অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যাপক আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। দেশটির বড় ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনো ধসে পড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির পতনের কারণে দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নিজেদের ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। প্রায় ৬৫ লাখ মানুষের দেশ প্যারাগুয়েতে উয়েনো ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ লাখ।
বৃহস্পতিবার রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় পেনা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে তার পদত্যাগ কার্যকর হতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ক্ষমতার দ্রুত ও সুশৃঙ্খল হস্তান্তর নিশ্চিত করতে সিনেট এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করতে কংগ্রেসের অধিবেশন বসার কথা। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে পারেন।
উয়েনো ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয় ঘিরে কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সংকটের জেরে মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান পদত্যাগ করেন। একই দিনে ব্যাংকটির আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তারা আত্মসমর্পণ করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত তাদের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিরোধী দলগুলো বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছিল। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথেও বিক্ষোভ চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিজ দলের রক্ষণশীল নেতাদের একাংশের সমর্থনও হারান পেনা। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
ব্যাংকের সঙ্গে পেনার ব্যবসায়িক সম্পর্ক
উয়েনো ব্যাংকের পতনের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট পেনার অতীত ব্যবসায়িক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে। ২০২৩ সালে নির্বাচিত এই অর্থনীতিবিদ ব্যাংকটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ভাসকেজের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা ছিল।
আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ, ব্যাংকটির আর্থিক বিপর্যয়ের সঙ্গে পেনার স্বার্থের সংঘাত, পেনশন তহবিলের অর্থের অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনিয়ম আড়াল করার বিষয় জড়িত। তবে এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন পেনা। তার দাবি, একটি কারিগরি ও নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত সমস্যা রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার করা উচিত।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনোর আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ন্যূনতম সচ্ছলতার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়ার পর ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপ করে। এরপরই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ব্যাংকটি সরকারি তহবিলের প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও ছিল।
পদত্যাগের ঘোষণায় পেনা বলেন, আটকে থাকা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা, আমানত সুরক্ষা তহবিলের যথাযথ ভূমিকা পালন এবং জনগণের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার প্রধান প্রত্যাশা।
