এক সপ্তাহ আগেই পরিকল্পনা
চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ঘুমন্ত ব্যবসায়ীকে হত্যা করে স্ত্রী ও ছেলে
Advertisement
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
কুপিয়ে ঘুমন্ত ব্যবসায়ীকে হত্যা করে স্ত্রী ও ছেলে
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের সিংড়ায় রফিকুল ইসলাম ওরফে রুবেল (৪৫) নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাংস কাটার চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যা করেন নিজের স্ত্রী ও ছেলে। আর এ হত্যার পরিকল্পনা করেন এক সপ্তাহ আগেই।
সোমবার সকালে উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর নিজ শয়ন কক্ষের মেঝে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যবসায়ী একই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মৃত কেরামত আলীর ছেলে।
লাশ উদ্ধারের পর দেখা যায় তার গলার সামনের অংশ সিংহভাগ কাটা ও ঘটনার সময় ধস্তাধস্তিতে দুই হাতেও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কাটার দাগ রয়েছে। পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গিয়ে নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী শিউলি বেগম ও ছেলে সাইফুদ্দিন সিদ্দিক ওরফে রয়েলকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে বাড়ির সামনের পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি ও স্ত্রী এবং ছেলের রক্তাক্ত কাপড় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার ইটালী গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে গলা কেটে হত্যার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারে যায় পুলিশ। নিহত ব্যক্তির পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তার স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে রাগারাগি করে রাতে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন ওই ব্যবসায়ী। সকালে তার শয়ন কক্ষের মেঝেতে গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়।
ওসি আরও জানান, নিহতের স্বজনদের চোখে পানি থাকলেও স্ত্রী ও ছেলের মধ্যে কোনো অনুভূতি ও শোকের মাতম ছিল না। বিষয়টি সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার তথ্য বের হয়ে আসে। এ ঘটনায় স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করা হয়েছে। মূলত সংসারে অশান্তি থেকেই মা ও ছেলে এক সপ্তাহ আগে থেকে পরিকল্পনা করেন। চাপাতি দিয়ে ঘুমন্ত বাবাকে তার মায়ের সামনেই জবাই করে হত্যা করে আপন ছেলে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, নিহত ব্যক্তি প্রতিনিয়তই গাঁজা সেবন এবং স্ত্রীকে মারধর করতেন। এ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছিল।
