Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

কে শত্রু কে মিত্র এটি এখন বড় প্রশ্ন

Advertisement

Icon

মেজর (অব.) মনজুর কাদের

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কে শত্রু কে মিত্র এটি এখন বড় প্রশ্ন

Advertisement

এক বছর আগে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাড়ে ১৫ বছর একনাগাড়ে ক্ষমতায় থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে রূপান্তর ঘটে চলেছে। ১৯৭২-৭৫-এর আওয়ামী-বাকশালী ফ্যাসিবাদী শাসন ছিল ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু তখন সদ্যস্বাধীন দেশে তার প্রভাব পড়েছিল ব্যাপকভাবে।

আধিপত্যবাদী শক্তির মদদপুষ্টদের পালটা কার্যক্রম

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানে পরিবারসহ শেখ মুজিবুর রহমানের পতনের দুমাস পর (৩ নভেম্বর) ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির মদদপুষ্টরা যখন পালটা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায় তৎক্ষণাৎ অজনপ্রিয় আওয়ামী-বাকশালীদের জনসম্মুখে আনতে পারেনি এই শক্তি।

অভ্যুত্থানকারী নেতা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ জেলখানায় নিহত চার নেতাকে ঢাকায় তিন নেতার মাজারের কাছে কবর দেওয়ার অনুমতি দেননি। উপরন্তু তিনি বাকশালী পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এগুলো করেও খালেদ মোশাররফ তার গা থেকে ভারতের দুর্গন্ধ দূর করতে পারেননি।

সৈনিক এবং জনগণ জিয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়

জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে রাখায় জনগণ খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে। ঠিক তখনই ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির মদদপুষ্ট আরেক বিকল্প শক্তি, জাসদ এবং এর সহযোগী সশস্ত্র সংগঠন গণবাহিনীর মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসে আরেকটি পালটা অভ্যুত্থান করার চেষ্টা করে। কিন্তু ইতোমধ্যেই জিয়াউর রহমানকে তার পক্ষের সৈনিকরা মুক্ত করে ফেলে। জিয়া তৎক্ষণাৎ সাহসিকতার সঙ্গে ঢাকা সেনানিবাসের সিপাহিদের বিপ্লবের কমান্ড নিজের হাতে তুলে নিয়ে ভোর ৫টায় জাতির উদ্দেশে বেতার ভাষণ দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে অনুরোধ করেন।

জাতির ক্রান্তিকালে জিয়া দুইবার বেতার ভাষণ দিয়েছিলেন। একটি হলো ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের ডাক, আরেকটি হলো ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতির ডাক।

আধিপত্যবাদী শক্তির বিভিন্ন স্তরের পরিকল্পনা

ওপরের ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশকে করায়ত্তে রাখার জন্য আধিপত্যবাদী ভারত কত লেয়ারে (স্তরে) পরিকল্পনা করে রাখে। আওয়ামী লীগকে সরিয়ে রেখে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জাসদ) দৃশ্যপটে এনে জিয়াউর রহমানের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় ভারত। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। জিয়াউর রহমানের ১ নম্বর শত্রু হয়ে যায় জাসদ আর ২ নম্বর শত্রু হিসাবে থাকে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন

প্রেসিডেন্ট জিয়া যদি ১৯৭৭ সালে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত না করার আদেশ দিতেন কারও কিছু বলার ছিল না। তবুও কেন আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। জাসদকে রাজনৈতিক মাঠে মোকাবিলা করার জন্য আওয়ামী লীগের উত্থান ঘটানো হয়। সেসময় জেনারেল জিয়াউর রহমান এত জনপ্রিয় ছিলেন যে, আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ভবিষ্যতে হতে পারে-এ নিয়ে কেউ তখন তেমন মাথা ঘামায়নি। তবে সিদ্ধান্তটি জাতির জন্য ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায় এবং বুমেরাং হয়ে পরে জাতির দিকে ফিরে আসে। জিয়াউর রহমানের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ যে ধীরে ধীরে সরীসৃপের মতো সামনে এগিয়ে যাবে, তা ভাবা উচিত ছিল তখনকার রাজনীতিকদের। জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল যে, তার সামনে গিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করতে হয়তো সাহস করেননি কেউ।

ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি

এদিকে আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। এর মাত্র ১৩ দিন পর ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির মদদপুষ্টরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে।

জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের ডাইরেক্ট অ্যাকশন

জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই যশোর সেনানিবাসের সিনেমা হলে সব অফিসারের উপস্থিতিতে জরুরি সভার আয়োজন করে ঘোষণা দেন যে, প্রয়োজনে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। ৫ দিনের মতো কনভেনশনাল যুদ্ধ এবং এরপর গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। ভারত সীমান্তে গোলযোগ থামিয়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে জিয়ার ব্যাপক প্রভাব

জিয়াউর রহমান পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মুসলিমবিশ্বের অবিসংবাদিত নেতায় রূপান্তরিত হন তিনি। ভারত এগুলো সহ্য করতে পারছিল না। ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তি মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী এবং পাকিস্তান সমর্থনকারী ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। জয়পুরহাটের আব্দুল আলীম, রংপুরের মঈদুল ইসলাম মুকুলসহ অনেক পাকিস্তানপন্থিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। আইয়ুব খান সৃষ্ট এনএসএফ-এর নেতা ব্যারিস্টার আবুল হাসানাতকে ঢাকার মেয়র পদে নিযুক্ত করেন।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামি মূল্যবোধের অপূর্ব মিশ্রণ

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামি মূল্যবোধের সমন্বয়সাধন করে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় ওঠেন। বাংলাদেশের মানুষ ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নোয়াবার নয়। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে ভারত প্ররোচিত ২১টি সামরিক বিদ্রোহ নস্যাৎ হয়ে গেছে। ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামি শক্তির ঐক্যের কারণেই বিএনপি সরকার গঠন করতে পেরেছিল। ইসলামি শক্তির সমর্থন প্রত্যাহার হলে বিএনপির ফলাফল কী হতে পারে, তা ১৯৯৬-এর জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব

জিয়াউর রহমানের একক নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তি এবং এর তল্পিবাহক আওয়ামী লীগ। পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের শূন্যস্থানে যারা এখন জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধের নেতা হিসাবে বসাতে চাইছেন, তারা প্রকারান্তরে ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির ওপর নির্ভরশীল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা করে বেড়াচ্ছেন। অথচ জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসাবে আবির্ভূত হলেন, সে বিষয়ে কেউ তেমন কিছু বলছেন না।

ভারতের মূল মিত্র আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার চেষ্টা

বর্তমান সরকার যাতে আওয়ামী ফ্যাসিস্টচক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিতে পারে, তার জন্য ভারত আওয়ামী লীগ এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যখানে প্রতিবন্ধক হিসাবে বসিয়ে দিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে, যেমনটি ভারত ১৯৭৫ সালের পরে জাসদকে ব্যবহার করেছিল জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে।

এই দলগুলোকে দিয়ে বর্তমান সরকারকে ব্যস্ত রেখে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে মাঠে নামবে এবং ভবিষ্যতে প্রতিশোধের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করবে। আজ যারা সুকৌশলে বিভিন্ন শব্দ প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রকারন্তরে সাফাই গাইছেন, তারাও তাদের হাতে অতীতে যেমন নিরাপদ ছিলেন না, ভবিষ্যতেও থাকবেন না।

সংস্কারের বিরোধিতা

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অনেক সমীকরণ বদলে যাবে। সংসদ নির্বাচনে মার্কার পেছনের ব্যক্তির সততা, সক্ষমতা ও মানবতার বিষয়টি এবার আগে দেখবে ভোটাররা। এখন মিথ্যা আশ্বাস এবং দেশবিরোধী রাজনীতিতে বিশ্বাস করছে না কেউ।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পরাশক্তিগুলোর কোনো চাপ নেই

অন্তবর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তথা ডেমোক্রেটিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে অনেকেই মনে করেছিলেন ড. ইউনূস হয়তো বিপদে পড়বেন। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে উল্টো।

বাইডেন প্রশাসনের একটি মূল্যবোধভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি ছিল। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ওপর জোর ছিল। তবে সেখানে বেশির ভাগ সরকার স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নীতি খুব জোরালোভাবে গ্রহণ করেছেন। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, যেমন: অধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে তার আগ্রহ কম। তাই ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগের কথা শোনা যাচ্ছে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কিছুদিন আগে এ কথাটি স্পষ্ট করে বলেছেন। বাইডেন প্রশাসনের সময় যে ধরনের চাপ দেখা গিয়েছিল, তা এখন আর ঘটবে না। এটি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য বরং সহায়ক হবে। অতীতে ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু ট্রাম্প তা ভুলে গিয়ে এখন ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছেন ।

ভবিষ্যতের নির্বাচন

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি শক্তির রাজনৈতিক ফ্রন্ট বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি শক্তির সমন্বয়ে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ গঠন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

পরিস্থিতি রূপান্তরিত হচ্ছে

বিশ্বে যে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং এই যুদ্ধে মুসলিম দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করে চলেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) পর একক বিশ্বের নেতা হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ‘ওয়ার অন টেরর’ ঘোষণা করেছিল, বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের সময় তা উলটে গেছে। কমিউনিস্ট পার্টি-শাসিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং সাবেক সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেতাত্মা রাশিয়াকে মোকাবিলা করার জন্য বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মতো যুক্তরাষ্ট্র এখন মুসলিমদের কাছে টানছে।

বাংলাদেশের যেসব রাজনৈতিক দল জেনেশুনে বিষ পান করে ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে শত্রু-মিত্র নির্ধারণ করবে, তাদের অবস্থা ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের মতো হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতাচ্যুত করেই তারা বসে থাকতে চাইছে না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নেতারা এবং ইসলামি মূল্যবোধের শক্তিগুলো মিলে যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৎ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনি মহা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে, তাহলে তাকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা অন্য কোনো শক্তির নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভারতের সহায়তায় আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চক্র দৈত্যের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ভক্ষণ করে ফেলেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা সেই দৈত্যকে বোতলবন্দি করে ফেলেছে। দৈত্য বোতল থেকে বের হওয়ার জন্য বিভিন্নজনের হাতে-পায়ে ধরছে। স্বার্থ উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈত্য স্বরূপে আবির্ভূত হবে। এই দৈত্যের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ইসলামি শক্তিগুলো জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সঙ্গে ব্যাপকভিত্তিক ঐক্য ফ্রন্ট গঠন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিবেচ্য বিষয়

প্রশ্ন হলো, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ইসলামি মূল্যবোধের ওপর ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির যে চাপ ছিল, তা কি এখনো বহাল আছে? এই শক্তির প্রভাব আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়েছে। কারণ, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রশাসন ও রাজনীতি সরাসরিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং তাদের দালালদের সব জায়গায়ই বসিয়ে দিয়েছে।

তাই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রণীত ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতি এখনো বাংলাদেশকে ধারণ করতে হবে। এর অন্যথা হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল হবে ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের মতো। বিএনপি যদি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ধারণ করে চলতে না পারে, তাহলে এই রাজনীতি অন্য কোনো শক্তি ধারণ করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় চলে যাবে। সেক্ষেত্রে বিএনপিকে ভবিষ্যতে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।

সঠিকভাবে শত্রু-মিত্র বিভাজন করে ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করার জন্য যারা কাজ করবেন, তারাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেজর (অব.) মনজুর কাদের : সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ-সদস্য

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শহরমুখী জনস্রোত থামানোর নতুন রূপরেখা

শহরমুখী জনস্রোত থামানোর নতুন রূপরেখা

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেমন প্রতিরক্ষানীতি চাই

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেমন প্রতিরক্ষানীতি চাই

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম