Logo
Logo
×

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

‘তুমি অবশ্যই পারবে’, বাবা-মায়ের এই কথাই শক্তি দিয়েছিল দিয়াকে

Advertisement

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

‘তুমি অবশ্যই পারবে’, বাবা-মায়ের এই কথাই শক্তি দিয়েছিল দিয়াকে

Advertisement

বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দিয়া চৌধুরীকে নিয়ে ঠাট্টা করেছিলেন কেউ কেউ। তাদের ধারণা ছিল, বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে দিয়া হয়ত পাশ করতে পারবেন না। এমন কথা শুনে মন খারাপ হয়েছিল তার। তবে দমে যাননি দিয়া। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

পড়াশোনার চাপের মধ্যে কখনো কখনো ভেঙেও পড়তেন দিয়া। তখন পাশে পেয়েছেন চায়ের দোকানি বাবা-মাকে। তাদের আশ্বাস ছিল, ‘তুমি অবশ্যই পারবে।’ বাবা-মায়ের এই কথাই কঠিন সময়ে তাকে সাহস জুগিয়েছে।

সেই সাহস সঙ্গে নিয়েই কক্সবাজারের বায়তুশ শরফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তার এই সাফল্যে খুশি পরিবার। মেয়ের অর্জনে গর্বিত বাবা-মায়ের স্বপ্ন, একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন দিয়া।

দিয়ার মতো চায়ের দোকানি বাবা-মায়ের সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাতে গত ২৭ অক্টোবর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’।

‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজনে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৩৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তাদেরও সম্মানিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সনদ, বৃত্তির নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নাম্বার ওয়ানের সহায়তায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের দুই বছরের জন্য দেওয়া হয় টেন মিনিট স্কুলের বিভিন্ন একাডেমিক কোর্স করার সুযোগ।

চায়ের দোকানের সীমিত আয় আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে তোলার স্বপ্ন দেখেন অনেক বাবা-মা। তাদের সন্তানদের সেই স্বপ্ন পূরণে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিতে গত তিন বছর ধরে এ আয়োজন করে আসছে নাম্বার ওয়ান।

দিয়ার বাবা লিটন চৌধুরী ‘পুষ্প স্টোর ২’ নামে একটি চায়ের দোকান চালান। দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছেন তিনি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

দিয়ার কাছে এসএসসির এই ফল শুধু পরীক্ষায় ভালো করার সাফল্য নয়। এর পেছনে রয়েছে নিজের চেষ্টা, পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের সাহস জোগানো।

দিয়া বলেন, ‘বাবা-মায়ের সমর্থন না থাকলে আমি কখনোই এই ফল করতে পারতাম না। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যখন যা প্রয়োজন হয়েছে, তারা আমাকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পড়াশোনা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লে তারা আমাকে সাহস দিয়েছেন।’

দিয়ার ভাষ্য, কক্সবাজারে বিজ্ঞানের ভালো শিক্ষকের সংকট রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দরকার। শিক্ষকের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই বাড়তি চেষ্টা করতে হয়। দিয়ার পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা ছিল।

দিয়া বলেন, ‘আমি যখন বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সিদ্ধান্ত নিই, তখন অনেকে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। বলেছেন, আমি পাস করতে পারব না। তাদের কথা শুনে খারাপ লাগত। তবে বাবা-মা সব সময় বলতেন, আমি পারব।’

এসএসসির পর দিয়া এখন কক্সবাজারের একটি কলেজে পড়ছেন। ভবিষ্যতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করার পাশাপাশি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে চান।

নাম্বার ওয়ানের উদ্যোগে পাওয়া টেন মিনিট স্কুলের কোর্সগুলো এই প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে বলে আশা দিয়ার। তিনি বলেন, ‘নাম্বার ওয়ানের মাধ্যমে টেন মিনিট স্কুলের যে কোর্সগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি, সেগুলো আমার লক্ষ্য পূরণে কাজে লাগবে। এসব কোর্সের মাধ্যমে এইচএসসিতে ভালো ফল করার প্রস্তুতি নিতে পারব বলে আশা করছি। ভালো ফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাব এবং চিকিৎসক হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাবা-মায়ের সম্মাননা পাওয়াও দিয়ার কাছে বিশেষ আনন্দের। দিয়া বলেন, ‘নাম্বার ওয়ানের এই আয়োজন আমাদের অনেক উৎসাহ দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছি, যখন দেখেছি আমার বাবা-মাকে সম্মানিত করা হচ্ছে। আমার সাফল্যের কারণে তারা সম্মান পেয়েছেন, এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি চাই, ভবিষ্যতেও ভালো ফল করে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে।’

মেয়ের সাফল্যে গর্বিত লিটন চৌধুরীও। চায়ের দোকান চালিয়ে মেয়েকে পড়াশোনা করানোর পেছনে তার আশা ছিল, দিয়া একদিন নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাবে। এখন মেয়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়তে এবং চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান তিনি।

লিটন চৌধুরী বলেন, ‘আমার মেয়ে আমাদের গর্বিত করেছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও সে ভালো ফল করবে, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে এবং একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করে আমাদের আরও গর্বিত করবে। মেয়েকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমরা সব সময় পাশে থাকতে চাই।’

দিয়ার পড়াশোনার পথে সহায়তার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় নাম্বার ওয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান লিটন চৌধুরী। তার মতে, উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতিতে টেন মিনিট স্কুলের কোর্সগুলো মেয়ের কাজে আসবে। এই সহযোগিতা দিয়াকে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে আশা তার।

এই আয়োজন সম্পর্কে এমজিআই এর চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি পেলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বাবা-মায়ের সন্তানদের এই সাফল্য তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগের ফল। নাম্বার ওয়ানের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের বাবা-মায়ের অবদানকে সম্মান জানাতে চাই। শিক্ষার্থীরা যেন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পড়াশোনার পথে পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা তাদের পাশে থাকতে চাই। ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ অব্যাহত রেখে আরও শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করা এবং তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করাই আমাদের লক্ষ্য।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা শুরু কবে, জানাল বোর্ড

এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা শুরু কবে, জানাল বোর্ড

এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলেও ১৫ দিনের মধ্যে ফের পরীক্ষা

এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলেও ১৫ দিনের মধ্যে ফের পরীক্ষা

এসএসসিতে ফেল করাদের জন্য সুখবর নেই এ বছর

এসএসসিতে ফেল করাদের জন্য সুখবর নেই এ বছর

এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩-৬ মাসে ফের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ

এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩-৬ মাসে ফের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ

খাতা মূল্যায়নের ভুলে শাস্তি পাচ্ছেন দেড় সহস্রাধিক পরীক্ষক!

খাতা মূল্যায়নের ভুলে শাস্তি পাচ্ছেন দেড় সহস্রাধিক পরীক্ষক!

খাতা চ্যালেঞ্জ করে ভাগ্য খুলল ৭৯ শিক্ষার্থীর

বরিশাল বোর্ড খাতা চ্যালেঞ্জ করে ভাগ্য খুলল ৭৯ শিক্ষার্থীর

আরও পড়ুন

‘তুমি অবশ্যই পারবে’, বাবা-মায়ের এই কথাই শক্তি দিয়েছিল দিয়াকে

‘তুমি অবশ্যই পারবে’, বাবা-মায়ের এই কথাই শক্তি দিয়েছিল দিয়াকে

৭ নভেম্বর নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা, ছুটির বিষয়ে যা জানা গেল

৭ নভেম্বর নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা, ছুটির বিষয়ে যা জানা গেল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ আট দফা দাবি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ আট দফা দাবি

সব সরকারি কলেজের জন্য মাউশির নির্দেশনা

সব সরকারি কলেজের জন্য মাউশির নির্দেশনা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম