স্বাধীনতা দিবসে গীতা পাঠে নিষেধের অভিযোগ জামায়াত এমপি মুজিবুরের বিরুদ্ধে
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গীতা থেকে পাঠ না করার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্বাধীনতা দিবসের তিন দিন আগে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে মোবাইল ফোনে পরামর্শ চাইলে মুজিবুর রহমান গীতা পাঠ না রাখার নির্দেশনা দেন। ইউএনও নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং নিন্দা জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
তবে বাস্তবে জাতীয় কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি গীতা থেকেও পাঠ করা হয়। ওই সময় এমপি উপস্থিত না থাকলেও পরে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিষয়টি অনুষ্ঠান শেষে জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা শুরু হয়।
তানোরের ডাকবাংলো মাঠে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ শেষে গীতা পাঠ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কয়েকজনের কথোপকথনের একটি ২৮ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ইউএনওর কাছে জানতে চান, গীতা পাঠে নিষেধাজ্ঞা ছিল কি না। জবাবে ইউএনও জানান, অন্যান্য উপজেলাসহ জেলায় গীতা পাঠ হয়েছে এবং তানোরেও তা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও নাঈমা খান বলেন, এমপি তাকে মৌখিকভাবে গীতা পাঠ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিলেও পরে খোঁজ নিয়ে তিনি দেখেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্যান্য স্থানে গীতা পাঠ হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন এবং অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের এক নারী কর্মকর্তা অনুবাদসহ গীতা পাঠ সম্পন্ন করেন।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে যুগান্তরের পক্ষ থেকে ফোন দেওয়া হয়। তিনি ফোন ধরেননি। তবে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ধর্মগ্রন্থ পাঠের ধরন নির্ধারণ করেছে।
তার দাবি, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কেবল কুরআন তিলাওয়াতই প্রচলিত ছিল। তিনি জাতীয় সংসদের কার্যক্রম অনুসরণের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, সংসদে বর্তমানে শুধুমাত্র কুরআন তিলাওয়াত হয়। তানোরে গীতা পাঠ হয়েছে কিনা- সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও দাবি করেন।
এদিকে এমপির এমন অবস্থানের সমালোচনা করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের সমান অবদান রয়েছে। সেই বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সব ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ হওয়াই যৌক্তিক।
তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে সংবিধানে সব ধর্মের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে এবং অতীতে জাতীয় সংসদেও একাধিক ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের প্রচলন ছিল।
মনীন্দ্র কুমার নাথ আরও বলেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ বন্ধ রাখার নির্দেশনা অযৌক্তিক এবং এ ধরনের উদ্যোগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিপন্থি। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে চারটি প্রধান ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
