Logo
Logo
×
   

রাজধানী

অর্থাভাবে থমকে আছে কলির অস্ত্রোপচার, মাথার খুলি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৪ লাখ টাকা

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

অর্থাভাবে থমকে আছে কলির অস্ত্রোপচার, মাথার খুলি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৪ লাখ টাকা

সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান তারা।

অর্থাভাবে থমকে আছে আট বছর বয়সি শিশু কলি সায়ানের চিকিৎসা। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা তার মাথার খুলির একটি অংশ সাময়িকভাবে খুলে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই হাড় পুনরায় মাথায় প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে কলি ও তার দরিদ্র পরিবারের।

কলি ফয়সাল আহম্মেদ ও মাহমুদা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। তারা বর্তমানে সাভার পৌর এলাকার বাবুল মিয়ার মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। ফয়সাল পেশায় একজন চালক এবং মাহমুদা আক্তার টঙ্গীর একটি পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি পদে কর্মরত।

কলির মা মাহমুদা আক্তার যুগান্তরকে জানান, টঙ্গীতে চাকরির সুবাদে তারা আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দাদির সঙ্গে ছাদে খেলতে গিয়ে চারতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় কলি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জরুরি অস্ত্রোপচার করে মাথার খুলির একটি অংশ খুলে সংরক্ষণ করেন। পরে জানানো হয়, কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই হাড় আবার মাথায় লাগানো হবে। প্রথম দফার চিকিৎসায় আমাদের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এখন দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় চার লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য আমাদের নেই।

কলির বাবা ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য আমরা এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকছি। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টাকার ওষুধ লাগে। এ ছাড়া সাকশন মেশিন, অক্সিজেন ও বেড বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এসব ব্যয় বহন করতেই হিমশিম খাচ্ছি। এখন মেয়ের অস্ত্রোপচারের টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান।

এ বিষয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ইনচার্জ মো. ইউসুফ যুগান্তরকে বলেন, শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় চিকিৎসাধীন। তার পরবর্তী অস্ত্রোপচারটি ব্যয়বহুল হওয়ায় পরিবারটি চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছে না। আগামী দুই মাসের মধ্যে মাথার খুলির অংশটি পুনঃসংযোজন করা জরুরি। ইতোমধ্যে কিছু মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .