প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ভাইভা হতে পারে নতুন পদ্ধতিতে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত হতে পারে। মৌখিক পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার করা হবে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল বুধবার সন্ধ্যায় বা রাতে প্রকাশ করা হতে পারে। ফল প্রকাশের কাজ আমরা গুছিয়ে এনেছি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষ ফল প্রকাশ করা হবে।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আরও বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হবে।
শনিবার বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের ১২ হাজার ৯৫১টি পদে নিয়োগে এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা রাজধানীর নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়।
এবারই প্রথম এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে। এ নিয়োগে এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা হয়েছে ৮০ নম্বরের। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ৮ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বাকি ১২ নম্বর থাকবে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর।
এরআগে সোমবার (২০ এপ্রিল) চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা এআই সিস্টেমে নেওয়া হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার পরিবেশ দেখতে গিয়েছিলাম— শিক্ষকরা ঠিকমতো পরীক্ষা দিচ্ছেন কিনা; তাদের বেঞ্চ ঠিক আছে কিনা, তারা গল্প করছেন কিনা—এগুলো দেখতে গিয়েছিলাম। নকল ধরতে না; এখানে নকল ধরার কোনো প্রশ্ন আসে না।
তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে ওএমআর শিটগুলো প্রক্রিয়াকরণ করছি, যেন এখানে কোনো রকম দুর্নীতির সুযোগ যেন না হয়। ম্যানেজমেন্ট কমিটি আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দিতো। এখন এটা আমরা দিচ্ছি যেন এ জায়গায় ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে শিক্ষকদের সাংঘর্ষিক কিছু না হয়।
ভাইভার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চিন্তা করছি ভাইভাতে যেন নেপোটিজম (স্বজনপ্রীতি), ফেভারিটিজম (পক্ষপাতিত্ব) না হয়, সেজন্য ভাইভা নেব এআই সিস্টেমে।
মৌখিক পরীক্ষা যেভাবে
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থীদের সশরীরে এনটিআরসিএ’র কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এখানে তিনি কম্পিউটারের সামনে বসলে এআই প্রার্থীকে পোশাক পরিচ্ছদ, বডি ল্যাংগুয়েজ, সাধারণ জ্ঞান ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের ভিত্তিতে মার্কিং করবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘পুঙ্খানুপুক্ষভাবে প্রার্থীদের যাচাই করে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হবে। এ সফটওয়্যারটা ডেভেলপ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এটা ঠিক হলেই আমরা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু করব।’
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের সাড়ে ১৩ হাজার শূন্য পদে নিয়োগে গত ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
৮০ হাজারের বেশি শিক্ষকের আবেদন গ্রহণের পর এমপিও নীতিমালাও জনগণ সংশোধন করে এসব পদে নিয়োগের যোগ্যতা সংশোধন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আগে এসব পদের নিয়োগ পেতে ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলেও নতুন বিধান অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগ পেতে এখন থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের কমপক্ষে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পরে গত ২৫ মার্চ নিয়োগের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। ২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আবারও আবেদন গ্রহণ করা হয়।
আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে জারি করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী সুপারের শূন্যপদের সংখ্যা কমে ৬০৮টি।
১২ হাজার ৯৫১ শূন্যপদে নিয়োগে ৫৩ হাজার ৫৯টি আবেদন জমা পড়ে বলে জানায় এনটিআরসিএ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ২৭ জানুয়ারি জারি করা এক পরিপত্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএকে দেয়।
২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন ও ২০১৬ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের প্রার্থী নির্বাচন ও নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে এনটিআরসিএ।
