তিনবার ইউপি নির্বাচনে ফেল, দ্বাদশের পর ত্রয়োদশেও ছিটকে পড়লেন তিনি
Advertisement
মতিউর রহমান, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্বাচন আসে, মনোনয়ন জমা পড়ে, যাচাই-বাছাই পর্বেই ভেঙে যায় স্বপ্ন। মানিকগঞ্জের ঘিওরের কৃষক আব্দুল আলী বেপারীর এমপি হওয়ার স্বপ্ন যেন বারবার ভোটের মাঠে নামার আগেই কাগজের হিসাব তাকে হারিয়ে দেয়।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আরেক দফা স্বপ্নভঙ্গ হলো তার।
রোববার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তার। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই পরিণতি হয়েছিল।
৬৭ বছরের এই কৃষক তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বারবার আইনি ও কাঠামোগত বাধায় থমকে গেছে তার স্বপ্ন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের অন্তত এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। মানিকগঞ্জ-১ আসনে এই ‘ওয়ান পারসেন্ট’ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় জেলা রিটার্নিং অফিসার আব্দুল আলী বেপারীর মনোনয়ন বাতিল করেন।
রোববার সকালে বরাবরের মতো সাদা পাঞ্জাবি ও সোয়েটার (কোট) পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়ন যাচাইয়ে হাজির হন তিনি। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার নাজমুন নাহার সুলতানা তার প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মনোনয়ন বাতিলের খবরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আব্দুল আলী বেপারী। সেদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে শান্ত করেন এবং আপিলের পরামর্শ দেন।
এবার সেই দৃশ্য নেই। মনোনয়ন বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আপিল করবেন কিনা, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধান বাতিলের দাবি জানান। তার মতে, এই শর্ত সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের জন্য বড় বাধা।
হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারী (৬০) ঘিওর উপজেলার বেড়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত কিয়ামুদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি কৃষক, শিক্ষাজীবনে স্বশিক্ষিত।
পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালে ঘিওরের সিংজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। তিনবারই পরাজয় তার সঙ্গী হয়। এরপর ২০২৩ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এবার ত্রয়োদশ নির্বাচনেও একইভাবে মনোনয়ন যাচাইয়ে ছিটকে পড়লেন তিনি।
হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আব্দুল আলী বেপারীর পছন্দের প্রতীক ছিল ‘হাতি’। প্রাইমারি স্কুলে বড় ওয়ান পাশ আব্দুল আলী বেপারী প্রতীক পাওয়ার আগেই থেমে গেল তার নির্বাচনি পথচলা। গ্রামবাংলার এক সাধারণ কৃষকের এই রাজনৈতিক লড়াই তাই আবারও শেষ হলো স্বপ্নভঙ্গের গল্প হয়ে। ভোটের মাঠে নামার আগেই কাগজের হিসাবেই হার মানতে হলো তাকে।
