কারা এই ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক
Advertisement
মোহাম্মদ হাসান শরীফ
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তারা ফিলিস্তিন ভূমিরই সন্তান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারাই ছিল ফিলিস্তিন নামের ভূখণ্ডের নাগরিক। নির্মম ভূরাজনীতির ছোবলে তারা নিজ জন্মভূমিতেই হয়ে পড়েছে সংখ্যালঘু। দশকের পর দশক ধরে বৈষম্য, প্রান্তিকীকরণ ও সহিংসতার শিকার হওয়ার পর তারা নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ইসরাইলি রাজনীতির বিশেষ এক সন্ধিক্ষণে। সদ্যসমাপ্ত ইসরাইলি পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে তাদের দুটি দল ১৯টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি, গাদি আইজেনকটের জোট ৪৮টি এবং আরব বা ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন জোট ও দল পেয়েছে ১৯টি আসন। ১২০ সদস্যবিশিষ্ট নেসেটে সরকার গঠন করতে দরকার ৬১টি আসন। নেতানিয়াহু বা আইজেনকটের কারও কাছেই তা নেই। আরবদের সমর্থন পেয়ে ওই দুই জোটের যে কেউ সহজেই সরকার গঠন করতে পারে। কিন্তু নেতানিয়াহু তো কোনোভাবেই আরবদের সমর্থন নেবেন না। কট্টর ইহুদিদের তোপের মুখে পড়ার শঙ্কায় আইজেনকটও অন্তত প্রকাশ্যে সমর্থন নেবে বলে মনে হচ্ছে না।
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ফিলিস্তিনিরা যখন সব জায়গায় কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন; গণহত্যা, অবরোধ, ক্ষুধা, চিকিৎসাহীন থাকা, নির্বাসন, নির্যাতন, বহিষ্কারের মুখে পড়ছেন, তখন আরব দলগুলোর এ সাফল্য নতুন সমীকরণ সামনে এনে দিয়েছে।
তারা মূলত সেইসব ফিলিস্তিনির বংশধর, যারা ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর ‘নাকবা’ (বিপর্যয়) থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এবং দেশটির কার্যত সীমানার ভেতরে থেকে গিয়েছিলেন। অথচ পুরো দেশটি ছিল তাদেরই। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ফিলিস্তিন ছিল উসমানিয়া সালতানাতের অংশবিশেষ। তখন ফিলিস্তিনি আরবদের সংখ্যা ছিল ১০ থেকে সাড়ে ১০ লাখ। জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। এদের মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি ছিলেন মুসলমান, প্রায় ১০ ভাগ ছিলেন খ্রিষ্টান। আর ইহুদিদের সংখ্যা ছিল প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ। মোট জনসংখ্যার হিসাবে ইহুদিরা ছিল ৩০ শতাংশের মতো। মনে রাখতে হবে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ফিলিস্তিনি আরবরা ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ, আর ইহুদিরা ছিল মাত্র ১১ শতাংশ। উসমানিয়ারা হেরে যাওয়ায় ফিলিস্তিন চলে যায় ব্রিটিশ ম্যান্ডেটে। তখন থেকেই ইহুদিদের আগমন বাড়তে থাকে।
আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময় থেকেই জার্মানিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপকভাবে ইহুদিদের ফিলিস্তিনে ঠেলে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারপরও বেশি বাড়েনি। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ যখন বিভাজন পরিকল্পনা করে, তখন ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে ভাগ করে ৫৬ ভাগ জমি ইহুদি রাষ্ট্রের জন্য এবং ৪৩ শতাংশ জমি আরব ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য বরাদ্দ করেছিল (জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তাবও ছিল)। অথচ তখন ইহুদিরা ছিল মোট জনসংখ্যার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ, তাদের মালিকানায় জমি ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধ ও নাকবার পর সাড়ে সাত থেকে আট লাখ ফিলিস্তিনিকে নির্মমভাবে উচ্ছেদ করা হয়। অল্প কিছুসংখ্যক আরব ওই পাশবিকতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছিলেন। তাদের কেউ কেউ বেঁচে গিয়েছিলেন কারণ ইসরাইলি বাহিনী তখনো তাদের এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি, আবার কেউ কেউ তাদের উচ্ছেদের চেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছিলেন। যারা থেকে গিয়েছিলেন, তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েন। তাদের নিজেদের ঘরে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে অনেক ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামে অবস্থিত ছিল।
থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজস্ব জন্মভূমিতেই রাতারাতি সংখ্যালঘু হয়ে পড়েন। বর্তমানে, তারা ইসরাইলের প্রায় ১ কোটি মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ (২০ লাখ)। তারা মূলত উত্তরের গালিলি, মধ্য ইসরাইলের ‘ট্রায়াঙ্গেল’ অঞ্চল এবং দক্ষিণের নাকাব (নেগেভ) মরুভূমিজুড়ে বিস্তৃত ফিলিস্তিনি-সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর ও নগরগুলোয় বসবাস করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলিম, ১০ শতাংশ খ্রিষ্টান এবং ১০ শতাংশ দ্রুজ সম্প্রদায়ের। ইসরাইল রাষ্ট্র এবং ইসরাইলি সমাজের একটি বড় অংশ সাধারণত তাদের ‘ইসরাইলি আরব’ বা ‘ইসরাইলের আরব নাগরিক’ বলে থাকে। তবে অনেকেই নিজেদের ‘ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক’, ‘১৯৪৮-এর ফিলিস্তিনি’ বা ‘ইসরাইলের ভেতরের ফিলিস্তিনি’ হিসাবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। এ শব্দগুলো ইসরাইলি নাগরিক হিসাবে তাদের মর্যাদার পাশাপাশি তাদের ফিলিস্তিনি পরিচয়কেও নিশ্চিত করে।
১৯৪৮ সালের পর ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও প্রাথমিক ইসরাইলি সরকারগুলো তাদের সন্দেহের চোখে দেখত এবং তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালাত। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তারা শুধু তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি সামরিক শাসনের অধীনে বাস করতেন, অথচ ইহুদি নাগরিকরা বেসামরিক আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হতেন। এ সময়কালে তারা চলাচলের বিধিনিষেধ, সান্ধ্য আইন (কারফিউ), রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নানা বাধার মুখে পড়েন।
সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি ছিল ‘কাফর কাসিম গণহত্যা’। ১৯৫৬ সালের ২৯ অক্টোবর, ইসরাইলি বাহিনী হঠাৎ করেই ফিলিস্তিনি গ্রাম ‘কাফর কাসিমে’ সান্ধ্য আইনের সময় এগিয়ে আনে। গ্রামের বাইরে কাজ করা শত শত বাসিন্দা এ পরিবর্তনের কথা জানতেন না। সেনাদের আদেশ দেওয়া হয়েছিল যেন সান্ধ্য আইন অমান্যকারীদের গুলি করে হত্যা করা হয়। শ্রমিকরা ঘরে ফেরার সময় গ্রামের প্রবেশমুখে সেনারা তাদের থামায় এবং কাছ থেকে গুলি চালায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নারী ও শিশুসহ ৪৯ ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যা করা হয়। অবশেষে ১৯৬৬ সালে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তী বছরগুলোতে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ক্রমান্বয়ে বৃহত্তর ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার সঙ্গে আবার সংযুক্ত হতে শুরু করেন, বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা দখল করার পর।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদগুলোর একটি ছিল ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ, গালিলিতে ফিলিস্তিনি জমি বাজেয়াপ্ত করার ইসরাইলি পরিকল্পনার জবাবে। ইসরাইলি পুলিশ হিংসাত্মকভাবে এ বিক্ষোভ দমন করে, এতে ছয় ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত এবং শত শত আহত হন। এ ঘটনাগুলো ‘ভূমি দিবস’ নামে পরিচিতি পায়, যা ফিলিস্তিনিদের জমি ও অধিকারের সংগ্রামের প্রতীক হিসাবে প্রতিবছর ৩০ মার্চ পালন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বাইরেও ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ধারাবাহিক ইসরাইলি সরকারের অধীনে কয়েক দশক ধরে বৈষম্যমূলক আইন ও নীতির মুখোমুখি হয়েছেন। ফিলিস্তিনি অধিকার রক্ষায় কাজ করা হাইফাভিত্তিক আইনি সংস্থা ‘আদালাহ’র মতে, ১৯৪৮ সাল থেকে প্রণীত ৬৫টিরও বেশি ইসরাইলি আইন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসরাইল এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বৈষম্য করে। এ আইনগুলোর মধ্যে জমির মালিকানা, আবাসন, সরকারি অর্থায়ন এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সবচেয়ে শুরুর দিকের একটি উদাহরণ ছিল ১৯৫০ সালে পাশ হওয়া ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’। এ আইনে ১৯৪৮ সালের নাকবার সময় নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া, পালিয়ে যাওয়া বা উচ্ছেদ হওয়া ফিলিস্তিনিদের ‘অনুপস্থিত’ হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। তাদের জমি, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়া হয়। এসবের মধ্যে কিছু ফিলিস্তিনির সম্পদও ছিল, যারা পরে ইসরাইলি নাগরিক হয়েছিলেন। ২০০৩ সালে ইসরাইল একটি আইন পাশ করে, যা ইসরাইলি নাগরিক এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার স্বামীদের/স্ত্রীদের মধ্যে পারিবারিক পুনর্মিলন সীমিত করে। ২০১১ সালের একটি আইন কিছু নির্দিষ্ট কৃষি ও সামাজিক শহরের ভর্তি কমিটিকে সেখানে বসবাস করতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের মূল্যায়ন করার ক্ষমতা দেয়। সমালোচকরা বলছেন, এ আইনটি কোনো সম্প্রদায়ের ‘জায়নবাদী-ইহুদি বৈশিষ্ট্যের’ সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, এমন প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দিয়ে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের পথ তৈরি করেছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপগুলোর একটি ঘটে ২০১৮ সালে, যখন নেসেট (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) ‘বেসিক ল : ইহুদি জনগণের জাতীয় রাষ্ট্র হিসাবে ইসরাইল’ পাশ করে।
আইনটি ইসরাইলে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার শুধু ইহুদি জনগণের জন্য সংরক্ষিত করে। এটি আরবি ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা থেকে নামিয়ে একটি ‘বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন’ ভাষায় পরিণত করে এবং ইহুদি বসতি স্থাপনকে একটি জাতীয় মূল্যবোধ হিসাবে ঘোষণা করে, যা রাষ্ট্রের প্রচার করা উচিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা তীব্রভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে মোট ১১৬ জন নিহত হন, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ২৪৪ জনে দাঁড়ায়। ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগই কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ২০২৫ সালে নিহতের সংখ্যা ২৫২-এ পৌঁছে, যা এটিকে রেকর্ডের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরে পরিণত করে।
‘আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভস’-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ড তদন্তের ক্ষেত্রে এক বিশাল পার্থক্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোতে ঘটা হত্যাকাণ্ডের ১৫ শতাংশেরও কম সমাধান করেছে ইসরাইলি পুলিশ, যেখানে ভুক্তভোগী ইহুদি হলে মামলা নিষ্পত্তির হার ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ।
বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংগঠনকে ব্যবহার করে আসছেন। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল, কিন্তু সামরিক শাসন এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন তাদের সংগঠিত হওয়ার এবং জনজীবনে অংশগ্রহণের ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করেছিল। ১৯৭০-এর দশকে, ফিলিস্তিনি নাগরিকরা শক্তিশালী পার্লামেন্টারি এবং তৃণমূল আন্দোলন গড়ে তুলতে শুরু করেন। ১৯৭৭ সালে ‘হাদাশ’ (শান্তি ও সমতার জন্য গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে এখনো অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে রয়ে গেছে। পরবর্তী দশকগুলোতে অন্যান্য প্রভাবশালী দলের আবির্ভাব ঘটে, যার মধ্যে রয়েছে বালাদ (জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাবেশ); তাআল (পুনর্গঠনের জন্য আরব আন্দোলন); এবং রাম (সংযুক্ত আরব তালিকা)।
ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন দলগুলো আবির্ভাবের পর থেকেই নেসেট (পার্লামেন্ট) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে, কিন্তু তারা মূলত শাসক জোটের বাইরেই অবস্থান করেছে। ২০১৫ সালে, হাদাশ, বালাদ, তাআল এবং রাম একত্রিত হয়ে ‘জয়েন্ট লিস্ট’ (যৌথ তালিকা) গঠন করে। ২০১৪ সালে নির্বাচনি থ্রেশহোল্ড (পার্লামেন্টে যাওয়ার ন্যূনতম ভোট) ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩.২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্তের পর এই জোটটি গঠিত হয়, যা ছোট দলগুলো স্বাধীনভাবে পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে পারবে না বলে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। যৌথ তালিকাটি ২০২০ সালের মার্চের নির্বাচনে ১৫টি আসন জিতে নেসেটের তৃতীয় বৃহত্তম সংসদীয় ব্লকে পরিণত হয়। পরে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য জোটটিকে ভেঙে দেয় এবং তাদের সম্মিলিত প্রভাবকে দুর্বল করে দেয়।
কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করাকে মূলত একটি রাজনৈতিক বাধা বা ‘ট্যাবু’ হিসাবে বিবেচনা করা হতো। অনেক ইহুদি ইসরাইলি ভোটার এ ধরনের অংশীদারত্বের বিরোধিতা করেছিলেন, আবার ফিলিস্তিনি নাগরিকরা নিজেরাও সরকারে যোগ দিয়ে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনা সম্ভব কিনা তা নিয়ে বিভক্ত ছিলেন।
তবে সেই বাধা ভেঙে যায় ২০২১ সালে, যখন ‘রাম’ নাফতালি বেনেত এবং ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন শাসক জোটে যোগ দেয়। তাদের চারটি আসন সেই খুব সামান্য পার্লামেন্টারি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছিল, যা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে, হাদাশ, বালাদ এবং তাআল ‘জয়েন্ট লিস্টে’র অধীনে আবার একত্রিত হয়, অন্যদিকে ‘রাম’ একটি পৃথক দল হিসাবে রয়ে যায়।
এই রাজনৈতিক দলগুলোই এবার নির্বাচনে ফিলিস্তিন প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যের হয়তো কোনো পরিবর্তন এ মুহূর্তে হবে না, কিন্তু আলোচনায় আসাটাও কম নয়।
মোহাম্মদ হাসান শরীফ : সাংবাদিক
