ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে থাকার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার গুঞ্জন
Advertisement
আবির হোসেন, ইবি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নারী শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে অবস্থানের বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে এমন সিদ্ধান্ত নিলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ব্যাহত হবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইন জারির খবরকে গুজব বলে দাবি করেছেন উপাচার্য।
জানা যায়, পূজার ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খুললে সম্প্রতি সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়সহ আশপাশের এলাকায় টহল দেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। এ সময় তার সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
টহলকালে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান না করার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া সন্ধ্যার পর নারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে অবস্থানের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নোটিশের মাধ্যমে তা জানানো হবে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েনা রওনিজ বলেন, মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য হলের বাইরে আসা যাবে না; কিন্তু যখন এত মেয়ে হলে থাকার জন্য সিট পায় না, তখন মেয়েদের নিরাপত্তার দরকার হয় না? এত এত মেয়ে বাইরে থাকে। এই জায়গায় তাদের নিরাপত্তাহীন হওয়ার সম্ভাবনা কি নেই?
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেহার উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে চেয়ার ছেড়ে দিন। নিরাপত্তার অজুহাতে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্রীদের ক্যাম্পাস ছাড়া করার পাঁয়তারা বন্ধ করুন। ক্যাম্পাস সবার, নিরাপত্তা সবার অধিকার।
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাম হোসেন তন্দ্রা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ক্লাশ, পরীক্ষা আর সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়। এটি আমাদের বেড়ে ওঠার জায়গা, বন্ধুত্বের জায়গা, চিন্তা ও স্বাধীনভাবে বিচরণের জায়গা। আমরা বৈষম্যমূলক মানসিকতা ও দায়িত্বহীন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। মেয়েদের স্বাধীনতা কি নিরাপত্তার অজুহাতে কেড়ে নেওয়া হবে? সন্ধ্যা ৬টার পর মেয়েরা ক্যাম্পাসে বিচরণ করতে না পারলে, কোনো ছেলেও পারবে না। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলে সবার জন্য বন্ধ থাকবে।
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ বলেন, সান্ধ্য আইন বলতে কিছু নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু বলিনি। হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে, নারী শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পরে বাইরে থাকতে পারবে না। আমি এ বিষয়টিই শিক্ষার্থীদের অবগত করেছি।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। তবে সান্ধ্য আইন কার্যকরের বিষয়ে প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইন প্রতিষ্ঠার খবরটি গুজব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কোনো বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংশয়, আশঙ্কা বা প্রশ্ন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি বা হল প্রভোস্টদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত।
