ঈদের ছুটি শেষে গাজীপুরে খুলেছে শতভাগ কারখানা
Advertisement
মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, গাজীপুর
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ঈদের ছুটি শেষে বেড়েছে ফাঁকা শহরে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা। বেড়েছে সেই চিরচেনা রাস্তাঘাটে যানজট ও মানুষ। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ১০ দিনের ছুটি শেষে গাজীপুর ফিরছে আবারও সেই চিরচেনা রূপে। গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে শ্রমজীবী মানুষেরা কর্মস্থলে ফিরে আসায় সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকেই সরব হয়ে উঠেছে কারখানাগুলো।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা, শুরু হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। আবারও বেড়েছে ফাঁকা শহরে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা। বেড়েছে সেই চিরচেনা রাস্তাঘাটে যানজট ও মানুষ। তবে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে শ্রমিকদের। অনেককে পথে ভোগান্তিরও শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরে মোট ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০টি পোশাক কারখানা খুলেছে আজ। যেখানে প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক কর্মরত। অধিকাংশ কারখানায় টানা ১০ দিনের ছুটি ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে পৌঁছান। কাজের পরিবেশে ফিরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। তারা জানান, স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য বেতন-ভাতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তারা আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
বিভিন্ন কারখানার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও শ্রমবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও কর্মপরিবেশের বিভিন্ন দিক জোরদার করা হয়েছে।
কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার বাড়ি রংপুরে, আমি এখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। ঈদে টানা ১০ দিন ছুটি পেয়ে ছুটে গিয়েছিলাম বাবা-মা ও গ্রামের প্রিয় মানুষের কাছে। ছুটির দিনগুলো পরিবারের সবার সঙ্গে অনেক আনন্দে কাটিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বাড়ি যাওয়া ও আসার পথে তেল সংকট থাকায় আমাদের অনেক ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে ও রাস্তায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তেল সংকট না থাকলে হয় তো আরও ভাড়া কম ও ভোগান্তি ছাড়াই যাতায়াত করতে পারতাম।
চৌরাস্তা তেলিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা কারখানা শ্রমিক আলেয়া বেগম বলেন, ১০ দিন ঈদের ছুটি কাটিয়ে শনিবার গাজীপুরে এসেছি। আজ থেকে ডিউটি শুরু হয়েছে। অনেকদিন পর ডিউটিতে সবাই আনন্দের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। সারা বছর শেষে ঈদে টানা ১০ দিনের লম্বা একটা ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সবার সঙ্গে অনেকগুলো দিন আনন্দে উপভোগ করেছি।
কোনাবাড়ীর এসরার নগর হাউসিং সোসাইটির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজিজ মিয়া বলেন, ঈদুল ফিতরের টানা ১০ শিল্পকারখানা ছুটি দেওয়ায় আমাদের এলাকায় যারা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা সবাই ছুটে গিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে। তাতে আমাদের শহরটা একদম ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। ঢাকা শহর আমাদের কাছে অনেকটাই নিঃসঙ্গ লাগছিল। ছুটি শেষে আবারও বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরেছে সবাই।
গার্মেন্টস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষই। ঈদ পরবর্তী এই স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে আজ থেকে গাজীপুরে শতভাগ কারখানা চালু হয়েছে। কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই কাজে যোগ দিয়েছেন।
