রংপুর-৫ আসন
নামের বিড়ম্বনায় বিএনপি ও জামায়াতের ভোটার
মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রংপুরের ৬টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন প্রচারণার মাঠে সক্রিয়। প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণায় মাঠে সভা-সমাবেশ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জামায়াতের ও বিএনপি প্রার্থীর নামের মিল থাকায় সাধারণ ভোটাররা পড়েছেন মারাত্মক বিড়ম্বনায়। তাদের উভয়ের নাম গোলাম রব্বানি। ফলে ব্যক্তি নামের পরিচয়ের চেয়ে দল দুটির নোতাকর্মীরা প্রার্থীর মার্কার কথা বলেই ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গির সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। তিনি আওয়ামী লীগ ও সমমনাদলের ভোট ব্যাংক টার্গেট করে নির্বাচনি বৈতরণী পাড়ি দেওয়ার কৌশল নিয়ে ভোটের মাঠে প্রচারণায় এগিয়ে আছেন। জামায়াতের লক্ষ্য নারী ভোটার। তাদের দলীয় নারী নেতাকর্মীরা ভোটারদের একাধিকবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তারা কোনো ভোটারের আত্মীয় স্বজন পরিচিত হলে সেই সম্পর্ক ধরে ভোটের দৌড়ে সক্রিয়। জামায়াতের এবারের ভোটের প্রচারণায় এটি একটি ভিন্ন কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপি প্রার্থী উপজেলা কমিটির সভাপতি গোলাম রব্বানী ও জামায়াত প্রার্থী রংপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তাদের দুজেনর নামের মিল থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভোটাররা। ফলে দলের নেতাকর্মীরা ব্যক্তি দুই রব্বানীর চেয়ে দলের মার্কা পরিচয়ে ভোটের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনে অন্য দলের মধ্যে জাতীয় পার্টির এসএম ফখরউজ্জামান জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যাপক গোলজার হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) বাবুল আখতার, সিপিবির আবু হেলাল, বাসদের মমিনুল ইসলাম, নাগরিক ঐক্য এর মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হুসাইন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শনিবার সরেজমিন এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভোটের এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তবে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলোর অবস্থান শক্তিশালী নয়।
মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ আসন। গত নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ৪ জন। কেন্দ্র ছিল ১৫০টি।
এবার এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২৩ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৬২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। ভোটার বেড়েছে ২৮ হাজার ৮৫৪ জন। আর দুটি কেন্দ্র বেড়ে হয়েছে ১৫২টি।
সব দলের প্রার্থীদের লক্ষ্য এখন যুব-তরুণ ভোটার। জুলাই আন্দোলনে বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তারা বিপ্লবী ভূমিকায় ছিল প্রাণ দিয়েছে। তারা আশাবাদী নতুন ধারার রাজনৈতিক প্লাটফরম তৈরি হবে। সেই লক্ষ্য থেকে দলগুলোর প্রার্থী তাদের টার্গেট করে ভোটের প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন।
জামায়তের প্রার্থীরা মনে করছেন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক তাদের পক্ষে আসবে না। তাই তারা চেষ্টা করছেন সেই ভোট ব্যাংকের ভোট যেন বিএনপির প্রার্থীর মার্কায় না যায়। এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে একটি প্রবণতা দেখা গেছে হিন্দু ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তাজনিত কারণে যাবেন কিনা? এ নিয়ে তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। যদি এই ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারে তা হলে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর জন্য তা হবে বিপর্যয়ের কারণ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিগত দিনের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাত্র একবার, জাতীয় পার্টি ৫ বার, আওয়ামী লীগ ৫ বার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ বার নির্বাচিত হয়েছিল। এই চিত্র বলে দেয় এ আসনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের রিজার্ভ ভোট ব্যাংক রয়েছে; যা এই দুটি দলের মার্কার নিজস্ব ভোট।
ভোটে জয়ের ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থী বিএনপির গোলাম রব্বানী বলেন, বিগত দিনের চেয়ে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক জিয়া নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পরে দেশে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির দিকে বিশেষ করে যুব-তরুণ ভোটাররা বেশি নতুন তাই তিনি আশাবাদী তার জয়ের বিষয়ে।
জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, নির্বাচন যেমন আদর্শের ভিত্তিক লড়াই, তেমনি নির্বাচনের জয়ের জন্য প্রার্থীকে নানা কৌশল নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামতে হয়। তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি তার নির্বাচনি প্রচারণায়।
তিনি মনে করেন দেশের মানুষ ন্যায়, ইনসাফ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চায়। তাই আল্লাহর আইনের শাসন যদি দেশে থাকে তা হলে দেশ এই সব থেকে দূরে থাকবে। তাই তিনি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বলে মনে করেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গির বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এই আসন থেকে ৫টি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। তাই দলের রিজার্ভ ভোট ব্যাংক রয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই তাদের বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ ভোট রয়েছে। তিনি মনে করেন আদর্শগত দিক থেকে তারা জাতীয় পার্টির পক্ষেই তারা ভোট দিবেন। এ কারণে তিনি মনে করেন দলের ভোট রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোট যদি তার পক্ষে আসে তা হলে তিনি বিপুল পরিমাণ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন।
