রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: চিহ্নিত হলেও গ্রেফতার হয়নি কেউ
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো ও রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসবের ভিত্তিতে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন হামলার শিকার সাংবাদিকরা। তবে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
গত ৪ অক্টোবর রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন—দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবান এবং আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের দাবি, হামলার ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ প্রশাসন ও পুলিশের কাছে রয়েছে। এরপরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
হামলায় সম্পৃক্ত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা হলেন—আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া রয়েছেন ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম।
এদিকে হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতিহার থানায় মামলা করা হয়েছে। হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, মামলার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং তাকে জোর করে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫ তারিখে প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান স্যার আমাকে থানায় যেতে বলেন। আমাকে বলা হয়, কিছু করতে হবে না, শুধু মতিহার থানায় গিয়ে স্বাক্ষর করতে হবে। আমাকে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর করার সময় দেখি, আসামিদের নাম অজ্ঞাত হিসেবে দেওয়া হয়েছে। হলের প্রভোস্ট আমাকে জানিয়েছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে রয়েছেন।
হামলার শিকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের রাবি প্রতিনিধি আরিফ উজ জামান বলেন, হল প্রশাসন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট করছেন। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা নিয়মিত আমাদের শিবিরের সদস্য ও গুপ্ত বলে প্রচার করছেন।
তিনি বলেন, তাদের কয়েকজনকে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার কারণে ছাত্রদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তারপরও প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। তারা আবার আমাদের ওপর হামলা করবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। অর্থাৎ একবার হামলার শিকার হওয়ার পর এখন আবার হামলার আশঙ্কা নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
মতিহার থানার ওসি মো. আরজুন বলেন, বিষয়টি কাজলা পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক দেখছেন। কত সময় লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত করতে একটু সময় লাগবে, নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজলা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোস্তাক বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। তদন্ত চলছে।
সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কত সময় লাগবে। তবে আমরা তদন্ত করছি। হাসপাতাল থেকেও তথ্য নিচ্ছি।

