লালনের মানবতাবাদী দর্শন ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সেতু: দীনেশ ত্রিবেদী
Advertisement
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে ‘লালন সন্ধ্যা ২০২৬’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ফকির লালন শাহকে মানবতার আলোকবর্তিকা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, লালন শাহের সর্বজনীন মানবতাবাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শন ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বেরও একটি সেতু।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) আয়োজনে ‘লালন সন্ধ্যা ২০২৬’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সমুদ্রে দিক হারানো একটি জাহাজ যেমন পথ খুঁজে পেতে আলোকবর্তিকার সন্ধান করে, তেমনি মানবতার পথ দেখানোর ক্ষেত্রে ফকির লালন শাহ আলোকবর্তিকার মতো। তার দর্শনে মানবতার সর্বজনীনতা ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা রয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, লালন শাহের গান ও দর্শনের আবেদন এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তার গানে মানবতা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজন অতিক্রমের যে বার্তা রয়েছে, তা সর্বজনীন মূল্যবোধের প্রতিফলন। বাংলার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাউলধারার গুরুত্ব এবং ভারত-বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ফকির লালন শাহের জীবন, দর্শন ও সংগীতের ঐতিহ্য স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাউল গান, বাঁশির সুর, সমবেত লালনগীতি এবং সমকালীন সংগীত পরিবেশিত হয়। বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সংগীতের সঙ্গে আধুনিক সংগীতের সংযোগও ফুটে ওঠে অনুষ্ঠানে। এতে সাত শতাধিক অতিথি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট বাউল ও লোক সংগীতশিল্পী শফি মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি বাউল দল সংগীত পরিবেশন করে। ফকির লালন শাহের মরমি দর্শনে গভীরভাবে প্রোথিত এসব পরিবেশনায় বাংলার গ্রামীণ বাউল ঐতিহ্যের আধ্যাত্মিক দিক তুলে ধরা হয়।
এরপর বাঁশি পরিবেশন করেন প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী প্রয়াত ফরিদা পারভীনের স্বামী গাজী আবদুল হাকিম। তার সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের লোক ও ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পী নাসরিন আক্তার বিউটি। তাদের পরিবেশনায় ধ্রুপদি রাগ ও বাংলা লোকসংগীতের মেলবন্ধন ঘটে।
পরে অচিন পাখি কালচারাল একাডেমির শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে লালনগীতি পরিবেশন করেন। লালনের কালজয়ী গানগুলোতে বাংলার সংগীত ঐতিহ্য এবং সমকালীন সমাজে তার গানের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংগীত পরিবেশন করে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যান্ড লালন। নিগার সুলতানা সুমির নেতৃত্বে দলটি লালনগীতির ঐতিহ্যবাহী সুরের সঙ্গে সমকালীন সংগীতের সমন্বয় ঘটায়। তাদের পরিবেশনায় লালনের গান নতুন প্রজন্মের মধ্যেও কীভাবে আবেদন তৈরি করছে, তা ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মাদ সোহেল মঞ্জুর। এ ছাড়া সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন ধারার শিল্পী, সাবেক রাষ্ট্রদূত, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তরুণ প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, গণমাধ্যম সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত তরুণদেরও এতে অংশগ্রহণ ছিল।

