বর্ষপূর্তিতে রোগীদের সেবায় ঢামেকের নার্সিং কর্মকর্তাদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রোগীদের সেবায় আট বছরের পথচলা পূর্ণ করলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) কর্মরত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) নন-ক্যাডার নার্সিং ব্যাচ-২ (২০১৮)-এর নার্সিং কর্মকর্তারা। কর্মজীবনের অষ্টম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আনন্দঘন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রোগীদের সেবার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ১০টি নতুন হুইলচেয়ার হস্তান্তর এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ওষুধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় (প্রশাসনিক ব্লক) সংলগ্ন তৃতীয় তলার কনফারেন্স হলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।
২০১৮ সালে সরকারি পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব নার্সিং কর্মকর্তা দীর্ঘ আট বছর ধরে রোগীদের সেবাদান, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অবদান রেখে আসছেন। তাদের এই দীর্ঘ কর্মজীবনের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে সহকর্মীদের উদ্যোগে বর্ষপূর্তি উদযাপনের আয়োজন করা হয়।
বর্ষপূর্তির আয়োজনকে শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রোগীদের কল্যাণে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন নার্সিং কর্মকর্তারা। এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে আগত রোগীদের ব্যবহারের জন্য ১০টি নতুন হুইলচেয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি ওষুধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন, উপপরিচালক মো. আশরাফুল আলম এবং ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট অনিতা বারুই।
আয়োজক কমিটির পক্ষে সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. ফারুক হোসাইন বলেন, নার্সিং পেশার মর্যাদা, মানবিক সেবার গুরুত্ব এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবায় নার্সিং কর্মকর্তাদের নিরলস অবদান সবার সামনে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। রোগীদের সেবায় হুইলচেয়ার প্রদান এবং বৃক্ষরোপণের মতো মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে এবারের বর্ষপূর্তি উদযাপন আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব কেবল রোগীদের শারীরিক চিকিৎসা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালো সেবা, মিষ্টি কথা, সুন্দর আচরণ এবং আন্তরিক হাসির মাধ্যমেও রোগীদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হয়। স্বাস্থ্যসেবা একটি অনন্য দায়িত্ব, যা সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার একটি অমূল্য মানবিক গুণ, যার কোনো বিকল্প নেই। গুটিকয়েক মানুষের খারাপ আচরণের কারণে অনেক সময় পুরো পেশার দুর্নাম হয়। তাই শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, বাসা, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার বজায় রাখা উচিত। এর প্রতিদান মহান সৃষ্টিকর্তা দেন।
ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট অনিতা বারুই বলেন, রোগীই তাদের কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তারা যতই আনন্দ বা ব্যস্ততার মধ্যে থাকুন না কেন, রোগী ছাড়া তাদের কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই রোগীর সেবা করা এবং সব সময় তাদের পাশে থাকাই নার্সিং কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব থেকে তারা কখনো দূরে সরে যাবেন না বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নার্সিং নেতৃবৃন্দ এবং ২০১৮ ব্যাচের বিপুলসংখ্যক নার্সিং কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নার্সদের অগ্রণী ভূমিকা ও ত্যাগের প্রশংসা করেন।

