টেন্ডার জমা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিতের অভিযোগ জামায়াত নেতার
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করা নিয়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে সুনির্দিষ্ট করে বিএনপি নেতাকর্মীর কারো নাম-পরিচয় বলেননি ওই জামায়াত নেতা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর বিকালে পাবনা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগারসহ উপজেলা জামায়াতের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষদিন। একই সঙ্গে বিকাল ৩টায় দাখিলকৃত টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব তার নিজ এলাকার একটি হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করতে উপজেলায় যান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সে তার টেন্ডার শিডিউলটি ফেলেন।
এ সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তাকে হেনস্তা করেন। সেখানে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ সদস্যরা নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এর কিছু সময় পর ইউএনও অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। তখন ‘জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন’ বলেই তাকে লাঞ্ছিত করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাড়া খেয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিব।
ভুক্তভোগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ইউএনও সাহেবের কাছে এসেছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার দাখিল করেছে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। আমি এ বিষয়ে জানতামও না। ইউএনও অফিসের কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, আমার অফিসের বাইরে ঘটনা একটা ঘটেছে বলে শুনেছি। আজকে টেন্ডার দাখিল ও খোলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কিভাবে ঘটনা ঘটল সেটি আমি বলতে পারছি না। আমি জেনে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সরওয়ার হোসেন বলেন, আমি সকাল থেকে পাবনায় একটা মিটিংয়ে ছিলাম। উপজেলায় কী ঘটেছে আমি বলতে পারব না। আমি বিস্তারিত জেনে পরে বিষয়টি জানাব।
