কানাডার কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে পাহাড়ে শুরু নতুন জীবন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কানাডার টরন্টোতে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ রুপি আয় করতেন ভারতীয় দম্পতি দীপ্তি নায়ার ও ধনঞ্জয় মোরে। ভালো বেতন, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন ও প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার—সবই ছিল তাদের। তবু একসময় তাদের মনে হয়, জীবনের সাফল্য কেবল চাকরি আর অর্থ উপার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই চাকরি ছেড়ে ভারতের হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে জীবন শুরু করেন তারা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই দম্পতির ব্যতিক্রমী জীবনযাত্রার গল্প।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে নিজেদের নতুন জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন দীপ্তি। এক ভিডিওতে চাকরি ছাড়ার আগে করা আর্থিক হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, বাইরে থেকে তাদের জীবন বেশ আদর্শ মনে হলেও নিজের স্বপ্ন ও জীবনের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিলেন তারা।
দীপ্তি জানান, তিনি চাকরি নিয়ে অসুখী ছিলেন না। তবে যে পেশাকে একসময় স্বপ্নের মতো মনে হতো, সেটিই কেন জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে—এ প্রশ্ন তাকে ভাবিয়ে তুলেছিল।
তার মতে, অনেকের কাছে জীবনের প্রকৃত আনন্দ হলো প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো, ভ্রমণ করা, পছন্দের কাজে মন দেওয়া কিংবা কোনো তাড়া ছাড়াই অবসর কাটানো। এসব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অর্থের প্রয়োজন রয়েছে বুঝেই চাকরি ছাড়ার আগে নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য যাচাই করেন তারা।
হিমাচল প্রদেশের বীর এলাকায় বসবাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগেই আর্থিক প্রস্তুতি নেন এই দম্পতি। দীপ্তির হিসাব অনুযায়ী, বাড়িভাড়া, বাজার, জিম, গৃহকর্মীর বেতন, ইন্টারনেট, বাইরে খাওয়া, জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাদের মাসিক ব্যয় প্রায় ৩৮ হাজার রুপি।
এই হিসাবে দুই বছরে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১২ লাখ রুপি। পাশাপাশি ভ্রমণ, দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা, কনটেন্ট তৈরি ও অন্যান্য কাজে আরও ১০ লাখ রুপি রাখেন তারা। সব মিলিয়ে পাহাড়ে দুই বছর কাটানোর জন্য তাদের পরিকল্পিত বাজেট দাঁড়ায় প্রায় ২২ লাখ রুপি।
পাহাড়ে বসবাস শুরু করার পর নতুন উদ্যোগও নিয়েছেন দীপ্তি ও ধনঞ্জয়। পর্যটন খাতে নিজেদের যাত্রা শুরু করতে তারা চালু করেছেন একটি হোমস্টে। আতিথেয়তা ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যান তারা।
এমন একটি বাড়ি খুঁজছিলেন, যেখানে নিজেরা থাকার পাশাপাশি অতিথিরাও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কক্ষ থেকেই পাহাড় দেখা যায়, এমন একটি বাড়ির সন্ধান পান তারা। হোমস্টেটির নাম রাখা হয়েছে ‘আহিস্তা স্টেইজ’। দীপ্তি জানান, বাড়িটিকে হোমস্টেতে রূপ দিতে তাদের প্রায় ১০ লাখ রুপি বিনিয়োগ করতে হয়েছে।
নতুন জীবন নিয়ে আনন্দিত হলেও আর্থিক অনিশ্চয়তার কথাও খোলাখুলিভাবে জানিয়েছেন দীপ্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লেখেন, বর্তমান জীবন এখনো তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়। তবে নিয়মিত সঞ্চয়ে নতুন অর্থ যোগ না হওয়া নিয়ে প্রতি মাসেই দুশ্চিন্তা থাকে। কখনো কখনো আগের চাকরির আয়ের কথাও মনে পড়ে।
দীপ্তি মনে করেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত সবার জন্য অনুসরণযোগ্য কোনো আদর্শ পথ নয়। জীবনের পরিস্থিতি খারাপ কি না, সেটি তার ভাবনার মূল বিষয় ছিল না। বরং বর্তমান জীবনযাত্রা আগামী পাঁচ বছরও একই রকম থাকলে তিনি তাতে সন্তুষ্ট থাকবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন।
শেষ পর্যন্ত সেই ভাবনা থেকেই চাকরি ছেড়ে পাহাড়ে নতুন জীবন বেছে নেন দীপ্তি ও ধনঞ্জয়। এখন নিজেদের অভিজ্ঞতা, হোমস্টে ব্যবসা এবং পাহাড়ের জীবনযাপনের নানা দিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন তারা।
