তানোর-গোদাগাড়ীতে আ.লীগের কৌশলে হেরেছে বিএনপি!
ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী)
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সম্প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারি হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে সামান্য ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও শীশ মোহাম্মদের অনুসারী পুরাতন আদর্শিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
দলীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভোটের রাজনীতিতে গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম, পাঁকড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন, তানোর উপজেলার কলমা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী আর তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিমুদ্দিন বাবুর কৌশলের কাছে বিএনপি ধরাশায়ী হয়েছে। এসব চেয়ারম্যান ও তাদের অনুগত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহারে এলাকায় গোপনে বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এ কারণে বিএনপির দুর্গখ্যাত রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন ১ হাজার ৮৮৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। আর জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। ফলে ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা। অবিলম্বে এসব চেয়ারম্যান অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেছেন তারা।
বর্তমানে তানোর ও গোদাগাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিএনপির তৃণমুল নেতাদের অভিযোগ- আওয়ামী লীগের ভোট টানতে গিয়ে নিজের ঘর সামাল দিতে পারেনি বিএনপি। এ কারণে দলের বড় একটি অংশ ধানের শীষে ভোট দেয়নি। আবার আওয়ামী লীগও তাদের দেওয়া কথা রাখেনি। চরম বেঈমানি করেছে।
তারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির কাছে থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন; কিন্তু গোপনে ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ। ভোটের খেলায় বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে প্রকাশ্যে আসেন চেয়ারম্যানদের অনুগত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও নির্বাচনি প্রচারণায় তারা বিএনপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। এসব চেয়ারম্যানদের মদদপুষ্ট অধিকাংশ নেতা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বলে নিজ নিজ এলাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা ও ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন।
তবে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে থাকলেও তারা গোপনে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। অধিকাংশ নেতা গোপনে বিএনপির প্রতিপক্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। বিএনপিকে হারাতে তারা ধানের শীষের কথা বলে বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অথচ বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গোপনে তারা ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষের নেতাদের নিয়ে সব কৌশল ঠিক করেন। এমনকি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েও তারা বিএনপি বিরোধী রাজনীতি করেছেন। সারা দেশে জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মেয়র ও চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি দুই-একজনকে অপসারণ করা হয়। বিএনপিকে যার খেসারত দিতে হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
স্থানীয়রা জানান, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আ.লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। ভোটের আগে হঠাৎ অনেকে এলাকায় ফিরে আসেন। গুঞ্জন রয়েছে ধানের শীষে ভোট দিতে তারা এলাকায় ফেরেন। এলাকায় ফিরে তারা সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেন। অথচ অতীতের যে কোনো নির্বাচনে এসব ইউনিয়নে জামায়াত এত ভোট পায়নি। ভোটব্যাংক ছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের হাতে। কিন্তু এবার অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে জামায়াত দুই উপজেলায় বিপুল ভোট পেয়েছে। এসব চেয়ারম্যান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়েও গোপনে বিএনপিবিরোধী রাজনীতি করেছেন এখনো করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের এসব চেয়ারম্যানের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেছেন। তারা বলছেন, এসব চেয়ারম্যানদের বিষয়ে নজরদারি ও তাদের সময়ে ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নয়-ছয়ের তদন্ত এখন সময়ের দাবি। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে, আগামীতে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষতির মুখে পড়বে।
তবে অনেকে বলেছেন- দলীয় কোন্দলের কারণে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দুর্গে হেরেছে বিএনপি। আগামীতে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ না হলে স্থানীয় নির্বাচনেও এমনই ফলাফল হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন রাজনৈতিক মহলের নীতিনির্ধারকরা।
