নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য শুভকামনা
Advertisement
মহিউদ্দিন আহমদ
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘রাষ্ট্রপতি’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। রাষ্ট্র মানে দেশ, পতি মানে প্রধান, নেতা বা কর্তা। অতএব, ‘রাষ্ট্রপতি’ মানে হলো রাষ্ট্রের প্রধান বা নেতা। এটি বাংলায় ব্যবহৃত হলেও মূল উৎস সংস্কৃত। পরে বাংলা পরিভাষায় এটি স্থায়ীভাবে ঢুকে গেছে।
বাংলাদেশের সংবিধান ও সরকারি নথিতে শুরুতে রাষ্ট্রপ্রধানকে ‘প্রেসিডেন্ট’ বলা হতো। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানে রাষ্ট্রপ্রধানের পদবি ছিল ‘প্রেসিডেন্ট’। স্বাধীনতার পর সব জায়গায় বাংলার চল শুরু হয়ে যায়। ‘প্রেসিডেন্ট’-এর বাংলা কী হবে, এ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি ছিল। কোনো কোনো পত্রিকায় লেখা হতো ‘রাষ্ট্রপ্রধান’, আবার কেউ কেউ লিখতেন ‘রাষ্ট্রপতি’। ভারতে রাষ্ট্রপ্রধানের পদবি হচ্ছে ‘রাষ্ট্রপতি’। ১৯৭২ সালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরপরই সরকার একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে ঘোষণা দেয় যে, ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দের পরিবর্তে বাংলায় ‘রাষ্ট্রপতি’ ব্যবহার করা হবে। এটি মূলত ভাষাগত ও সাংবিধানিক সামঞ্জস্যের জন্য করা হয়েছিল, যাতে দেশের সর্বোচ্চ পদ বাংলায় পরিচিত হয় এবং জনগণের কাছে সহজবোধ্য হয়। সেই থেকে বাংলাদেশের সরকারি নথি, সংবিধান, আদালতের রায়, সংসদীয় কার্যক্রম-সব জায়গায় ‘রাষ্ট্রপতি’ শব্দটিই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
‘পতি’ শব্দটি দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময় ‘স্বামী’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। সেই কারণে অনেকেই মনে করেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ শব্দটি পুরুষতান্ত্রিক। রাষ্ট্রের আবার পতি থাকে নাকি? কিন্তু রাষ্ট্রীয় পরিভাষায় ‘পতি’ মানে হলো প্রধান, যা লিঙ্গনিরপেক্ষ।
বাংলাদেশ একটি সংসদীয় গণতন্ত্র, যেখানে নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত। তবে রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা মূলত প্রতীকী হলেও তিনি রাষ্ট্রের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রতীক।
প্রশ্ন হলো-বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত? রাষ্ট্রপতি যদি রাজনৈতিক দলগুলোর ঊর্ধ্বে থেকে নৈতিক নেতৃত্ব দেন, তবে তিনি জাতির জন্য সত্যিকার অর্থে আশার প্রতীক হয়ে উঠবেন।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অতীতে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়েছে। কখনো তিনি ছিলেন কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী, আবার কখনো কেবল প্রতীকী রাষ্ট্রপ্রধান। মূলত রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন ও সাংবিধানিক সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও অবস্থান বদলেছে।
শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তবে পাকিস্তানে বন্দি থাকায় তার স্থলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি হন ‘আলংকারিক’ প্রধান, আর প্রধানমন্ত্রী হন নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা চালু হয়। শেখ মুজিবুর রহমান আবারও রাষ্ট্রপতি হয়ে পূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
এক সামরিক অভ্যুত্থানে মুজিব সরকারের পতন হলে রাষ্ট্রপতির পদ সামরিক শাসকদের হাতে চলে যায়। খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হলেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল সেনা কর্মকর্তাদের হাতে। জিয়াউর রহমান (১৯৭৭-১৯৮১) রাষ্ট্রপতি হয়ে সামরিক শাসনকে সাংবিধানিক রূপ দেন। তিনি রাষ্ট্রপতির পদকে শক্তিশালী করে পূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (১৯৮৩-১৯৯০) রাষ্ট্রপতি হয়ে সামরিক শাসন চালান। তাদের আমলে রাষ্ট্রপতি ছিলেন দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা আবারও প্রতীকী ও আলংকারিক হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদই নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
বাংলাদেশে অনেক রাষ্ট্রপতিই আলংকারিক প্রধান হওয়া সত্ত্বেও পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করতে পারেননি। বছর দেড়েক দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তৃতীয় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ পদত্যাগে বাধ্য হন। তার জায়গা নেন শেখ মুজিবুর রহমান। তখন থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়, যেটি বহাল ছিল ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর আগ পর্যন্ত।
এটা আশা করা হয় যে, রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে রাষ্ট্রপতি হবেন দলনিরপেক্ষ। কিন্তু সেটি হয়ে ওঠে না। এদেশে অনেকেই তাদের চিন্তায় ও কাজে দল, সরকার আর রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য রাখতে চান না। এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০০২ সালে।
বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রথম মহাসচিব। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি তার সমাধিতে যাননি। বিএনপি নেতারা এটিকে দলীয় প্রতিষ্ঠাতার প্রতি অসম্মান হিসাবে দেখেন। বিএনপির সংসদীয় দলের সদস্যরা তার পদত্যাগ দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, তিনি দলীয় ঐতিহ্য ও প্রটোকল মানেননি।
বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির পদে থেকে তিনি নিরপেক্ষ থাকতে বাধ্য, তাই ‘দলীয় কর্মসূচি’তে অংশ নিতে পারেন না। তিনি দাবি করেন, এতে জিয়াউর রহমান বা বিএনপির প্রতি তার শ্রদ্ধা কমে যায়নি। বিএনপি এ যুক্তি মেনে নেয়নি। তার অভিশংসন দাবি করেন কেউ কেউ। তিনি আর ঝুঁকি নেননি। ওই বছর ২১ জুন তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার পদত্যাগকে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দেয়। এ ঘটনা দেখায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত প্রতীকী হলেও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলীয় চাপের বাইরে নয়।
এ ঘটনা থেকে এটা বোঝা যায়, রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, যখন তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের লোক হন এবং দলীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির পদ ও দলীয় রাজনীতির সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
প্রতি বছর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি একটি ভাষণ দেন। এটি একটি রীতি। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ আসলে রাষ্ট্রপতি নিজে লেখেন না। এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনায় এ ভাষণের খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ভাষণে সরকারের নীতি, কর্মসূচি, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রপতি সেই ভাষণ সংসদে পাঠ করেন। তিনি সাধারণত খসড়ায় পরিবর্তন আনেন না, তবে চাইলে কিছু সংশোধনী বা সংযোজন করতে পারেন। ভাষণটি মূলত সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার প্রতিফলন, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত মতামতের নয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির ভাষণ আসলে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, আর রাষ্ট্রপতি সেটি সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ভাষণ দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, যখন বিএনপি সরকারে ছিল। সেই ভাষণে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা খসড়ার বাইরে গিয়ে নিজের কিছু বক্তব্য যুক্ত করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করা, যা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রস্তুত করা খসড়ায় ছিল না। সেই বক্তব্যে তিনি জিয়াউর রহমানের অবদানকে স্মরণ করেন এবং তাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসাবে উল্লেখ করেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি; কারণ তাদের মতে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সরকারের নীতি প্রতিফলিত করার জায়গা, ব্যক্তিগত মতামতের নয়। বিএনপি নেতারা এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন, কারণ এতে তাদের প্রতিষ্ঠাতার অবদান স্বীকৃতি পেয়েছিল। এ ঘটনাটি দেখায় যে, রাষ্ট্রপতির পদ কখনো কখনো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে নিজস্ব অবস্থান প্রকাশের চেষ্টা করেছে।
আবদুর রহমান বিশ্বাসের এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এটি প্রমাণ করে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সবসময় কেবল সরকারের বক্তব্য নয়, বরং রাষ্ট্রপ্রধান চাইলে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও সেখানে যুক্ত করতে পারেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংসদে একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান নেতা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০০৩ সালে তার সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বোচ্চ নেতা’ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। তিনি বলেন, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেখ মুজিবুর রহমান-তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছে। এর অর্থ হলো, ক্ষমতাসীন দল চাইলে তার প্রতিপক্ষ দলের নেতাদের ভূমিকা ও অবদান স্বীকার করতে পারে। এতে কুণ্ঠিত হওয়ার কিছু নেই। তবে আমাদের সংসদীয় সংস্কৃতিতে এ ধরনের উদারতা বিরল।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে দলীয় প্রভাবের বাইরে থাকার কথা; কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি অনেক সময় জটিল হয়ে ওঠে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান এবং তাকে নিরপেক্ষ থাকতে হয়। তিনি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন, যদিও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হন। রাষ্ট্রপতির শপথে বলা আছে, তিনি সংবিধান রক্ষা করবেন এবং সবার প্রতি ন্যায়পরায়ণ থাকবেন।
বাস্তবতা হলো ভিন্ন। যেহেতু রাষ্ট্রপতি সাধারণত কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী, তাই তার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় থাকে। অনেক সময় দলীয় চাপ বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাকে প্রভাবিত করে। তবে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হওয়ার পর তার দায়িত্ব হলো দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হওয়া। এটি অনেক সময় হয়ে ওঠে না। অনেক রাষ্ট্রপতিকে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের ‘বশংবদ’ বা ‘মোসাহেব’-এর মতো আচরণ করতে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী না হলে রাষ্ট্রপতির পক্ষে দলনিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া সম্ভব নয়।
গত শুক্রবার আমরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে দেখেছি। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী একজন অভিজ্ঞ নেতা, যিনি ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে শিক্ষকতা, স্থানীয় সরকার, সংসদ-সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব হয়ে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। তাকে সাধারণত শান্ত, ধৈর্যশীল, সংগঠক হিসাবে দেখা হয়, যিনি নিজ দলকে সংকটকালে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি দলে তার কাউন্টারপার্টকে দেখা গেছে ‘ক্লাউন’ ও ‘বাচাল’-এর মতো আচরণ করতে। এর বিপরীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেখা গেছে একজন পরিশ্রমী, সাহসী, মিতবাক ও বিনয়ী নেতা হিসাবে। মানুষ তো তুলনা করবেই।
রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের অভিভাবক। তার কাছে দল নয়, তিনি সব নাগরিকের ভরসার জায়গা। এ পদের মর্যাদা রাখার দায় ও দায়িত্ব তার ওপর বর্তেছে। অতীতে এর অনেক ব্যত্যয় দেখেছি। আশা করি, তিনি আমাদের হতাশ করবেন না। আমি রাষ্ট্রপতি হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি শুভকামনা জানাই।
মহিউদ্দিন আহমদ : লেখক ও গবেষক
