Logo
Logo
×

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

বৈশ্বিক সংকটে লোক প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

Advertisement

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

বৈশ্বিক সংকটে লোক প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী ‘লোক প্রশাসন আন্তর্জাতিক সম্মেলন-২০২৬’ শেষ হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হয়। ‘রিথিংকিং পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন অ্যান এরা অব গ্লোবাল ক্রাইসিস: গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসি রেসপন্সেস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনের আহ্বায়ক ও লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবিরের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. জেং শিয়াংইউ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টারের (বিপিএটিসি) রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সানপা) সেক্রেটারি ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ। সমাপনী বক্তব্য দেন কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আহমেদ শফিকুল হক।

আয়োজকেরা জানান, এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ১২টি দেশ থেকে মোট ১৮০টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৬টি গবেষণাপত্র ১৫টি একাডেমিক অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়। এতে বাংলাদেশের ১৪টি এবং বিদেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

দুই দিনের বিভিন্ন অধিবেশনে বৈশ্বিক সংকট, শাসনব্যবস্থা, নীতি প্রণয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় লোক প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন দেশ-বিদেশের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, লোক প্রশাসন এমন একটি ডিসিপ্লিন, যেটিকে উদযাপন করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে সাইবার-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লোক প্রশাসনের গবেষকদের আরও কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দক্ষ গবেষক ও যোগ্য সিভিল সার্ভেন্ট তৈরি করতে বিভাগটিকে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক চিন্তাচেতনাকে বাইরে রেখে শুধু একাডেমিশিয়ান ও গবেষকদের নিয়ে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

চীনের সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. জেং শিয়াংইউ কার্যকর লোক প্রশাসনের জন্য সরকারব্যবস্থার বিভিন্ন মাত্রা এবং অভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিভিন্ন দেশের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও চর্চার মধ্যে সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে আরও কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান বলেন, সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা ও নৈতিক নেতৃত্ব গঠনে বিপিএটিসির সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। এর মাধ্যমে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাসম্পন্ন জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সানপার সেক্রেটারি ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর লোক প্রশাসনে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চীনের উন্নয়নের পেছনে দেশটির নিজস্ব লোক প্রশাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা এবং গবেষণার ফল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান খুঁজতে আরও বেশি আলোচনা ও গবেষণা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন ঘটছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোকেও পরিবর্তন করতে হবে, যাতে তা জনগণের প্রত্যাশা ও পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

সমাপনী বক্তব্যে ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আহমেদ শফিকুল হক বলেন, লোক প্রশাসন নিয়ে গবেষকেরা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধানও তুলে ধরেছেন। এখন এসব গবেষণা ও প্রস্তাব বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। তবে শুধু আর্থিক সম্পদ থাকলেই হবে না; কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ব্যবস্থার টেকসই পুনরুদ্ধারে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু দক্ষ হলেই চলবে না, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতাও থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্ভাবনী হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল হতে হবে। সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের পরিবর্তন ও উন্নত করতে হবে।

তিনি বলেন, লোক প্রশাসনকে নতুন করে ভাবতে হলে পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন প্রতিষ্ঠান ও জ্ঞানভিত্তি গড়ে তুলতে হবে, যা শিখতে, খাপ খাওয়াতে, উদ্ভাবন করতে এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে সক্ষম। সম্মেলনে উপস্থাপিত নির্বাচিত গবেষণাপত্র নিয়ে একটি বই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়াদের গেজেটভুক্তির দাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ

৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়াদের গেজেটভুক্তির দাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ

ঢাবি অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত

ঢাবি অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত

মুজিবের নামে হলের নামফলক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ, ডাকসু নেতাদের প্রতিবাদ

মুজিবের নামে হলের নামফলক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ, ডাকসু নেতাদের প্রতিবাদ

ঢাবির হলে হাদির নাম সরিয়ে ফের ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

ঢাবির হলে হাদির নাম সরিয়ে ফের ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

আরও পড়ুন

বৈশ্বিক সংকটে লোক প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

বৈশ্বিক সংকটে লোক প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

নতুন বেতন স্কেল নিয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

নতুন বেতন স্কেল নিয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

জাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার, আরেকজনকে শোকজ

জাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার, আরেকজনকে শোকজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম