ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক, আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রমাণে মুক্তি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে আটক এনামুল হাসান নয়ন নামের এক তরুণকে আটকের পর আন্দোলনের মুখে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলে বৈষম্যবিরোধীরা দাবি করলে নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে মুক্তি পান নয়ন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
এনামুল হাসান নয়ন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে। উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে তার নাম রয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকায় নয়নকে আটক করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনে অংশগ্রহণের তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্ল্যাকার্ডসহ ছবিও আছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকলেও স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে নয়ন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। আমার সঙ্গেই তিনি আন্দোলন করেছেন। এমন অসংখ্য ছবি ভিডিও আছে। তার পরও তাকে আটকের ঘটনায় আমরা মর্মাহত হয়েছি।
তিনি বলেন, ইতোপূর্বে আমাদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরও ৩ জনকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে আটক করা হয়। এর মধ্যে একজন এখনও জেলে আটক আছেন। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা কষ্ট লেগেছে। আর তেমন কিছুই নয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনামুল হাসান নয়নকে আটক করেন। এর পরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে থানায় জড়ো হতে থাকেন। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রজনতা থানার সামনে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পরে বিকাল ৩টার দিকে নয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের ফেসবুকে দেওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলছেন- ‘বলতে হবে, আমার ভাইকে কেন গ্রেফতার করা হলো। আপনি বলেছেন আন্দোলনকারী তো কি হয়েছে, তিনি তো ডেভিল। এখানে আমার ১৭ জন ভাই শহীদ হয়েছেন। আপনি কেন বলেছেন- ও ডেভিল ছিল। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে গভর্নমেন্ট ফরম করেছি। আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আমাদের ছেলেদের গ্রেফতার করেছেন। আবার বার্গেডিং করছেন এবং বলছেন আন্দোলনকারী হয়েছে তো কি হয়েছে। দেশের যে কটি জায়গায় শক্তিশালী আন্দোলন হয়েছে, এর মধ্যে হবিগঞ্জ একটি। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুরিয়ে দিয়েছিলাম।’
