অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীদের আলটিমেটাম
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় না ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত ছাত্রীরা। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।
এদিন বিকালের দিকে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে দুপুরে কলেজের মূল ফটকের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই দফা দাবি তুলে ধরেন তারা।
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, মধ্যরাতে তাদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয় দাবিতে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।
প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষের মদদেই বৃহস্পতিবার রাতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই সময় পুরুষ পুলিশ সদস্যরা ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন, চুল ও হিজাব ধরে টানাটানি করেন এবং কয়েকজনের মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এতে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত পূজার ছুটির আগে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের একটি বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময়, অর্থাৎ ভোর ৫টা পর্যন্ত অডিটোরিয়াম ব্যবহারের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ। পরে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাদের কাছে এক রাতের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদেই অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

-6aede12583fd9.jpg)