Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

ফ্ল্যাশব্যাকে রাজনীতি

Advertisement

Icon

মেজর (অব.) মনজুর কাদের

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্ল্যাশব্যাকে রাজনীতি

Advertisement

জানুয়ারি ১১, ২০০৭ থেকে বাংলাদেশ সুষ্ঠু রাজনৈতিক গতিধারা বন্ধ হয়ে এক চরম অচলায়তনের সৃষ্টি হয়েছে। যারা ২০১০ সালের পর জন্মগ্রহণ করেছেন অর্থাৎ যাদের বয়স এখন ১৫ বছর, তাদের সামনে ছিল এক দানবসম ফ্যাসিস্ট, যার নাম শেখ হাসিনা। তারা শুনে শুনে বড় হয়েছেন, শেখ হাসিনার পতন কোনোদিন হবে না এবং আওয়ামী লীগ দলটি অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকবে। কারণ প্রতিবেশী ভারত শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে চোখ বন্ধ করে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ বয়সের ছেলেমেয়েরা তাদের স্কুলে আদুভাইদের দেখেছে, যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না, তেমনি দেখেছে রাজনৈতিক আদুভাইদের যারা কখনো আন্দোলন সংগ্রামের ফসল সাড়ে পনেরো বছর ঘরে তুলতে পারেননি, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেননি।

পরাশক্তির ছায়াতলে

ছোট দুর্বল দেশগুলো সবসময়ই পরাশক্তির ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে থাকে। ভারত অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে ১৯৪৭ সালে দুর্বল ছিল। তাই স্বাধীনতার পর সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে জোট বাঁধে। অপরদিকে পাকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে পুঁজিবাজারে নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে।

১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের মধ্য দিয়ে প্রথম স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন একক শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয় তখন সোভিয়েতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আধিপত্যবাদী ভারত মার্কিনিদের কোলে উঠে আঞ্চলিক শক্তি হওয়ার সুযোগ খোঁজে এবং স্নায়ুযুদ্ধে ক্লান্তশ্রান্ত মার্কিনিরা আত্মতুষ্টিতে নিমজ্জিত হয়ে ভারতের হাতে আঞ্চলিক রাজনীতি তুলে দিয়ে বিশ্রাম নিতে থাকে। এ সুযোগে কমিউনিস্ট পার্টি-শাসিত চীনের কঠোর পরিশ্রমী জনগোষ্ঠী দিনরাত পরিশ্রম করে রাজনৈতিক ডামাডোলে গা ভাসিয়ে না দিয়ে তাদের অর্থনীতির সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং বিশ্বে এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার পরিকল্পনা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশ ফেরে

হুঁশ ফেরে যুক্তরাষ্ট্রের। এবার থামাতে হবে কমিউনিস্ট চীনকে যেমনভাবে ১৯৪৬-এ সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নকে থামানোর জন্য বেঁধে যায় স্নায়ুযুদ্ধ। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ ঘোষণা করে তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় নতুন স্নায়ুযুদ্ধ। নাম পরিবর্তন করে যদিও বলা হয় চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কিন্তু বস্তুত এটি হলো দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ।

ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেস সভানেত্রী ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন স্নায়ুযুদ্ধের অভিজ্ঞতায় স্নাত। বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব স্নায়ুযুদ্ধের মর্মার্থ বুঝতে পারেনি। একারণে আধিপত্যবাদী ভারত দুনৌকায় (রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র) পা রেখে চলতে গিয়ে পড়ে যায় বিপদে। যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ হয়ে যায় ভারতের ওপর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরপরই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলে ফেলেন যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অন্য কারও চশমা দিয়ে দেখবে না।

হাসিনা বুঝতে সক্ষম হননি

পিটার হাসের এ কথার গুরুত্ব হাসিনা বুঝতে পারেননি। কারণ যারা তার প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তাদের বয়স তখন ছিল ৫০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১৯৯১ সালে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় ছিল তাদের বয়স ১৭ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। এ বয়সে তারা স্নায়ুযুদ্ধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তো প্রকাশ্যে বলেই ফেলেন, ‘ভারত আছে তো আমরা আছি’। এরকম চরম অরাজনৈতিক এবং প্রতিক্রিয়াশীল বক্তব্য এর আগে আর কোনো রাজনীতিবিদের কাছ থেকে শোনা যায়নি।

নির্বাচন

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা আর বর্তমান সরকারকে হিমালয় পর্বত হেঁটে ডিঙিয়ে চীনে যাওয়া একই কথা। বলা হচ্ছে, লাখ লাখ আনসার, পুলিশ, বিজেপি এবং সেনাবাহিনী এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলারক্ষা করার কাজে নিয়োজিত থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্বাচনের আগেই একটি দলের সঙ্গে আরেকটি দলের সংঘর্ষ বেঁধে যাচ্ছে, যা গণমাধ্যম প্রকাশিত হচ্ছে।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে : খালেদা জিয়া

বর্তমানের অচলাবস্থা এবং অচলায়তন দেখে ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্ষমতায় এবং বিরোধী শিবিরে থেকে অবলোকন করেছেন তিনি হলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া ১ জুলাই, ২০২৫-এ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে’। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, তা আমাদের দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪ : জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনাসভা ও শহীদ পরিবারের সম্মানে বিশেষ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে তিনি ‘জুলাই ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে। যে কোনো মূল্যে বীরের এ রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারা যেন বৃথা না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ঐক্য বজায় রাখতে হবে’।

তড়িঘড়ি নির্বাচন

জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের নভেম্বর ১, ২০২৫-এ এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘লন্ডন গিয়ে একটি দলের চাপে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা’। তড়িঘড়ি নির্বাচনের ইতিহাস আছে। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোলা ঘূর্ণিঝড় ছিল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় যা ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ-এর) দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে। এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি হলো সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় যা সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি। এ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। যার অধিকাংশই গাঙ্গেয় বদ্বীপের সমুদ্র সমতলের ভূমিতে জলোচ্ছ্বাসে ডুবে মারা যান।

রাজনৈতিক প্রভাব : ‘স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান জিন্দাবাদ’

ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মানুষগুলোর প্রতি পাকিস্তান সরকারের এমন নিষ্ঠুরতা দেখে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মওলানা ভাসানী ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর ২ নভেম্বর এক সভায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগ তোলেন এবং অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এরপর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার কথাও বলেছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এবং জনগণের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭০-এ পল্টন ময়দানে একটি বিশাল জনসভায় ‘স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এটি ছিল তার দ্বারা স্বাধীনতার কথা বলার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যদিও তিনি এর আগেও বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছিলেন।

১৯৭০-এর নির্বাচন পেছানোর দাবি

মওলানা ভাসানী নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য দাবি করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এত বড় ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চাপ দিতে থাকে। যা হোক, নির্বাচন কয়েক সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে যায়। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে আনার জন্য কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ না করে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে লিগ্যাল ফ্রেম ওয়ার্ক অর্ডারের (এলএফও) অধীনে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার অঙ্গীকারের মাধ্যমে তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ, আলোচনা ও সংলাপ এড়িয়ে গিয়ে এককভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চাপাচাপি করে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়।

এতদসত্ত্বেও আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সরকার গঠন করতে না পেরে, পাকিস্তানের জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে বাংলাদেশের মাটিতে মোকাবিলা করতে না পেরে, পালিয়ে গিয়ে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার গঠন করে। এসময় স্নায়ু যুদ্ধ ছিল তীব্র, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের পক্ষে অবস্থান নেয়, অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান নেয় পাকিস্তানের পক্ষে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অর্জন নিয়ে প্রশ্ন

রাজনৈতিক পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে আওয়ামী লীগ কি অর্জন করেছিল তানিয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিবর্তে ঘূর্ণিঝড়ের গতিতে আধিপত্যবাদী ভারতের প্রেসক্রিপশনে আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র হত্যা করে।

বাংলাদেশে নির্বাচন এবং সরকার গঠনের ওপর আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি কি তা নিয়ে ভাবার বিষয় আছে। বিশেষ করে বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের সময় অতীতের স্নায়ুযুদ্ধের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। ফ্ল্যাশব্যাকে দেখলে অন্যকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। যারা বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময় রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বিষয়টি তাদের কাছে নতুন নয়।

৯/১১ : ওয়ার অন টেরর

বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসলাম ধর্ম দিয়ে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন মোকাবিলা করেছে । ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বরের পর স্নায়ুযুদ্ধ বিহীন ৯/১১-এর সময় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ (ওয়ার অন টেরর) ঘোষণা করেছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে। তখন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো পড়েছিল চরম বিপদে।

২০১৭ সালে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হলে পুরোনো স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি শক্তিকে কাছে টেনে নিচ্ছ ধর্মবিরোধী কমিউনিস্ট পার্টি-শাসিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের বিরুদ্ধে। স্নায়ুযুদ্ধের অভিজ্ঞতা যাদের নেই তারা শেখ হাসিনার মতো ধরা খেয়ে যেতে পারেন যে কোনো মুহূর্তে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ, বারবার বলেছে, ‘যে কোনো নির্বাচন বা গণভোট হতে হবে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায্য।’ যদি বিরোধী দল অংশ না নেয় বা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে সেটি গণতান্ত্রিক নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে বিবেচিত হবে।

ঘোষিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে বা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে প্রফেসর ইউনূস পদত্যাগ করবেন নাকি নতুন মেরুকরণ করে তার সংস্কার কার্যক্রম এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হবেন তা সময় বলে দেবে। কারণ এখন বিশ্বে চলছে স্নায়ু যুদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত

এদিকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসাবে মনোনীত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৫-এ পররাষ্ট্রবিষয়ক সিনেট কমিটিতে শুনানিতে অংশ নেওয়ার পর বলেছেন, বাংলাদেশে আগামী বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের এ অভিযাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে অতীতে দায়িত্ব পালনে অভিজ্ঞ এ কূটনৈতিক বলেন, ‘বড় প্রতিবেশীদের ছায়ায় থাকে বলে বাংলাদেশ প্রায়ই যথেষ্ট মনোযোগ পায় না।’

কয়েক দফায় পদায়নসহ মার্কিন কূটনীতিক হিসাবে তার বাংলাদেশ বিষয়ে দুই দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের গুরুত্ব এবং দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ভালো বোঝেন তিনি। কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশকে একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার করে তুলেছে।

হাসিনার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার

রাশিয়ার বন্ধু ভারতের মদদপুষ্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। সব রাজনৈতিক দল যখন হাসিনাকে হঠাৎ ব্যর্থ হয়ে ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছিল তখন দেশলাইয়ের কাঠির মতো দপ করে জ্বলে ওঠে ছাত্ররা। ছাত্রদের নেতৃত্বে বিপ্লব সংগঠিত হয় এবং হাসিনা তার প্রিয় ঠিকানা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন।

বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনীতি পরাশক্তিগুলো বলয়ের মধ্যে ১৯৪৭ সাল থেকে আজ অবধি ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির এ মারপ্যাঁচ যারা বুঝবেন না, তারা কখনোই ক্ষমতায় আসতে পারবেন না; কোনোভাবে ফাঁকফোকর দিয়ে ক্ষমতায় এলেও টিকে থাকতে পারবেন না।

মেজর (অব.) মনজুর কাদের : সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ-সদস্য

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শহরমুখী জনস্রোত থামানোর নতুন রূপরেখা

শহরমুখী জনস্রোত থামানোর নতুন রূপরেখা

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেমন প্রতিরক্ষানীতি চাই

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেমন প্রতিরক্ষানীতি চাই

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম