবিদ ও রাষ্ট্রনেতা টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ছিলেন এই কমিটির অন্যতম সদস্য। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হইয়াছিল ভারতে ইংরেজি শিক্ষা সর্বজনীন করিতে হইবে দুইটি কারণে : একটা কারণ দেশীয় লোকজনকে পদস্থ চাকরিতে নিয়োগ করা, দ্বিতীয় কারণ ইংরেজি শিক্ষা ‘উহাদের আচার-আচরণ ও স্বভাব-চরিত্রের উপর ইংরেজিবান্ধব প্রভাব বিস্তারের পরাক্রমশালী হাতিয়ার’ হইবে। এই কমিটির আরেক সদস্য চার্লস এডোয়ার্ড ট্রিবেলিয়ন ছিলেন মেকলের নিকটাত্মীয়। বড়লাট বেন্টিঙ্কের কাছে লেখা চিঠিপত্রে ইনি তখন লিখিতেছিলেন, ভারতে ইংরেজি ভাষা প্রবর্তনের পক্ষে দুইটি সহি বড় আদি ও আসল যুক্তি আছে: একে ইহার ‘জনপ্রিয়তা’, দুই নম্বরে ‘স্বাধীনতাপ্রীতি’।
এই ধর্মপ্রাণ ইংরেজ খ্রিস্টান ভদ্রলোকের ধারণা ছিল যুগপদ ইংরেজি ও নানাবিধ দেশীয় ভাষার ভিতে প্রতিষ্ঠিত নতুন শিক্ষানীতির দৌলতে কালের নিয়মে ভারতবর্ষ একদিন পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়িয়া তুলিবে, যাহার ফজলে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বের অধিকারী ছাত্রগণ যথাসময়ে সরকারি চাকরিতে অভিষিক্ত হইবেন। ট্রিবেলিয়নের আরও ধারণা ছিল ভারতের প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়ীরা অভিজাত শ্রেণীর প্রতিনিধি, তাঁহারা চাহেন না শিক্ষাদীক্ষার প্রসার সর্বজনীন হয়। অধিক কি, ইংরেজি শিক্ষার কল্যাণে সারা এশিয়া মহাদেশ একদিন খ্রিস্টধর্মের অনুসারী হইয়া উঠিবে, মনে এই আশাও তিনি পুষিতেন।
১৮৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত বাছাই কমিটির সদস্যদের সম্মুখে উপস্থিত প্রশ্নটা ছিল এইরকম : ১৮১৩ সালের সনদ আইনে প্রস্তাবিত ‘সাহিত্যের পুনরুজ্জীবন ও উন্নতিসাধন’ কথাটার তাৎপর্য কি। ইহার অর্থ কি সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষণ নয়? সেইদিন ঐ কমিটিতে প্রাচ্যবিদ্যার পক্ষে আওয়াজ তোলা হইয়াছিল, সংস্কৃত বিদ্যা কিংবা আরবি-ফারসি শিক্ষার আয়োজনে কোন উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটিলে, তাঁহারা সাবধান করিয়াছিলেন, ১৮১৩ সালের সনদ আইনের অবমাননা করা হইবে।
ঘটনা এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পর, ১৮৩৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ, সক্রেটিস শাসনের কলিকাতাস্থ সর্বোচ্চ কৌন্সিল সদস্যদের অন্যতম টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ইংরেজিপন্থী যুক্তির পক্ষে তাঁহার মশহুর প্রস্তাব বা ‘মিনিট’টি রচিয়াছিলেন। তাঁহার প্রস্তাবের অনুবলেই পাঁচদিন পর, ১৮৩৫ সালের ৭ মার্চ, বড়লাট বেন্টিঙ্ক আপনার সিদ্ধান্ত প্রচার করিয়াছিলেন। লিখিয়াছিলেন : ‘ভারতের দেশীয় জনসাধারণের মধ্যে এয়ুরোপীয় সাহিত্য ও বিজ্ঞানের বিস্তারই ব্রিটিশ সরকারের মহান লক্ষ্য হওয়া উচিত আর শিক্ষার খাতে বরাদ্দ করা প্রাথমিক তহবিলটা শুদ্ধমাত্র ইংরেজি শিক্ষার পেছনে ব্যয় করিলে সবচেয়ে ভালো হইবে।’
ইতিহাস-বিশেষজ্ঞ লেখকেরা এতদিনে জানিতে পারিয়াছেন, ভারতে ব্রিটিশ সরকার আগের বছর, (১৮৩৪) ডিসেম্বর মাসের গোড়াতেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছিলেন। বেন্টিঙ্কের সিদ্ধান্ত আদতে মেকলের প্রস্তাবের মধ্যেই নিহিত ছিল। বেন্টিঙ্ক লিখিয়াছিলেন, ‘এই প্রস্তাবে প্রকাশিত মনোভাবের সঙ্গে আমি ষোল আনাই একমত পোষণ করি।’
সান্ত্বনার মধ্যে, তিনি বিরোধী দলের আশঙ্কা দূর করিয়া এমন একটি শর্ত যোগ করিয়াছিলেন যাহা মেকল রচিত আদি প্রস্তাবে পাওয়া যায় না। বেন্টিঙ্ক লিখিয়াছিলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশীয় জনসাধারণ দেশীয় বিদ্যাশিক্ষার কাজে নিরত কোন কলেজ কিংবা মাদ্রাসায় (কলিকাতা মাদ্রাসা বা সংস্কৃত কলেজ) প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করিতে আগ্রহী বলিয়া মনে হইবে, ততদিন পর্যন্ত’ তাহা বিলুপ্ত করিবার কোন ইচ্ছা সরকারের নাই।
ব্রিটিশ সরকারের এই নীতির পিছনে অনেক কারণ একসঙ্গে কাজ করিয়া থাকিবে। পয়লা কারণ দেশীয় উচ্চশ্রেণীর সদস্যরা চাহিতছিলেন তাঁহাদের ছেলেমেয়েরা ইংরেজি শিখিয়া সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়। সংস্কৃত আর আরবি-ফারসিতে কাজ হইতেছে না। দোসরা কারণ কোম্পানির চাহিদা। তাহারা চাহিতেছিলেন কম খরচে দেশীয় কর্মচারী। মেকলের ‘মিনিট’ বেন্টিঙ্কের সিদ্ধান্তে রূপ লইলে ভারতে প্রথম ব্রিটিশ শিক্ষানীতি রচিত হয় এবং ইংরেজি ভাষা ভারতের সরকারি (অফিসিয়াল) ভাষার মর্যাদা লাভ করে।
১৮৩৫ সালের সিদ্ধান্ত অনুসারে শিক্ষাখাতে সরকারের বরাদ্দকৃত পুরা তহবিলটা বাঁটিয়া দেওয়া হইবে ক্সযে সকল প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা বা কলেজ) আরবি, ফারসি ও সংস্কৃত পড়াইতেছেন আর যে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান ইংরেজি সাহিত্য ও এয়ুরোপীয় বিজ্ঞান শিখাইতেছেন-এই দুই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে।
ব্রিটিশ সরকার আশা করিয়াছিলেন, ইহার ফলে দুইটি ফল ফলিবে। ইংরেজি শিক্ষিত নতুন যে শ্রেণীর আবির্ভাব হইবে, তাঁহারা নিজগুণে গায়ে-গতরে, দেখিতে দেশীয় হইলেও মনেপ্রাণে, রুচি, আদর্শ, ও ভাবসাবে ব্রিটিশ শাসনানের অনুরাগী হইবেন। তদুপরি তাঁহারা হইবেন ব্রিটিশ শাসকশ্রেণী ও কোটি কোটি দেশীয় জনসাধারণের মধ্যকার দোভাষীস্বরূপ সেতুবন্ধ।
মেকলে প্রস্তাবিত ও বেন্টিঙ্ক কর্তৃক অনুমোদিত নীতির আরেকটি যুক্তিসঙ্গত ভবিষ্যদ্বাণী ছিল শিক্ষার গলিয়া গলিয়া নীচের তলায় নামা। মানে পর্যায়ে পর্যায়ে শিক্ষা সমাজের অধস্তন শ্রেণীর ঘরে ঘরে একদিন পৌঁছিবে।
মেকলের নীতির পেছনে বাংলাদেশের (ভারতেরও) একটা পরাক্রমশালী শ্রেণীর সমর্থন ছিল। আগেই দেখিয়াছি ইহারা ছিলেন সরকারি চাকরির উমেদার। পাশাপাশি খ্রিস্টান পাদরি বা ধর্মপ্রচারক গোষ্ঠীও নতুন শিক্ষানীতির সক্রিয়, উচ্চকণ্ঠ সমর্থনে আগাইয়া আসিয়াছিলেন। সরকারে কর্মরত ও সরকার বহির্ভূত উভয় জাতের ‘স্বাধীনতাপ্রিয় ব্যক্তিরাও’ ছিলেন কোম্পানি সরকার প্রবর্তিত নতুন ভাষা আর শিক্ষানীতির উৎসাহী অনুসারী। বলা বাহুল্য নয়, ১৮৩৩ সালের সনদ আইনেই প্রথম এই বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয় যে, এখন হইতে দেশীয় জনসাধারণ যোগ্যতা অনুসারে প্রশাসনে যোগ দিবার উপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবেন।
মেকলের সহিত বিচারে যাহারা হারিয়া গেলেন, তাহারা এই নীতির ফলাফল সম্বন্ধে সন্দিহান হইয়া তাঁহার কমিটি হইতে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করিয়াছিলেন। বলাবাহুল্য ইংরেজিনবিশ ভদ্রলোক শ্রেণীর অনেকেই দেশীয় ভাষা, সাহিত্য ও বিজ্ঞান সাধনার নানাক্ষেত্রে সিদ্ধিলাভ করিয়াছিলেন। তাঁহাদের অনেকেই জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ব্রতী বা অবতীর্ণ হইলেন। সবই স্বীকার করি।
অতঃপর দেশ স্বাধীন হইবার পথ ধরিল। ইংরেজিনবিশ শ্রেণীগুলি দাবি করিয়াছিলেন তাহাদের শেখা ইংরেজি ছাড়া দেশ স্বাধীন হইত না। ঘটনা আসলে কি তাহাই? এদেশের ইংরেজিতে অশিক্ষিত কৃষক শ্রেণী আর শোষণপীড়িত শ্রমিক শ্রেণী যতদিন পথে না নামিল ততদিন কিন্তু ভদ্রলোক শ্রেণী ব্রিটিশ রাজের টিকিটিও ছুটিতে পারে নাই।
পিছন ফিরিয়া দেখি, ব্রিটিশ শিক্ষানীতির ফলে দেশের জনসাধারণের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার মোটেও হয় নাই, শিক্ষা গলিয়া গলিয়া নীচে নামে নাই, গণ আন্দোলন আর বিশ্বব্যাপী গণজাগরণ ও অভ্যুত্থানের চাপে ব্রিটিশ রাজ পাততাড়ি গুটাইয়াছিল; কিন্তু যে সকল স্থানীয় বা দেশীয় শাসকশ্রেণীর হাতে তাঁহারা রাজক্ষমতা হস্তান্তর করিয়াছিলেন, তাঁহারাও নিরক্ষরতার হাত হইতে কোন দেশকে মুক্ত করিতে পারেন নাই।
এই শাসকশ্রেণীর পূর্বপুরুষেরা কিভাবে নিজেদের সংকীর্ণ শ্রেণীস্বার্থ রক্ষা করবার তাগিদে দেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাবিস্তারের পথ ও পাথেয় দুইটাই রুদ্ধ করিয়াছিলেন, সেই গল্পটি আশাকরি আগামী সপ্তাহে লিখিতে পারিব।
২০ আগস্ট ২০২৬
সলিমুল্লাহ খান : অধ্যাপক, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
(লেখকের বানান ও ভাষারীতি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে)

