ধর্ষণের পর রক্তক্ষরণে কলেজছাত্রীর মৃত্যু, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার
Advertisement
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত শান্ত পাল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে এক কলেজছাত্রীকে (১৯) ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মূল আসামি শান্ত পালকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেফতার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত দিয়া বণিক ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার থানা রোড এলাকার শিশির বণিকের মেয়ে। তিনি ভালুকা সরকারি কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহের একটি কোচিং সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গ্রেফতার শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল এলাকার সুনীল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈর পৌরসভার সফিপুর দক্ষিণ আহম্মদনগর এলাকার একটি বহুতল ভবনের চিলেকোঠায় ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দূরসম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্রে শান্ত পালের সঙ্গে দিয়ার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন দিয়া। ওই দিন মোবাইল ফোনে ডেকে এনে সহযোগী আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় দিয়াকে সফিপুরে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান শান্ত। সেখানে দিয়াকে ধর্ষণ করা হলে একপর্যায়ে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দিয়াকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে শান্ত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ ভালুকায় দিয়ার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে শান্ত দাবি করেন, হঠাৎ খিঁচুনি ওঠার পর হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে শান্তর অসংলগ্ন কথাবার্তায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে নিহতের পোশাকে রক্ত দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন শান্তকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও গণধোলাই দেন। তখন ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেন তিনি। খবর পেয়ে ভালুকা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শান্ত পালকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শিশির বণিক বাদী হয়ে শান্ত পাল ও তার সহযোগী আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় হত্যা ও নারী নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি শান্ত পালকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মামলার অপর সহযোগী আসামি আনোয়ারকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
