পুঠিয়ায় খাল খননে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ
Advertisement
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
পুঠিয়ায় খাল খনন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুঠিয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ (এলজিইডি) সারা দেশে পুকুর-খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২ কিমি খাল পুন:খনন কাজে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করছে; কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে খালটি খননের কাজ করা হচ্ছে।
পুঠিয়া এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুম এলে উপজেলাজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কারণ উপজেলার যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ (এলজিইডি) সারা দেশে পুকুর-খাল খনন প্রকল্পের সৈয়দপুর-বিদিরপুর খাল হতে ধোকড়াকুল এলাকার চন্দ্রবতী বিলের পুনরায় ১.৮ কিলোমিটার খাল পুন:খনন কাজ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ টাকা; কিন্তু এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন, খালটি ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।
চন্দ্রাবতী বিলের বরেন্দ্র সেচপাম্পের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান হাবিবর বলেন, বর্তমানে খাল খননের কাজ চলছে। অপরদিকে এখনই খালের বিভিন্ন স্থান ভরাট হয়ে গিয়েছে। এলজিইডি অফিসের উচিত ছিল খাল যেখানে শুরু হয়েছে সেখান থেকে খননের কাজ করা; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিলের ভিতর খাল খনন করে শুধু সরকারে ৩৭ লাখ টাকা বিলের পানি পারাপারের কাজে আসবে না।
আয়নাল হক ও আব্দুল সালাম বলেন, সরকারি নকশা অনুযায়ী খাল খনন করা হচ্ছে না। নকশাই আছে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ ফ ম হাসানের পুকুরের মাঝ দিয়ে খালটির গতিপথ; কিন্তু পুকুরের মাঝ দিয়ে খনন না করে বিশাল পুকুরের পাশ দিয়ে খননের কাজ করা হচ্ছে। আমরা শুনেছি অফিসের সঙ্গে তাদের গোপন সমঝোতা হয়েছে। তাই পুকুরের ভেতর দিয়ে খনন না করে পুকুরের পাশ দিয়ে খনন করা হচ্ছে।
আ. রশিদ শাহ ও ফয়সাল আহম্মদ বলেন, হাসানের ব্যক্তিগত জমি দিয়ে অবৈধভাবে খালের গতিপথ পরিবর্তন করা হচ্ছে। হাসান লিখিতভাবে দলিল করে দেয়নি এবং কর্তৃপক্ষও দলিল করে নেয়নি। এলজিইডির কর্মকর্তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে খালটি পুন:খনন করা হচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী চাই সরকারি নকশা অনুযায়ী খালটি খনন করা হোক। এই খালে বিলের ফসলে জলাব্ধতা দূর হবে না। আরও বেশি জলাবদ্ধতা তৈরি হবে।
এ ব্যাপারে পুঠিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) কর্মকর্তা পারভেজ নেওয়াজ খান বলেন, এলাকাবাসী চাইলে পুকুর মালিকের কাছ থেকে দলিল করে নেব। আমরা চাই কোনো মানুষের ক্ষতি না করে খালটি খনন হোক।
