বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ায় ব্যথিত ওসির আবেগঘন পোস্ট, সমালোচনার ঝড়
Advertisement
মিরপুর (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
রূপনগর থানার ওসি নোমান হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব ছিলেন মো. মোস্তফা জামান।
বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে কমিটি বিলুপ্তির এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার দুদিন পর বিলুপ্ত কমিটির এক শীর্ষ নেতাকে ফের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দেখতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন রাজধানীর রূপনগর থানার ওসি নোমান হোসেন।
ওসি নোমান তার পোস্টে লেখেন, ‘যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্যার একজন সৎ, নীতিবান, আদর্শবান ও পরোপকারী মানুষ। আমরা ঢাকা মহানগর উত্তরের সব জনগণ আবার ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে আমিনুল হক স্যারকে দেখতে চাই। ঢাকা মহানগর উত্তরের সব জনগণের চাওয়া একটাই- আমিনুল হক স্যারের বিকল্প নেই। যিনি সরকারি দায়িত্ব শেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের জন্য ভোররাত পাঁচটা/ছয়টা পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সব জনগণ আবার আমিনুল হক স্যারকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দেখতে চায়। সব ভোলাবাসীর ভালোবাসা, দোয়া, সবসময় কাম্য। ভালোবাসি ভোলা জেলার সব মানুষকে।’
ওসির এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। অনেকে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা করেন। একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের কমিটি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় অনেকে ওসির শাস্তির দাবি করেন। আবার অনেকে মন্তব্যের ঘরে ওসিকে দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করে পুলিশের ওপরের মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আবার অনেকে ওসিকে ভেঙে না পড়ে নতুন কমিটি না দেওয়া পর্যন্ত মনোবল চাঙা রাখার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে রূপনগর থানার ওসি নোমান হোসেনকে কয়েক দফায় ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, রূপনগর থানার ওসির স্ট্যাটাসটি আমি দেখেছি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে তা জানতে পেরে শনিবার বিকালে ওসি নোমান ফেসবুক থেকে তার পোস্টটি ডিলিট করেন। অবশ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের কাছে এ ঘটনার তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

