কুষ্টিয়ায় পিরের দরবারে হামলা-ভাঙচুর
জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পির আবদুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। এ মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে দৌলতপুর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল চলাকালে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেন- প্রশাসন জবাব দাও বলে স্লোগান দিতে থাকে।
সমাবেশে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে শুরু থেকেই তারা প্রশাসনের কাছে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতা খাজা আহম্মেদকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় খাজা আহম্মেদের জনপ্রিয়তা ও সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণে তার আকাশচুম্বী সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ একটি মহল তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছেন।
এদিকে মামলার বিষয়টি সামনে আসার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে এর আগে একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয় বলে নেতারা জানান।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক এনামুল হক বলেন, দরবারে হামলা ও হত্যার ঘটনাকে তারা কোনোভাবেই সমর্থন করেন না এবং জড়িতদের দ্রুতবিচারের দাবি জানান।
তবে মাওলানা বেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, ঘটনাটির কয়েক দিন পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধীমত দমনের লক্ষ্যে জামায়াত নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যদিও ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাজা আহম্মেদকে (৩৬) প্রধান আসামি করা হয়।
এছাড়া মামলায় আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং একটি স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক সিহাব (সাফি) (৪৫), যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পাঁচ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
