ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ইয়াবা দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ এএসআই’র বিরুদ্ধে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহানগরের কোনাবাড়ি থানা এলাকায় ব্যবসায়ীকে জোর করে সিএনজিতে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর ও ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ওই এএসআই আজিজুল হক গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ি থানায় কর্মরত। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি চৌরাস্তা এলাকায় একটি প্রেস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত ১০টার দিকে রুবেল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে গিয়ে একটি সিএনজি থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সময় একটি সিএনজি এসে তার পেছনে থামে এবং তাকে ওই সিএনজিতে জোর করে তুলে হরিণচালা এলাকার কাশেম কটনের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তল্লাশির নামে চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন। একপর্যায়ে একটি পলিথিনে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট সামনে দেখিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায় এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ ২৮ হাজার ৪শ টাকা কেড়ে নেয়।
এ সময় ওই সিএনজিতে সিফাত নামের আরও এক যুবককে রাখা হয়। অভিযোগ তার মোবাইলে অনলাইনে জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপস থাকার অপরাধে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সিফাতের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের চেষ্টা করে এবং সিফাতের ভাই দেলোয়ারের মোবাইলে ২ হাজার ৪শ টাকা পাঠায়। পরবর্তীতে দেলোয়ারকে নিয়ে বাইমাইল মসজিদ মার্কেট এলাকায় গিয়ে মোবাইল বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও প্রায় ৭ হাজার ২শ টাকা তুলে দেন।
ভুক্তভোগী জানান, টাকা নেওয়ার পর ওই পুলিশ সদস্য তার ছবি তুলে রাখেন এবং কাউকে ঘটনা না জানানোর জন্য বলেন। জানালে পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের বিপদের মুখে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে তাকে পূর্বের স্থানে নামিয়ে দেয়। ঘটনার পর দেলোয়ার ঘনিষ্ঠ দুই-একজনকে বললে ওই রাত ২টার দিকে ৮ জন পুলিশ সদস্য তার বাসায় যান এবং টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে সিফাত নামের ওই যুবক মোবাইল ফোনে সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হয়নি। তিনি বলেন, আমাকে ভয় দেখানো হয়েছে, তাই বেশি কিছু বলতে পারছি না।
তবে অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ি থানার ওসি ইফতেখার হোসেন বলেন, ঘটনাটি গত রাতে শুনেছি। মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ঘটনা সত্য হলে অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
