ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগর পথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে, যাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর ১৮ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ অফিশিয়ালি এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয়ভাবে পরিবার, প্রতিবেশী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এ পর্যন্ত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে তারা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাণ হারানো বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জন রয়েছেন।
তারা হলেন- দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫), রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮), বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া।
জগন্নাথপুরের চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান, ইছগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী।
দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম।
এদের পরিচয় স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নাম জানা গেছে।
মৃতদের স্বজনরা জানান, দালালরা ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে বড় নৌকা দিয়ে তাদের ইতালি কিংবা গ্রিসে পাঠানোর কথা থাকলেও পরবর্তীতে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট প্লাস্টিকের নৌকায় তাদের সাগর পথে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে তারা গন্তব্যে পৌঁছে যাবে এমনটি বলা হলেও যাত্রাপথে ভুল রাস্তায় গিয়ে ৬ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর কারণে তারা খাবারের অভাব ও পানির পিপাসায় কাতর হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাদের নাম–পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া বলেন, আমরা সুনামঞ্জের ৩টি উপজেলায় মোট ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি। তবে এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে এরকম অমানবিক পন্থায় বিদেশ প্রেরণের সঙ্গে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছি।
অবৈধ ও অমানবিক পন্থায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
