রাজশাহীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি বৃহস্পতিবার
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে দুই আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং অনেককে আহত করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর)।
এ মামলায় অভিযুক্ত রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদসহ কারাগারে থাকা চার আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করা হবে। অন্য তিন আসামি হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ১ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এসএম মইনুল করিম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় আন্দোলনকারী রায়হান আলী ও আনজুম সাকিব নিহত হন। এছাড়া আরও অনেক আন্দোলনকারী আহত হন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এর আগে বোয়ালিয়া মডেল থানায় পৃথক হত্যা মামলা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ঘটনাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
১৮ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ওই অভিযোগ আমলে নেন এবং পলাতক ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলায় অভিযুক্ত ৩৮ জনের মধ্যে চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক। বাকি ৩৪ জন পলাতক রয়েছেন।
পলাতক আসামিরা হলেন—রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, আরএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, সাবেক ওসি হুমায়ুন কবির, ছাত্রলীগ নেতা রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, যুবলীগ নেতা বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, যুবলীগ নেতা তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।
