ফিলিং স্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি মৎস্যজীবী দল নেতার
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর বাগমারার হাটগাঙ্গোপাড়ায় একটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ২০০ লিটার জ্বালানি দিতে অস্বীকার করায় স্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এতে এক কর্মচারীকে বেদম মারধর করেছেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি কসিমুদ্দিন জোয়ার্দার।
এ ঘটনায় সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকালে মেসার্স হাটগাঙ্গোপাড়া ফিলিং স্টেশনের মালিক সারোয়াজ জাহান বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত রাকিব হোসেন মিঠু (২৪) বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বিকালে কসিমুদ্দিন জোয়ার্দার তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে হাটগাঙ্গোপাড়া ফিলিং স্টেশনে যান। তারা দুটি অটোরিকশায় করে কয়েকটি জারিকেন নিয়ে এসে সেগুলোতে জ্বালানি তেল ভরার দাবি জানান। এ সময় স্টেশনে কয়েকশ যানবাহন লাইনে অপেক্ষমাণ ছিল এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী একজন ট্যাগ অফিসার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।
লাইন ভেঙে তেল নিতে গেলে কর্মচারী মিঠু আপত্তি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কসিমুদ্দিন ও তার সহযোগীরা তাকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে তারা জোরপূর্বক তেল নিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা আহত মিঠুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়রা জানান, কসিমুদ্দিন জ্বালানি সংকট শুরুর পর থেকে প্রায়ই জোরপূর্বক কমপক্ষে ১০০ থেকে ২০০ লিটার করে জ্বালানি তেল নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি পাম্পের মালিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে ইউএনও গত ১৬ এপ্রিল থেকে ওই পাম্পে একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেন। কসিমুদ্দিনকে ইচ্ছামতো জ্বালানি না দিতে পাম্প মালিককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পাম্পের কর্মচারীকে বেদম মারধর করেন। ঘটনার দিন জোরপূর্বক একাই ৮৪ হাজার টাকার জ্বালানি তেল নিয়ে যান। পরে সেই তেল কৃষকসহ অন্যদের কাছে ২৫০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করেন। গত ১৬ এপ্রিলের পর তাকে ইচ্ছামতো জ্বালানি তেল না দেওয়ায় পাম্প জ্বালিয়ে দেওয়া এবং পাম্প মালিককে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন।
সারোয়াজ জাহান অভিযোগে বলেন, বিএনপির এই নেতা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। আমাকে পরিবারসহ প্রাণে মেরে ফেলবেন এবং পাম্প জ্বালিয়ে দেবেন। বিভিন্ন যানবাহনের মালিকদের ডেকে তিনি বলেছেন, মেসার্স গাঙ্গোপাড়া ফিলিং স্টেশনে কেউ যেন গাড়ি না রাখে। যেকোনো সময় পাম্পে আগুন লাগতে পারে, এতে তাদের গাড়িও জ্বলে যেতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে কসিমুদ্দিন জানান, পাম্পে তেল বিক্রিতে অনিয়ম দেখে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। দৈনিক ২০০ লিটার করে জ্বালানি তেল নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
তবে বলেন, তাদের অনেক লোকজন রয়েছে, সবার জন্য তেল নিতে সেখানে গিয়েছিলাম। পাম্প জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
বাগমারা থানার এসআই বজলুর রহমান বলেন, ফিলিং স্টেশনের মালিকের দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই ব্যক্তি সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জ্বালানি তেল বিক্রিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

