ঈদের নামাজের ইমামতি নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর মোহনপুরে ঈদের নামাজের ইমামতি করা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. আলাউদ্দিন (৬৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় আলাউদ্দিন মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুয়াজ্জিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করছে জামায়াত। এ ঘটনার পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা কিছুক্ষণের জন্য রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় এক বিএনপি কর্মীর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ও ভাঙচুর করেছে জামায়াতকর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের নামাজে ইমামতি কে করবেন; তা নিয়ে সন্ধ্যার পর মডেল মসজিদে মুসল্লিদের বৈঠক ছিল। সেখানে আলাউদ্দিনের ছেলেদের সঙ্গে বিএনপিকর্মী ওমর ফারুক, মো. রাসেল, আব্দুল করিম, আব্দুল কুদ্দুসসহ কয়েকজনের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আলাউদ্দিন সেখানে এসে ছেলেদের নিয়ে যেতে চান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির কর্মীরা আলাউদ্দিনকে ফেলে দিয়ে তার বুকের ওপর উঠে বসেন। ঘটনাস্থলেই আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উপজেলা জামায়াত আমির আব্দুল আউয়াল বলেন, আলাউদ্দিনের পুরো পরিবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আলাউদ্দিন নিজেও তাদের দলের কর্মী। তবে পুলিশ বলছে, আলাউদ্দিনের ছেলেরা জামায়াতে ইসলামী করলেও তিনি নিজে বিএনপির সমর্থক ছিলেন।
আর আলাউদ্দিন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন বলেও ধারণা করছে পুলিশ। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা তথ্য পাচ্ছি তা হলো আলাউদ্দিন বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তবে তার ছেলেরা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। দুপক্ষের কথা কাটাকাটি বন্ধ করতে গিয়ে আলাউদ্দিন স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর রাতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আলাউদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে ময়নাতদন্ত হবে। ঘটনার পর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়ি নিয়ে গেছেন। অভিযোগ থাকলে লাশ বাড়ি থেকেই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে।
ঘটনার পর ঘটনাস্থলে যান মোহনপুরের কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো। সেখানে তিনি জামায়াতকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
