কাল বৈশাখীর তান্ডব
এক ঘুর্ণি পাকেই উড়ে গেল বসতঘর
Advertisement
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
কাল বৈশাখীর তান্ডব। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘সন্ধা নামার একটু বাকী। উত্তর-পশ্চিম আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। রাস্তা থেকে ছাগল-বকরি নিয়ে দৌড়াচ্ছি। শিশুদের বাড়ীতে আসার জন্য ডাকাডাকি করছি। মৃদুমন্দ বিজলী চমকানোর মধ্যে হঠাৎ উত্তর আকাশ থেকে কানে ভেসে এলো ঝড়ো হাওয়ার গর্জন। মনে হচ্ছিল কোনো একটা বিপদ ঘটতে যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বেগে একটা ঘুর্ণিপাক ধেঁয়ে আসলো। বাতাসের গর্জন শুনে ভয়ে দোয়া কালাম পড়তে পড়তে চক্ষু বন্ধ করে ছিলাম। ঝড়ো হাওয়ার প্রথম দফার আঘাতটা যেতে না যেতে চোখ খুলে দেখি বসত ভিটেয় কোনো ঘর নেই। আমাদের মাথার উপর থেকে ঘরটা উঁধাও হয়ে গেছে। প্রবল বাতাস আর ভারী বর্ষণের মধ্যে শিশুদের নিয়ে আশ্রয় খোঁজার জন্য ঝুকলাম। আগ বাড়াতেই শূন্য ভিটের উপর মান্দার গাছটা চোখের সামনে ভেঙে পড়লো। বসত বাড়ী সংলগ্ন কাচা রাস্তার বিপরীত পাশে পদ্মা পারে বাঁধা নৌকার দিকে তাকিয়ে দেখি পরিবারের একমাত্র অবলম্বন মাছ ধরার নৌকাটিও ডুবে গেলো। একটি ঘুর্নি পাকেই চোখের সামনে পরিবারের সবকিছু তছনছ হয়ে গেলো। পরে সর্বস্ব হারিয়ে ঝড়ো হাওয়ার বেগ পারি দিয়ে জান বাচাঁবার আশায় শিশুদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম পাশের বাড়ীতে।’
এভাবেই কাল বৈশাখীর তান্ডব বিড়বিড় করে বর্ণনা করেছিলেন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী গ্রামের পদ্মা পারের বসতি হত-দরিদ্র কামাল খানের স্ত্রী জোসনা আক্তার (৪০)। গত বুধবার বিকেলে কাল বৈশাখীর তান্ডবে একমাত্র বসত ঘর, ভিটের গাছপালা ও মাছ ধরার নৌকা হারানোর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে উক্ত গৃহিনী কাল বৈশাখীর ভয়াবহতা বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজের চোখ ভিজিয়ে ফেলেন।
ঝড়ের পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে খোলা আকাশের নিচে বসবাসরত কামাল খানের পরিবারে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ তিন হাজার টাকা পৌছে দিয়েছেন। এছাড়া কাল বৈশাখীর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পার্শ্ববতী বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও জোসনা মৃধার পরিবারে আরও এক বান্ডিলসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে মোট চার বান্ডিল ঢেউটিন পৌছে দিয়েছেন ইউএনও।
এসব ঢেউটিন বিতরনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ‘উপজেলায় কাল বৈশাখীর তান্ডবে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ টাকা এবং কম ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে তালিকা করে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন দেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আকস্মিক কাল বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার ১৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফসলী মাঠের প্রায় ৫০ একর কলা বাগানের গাছগুলো উপড়ে রয়েছে এবং প্রায় ৮০ একর ভূট্টা ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রচুর পরিমাণ ফলজ ও বনজ বৃক্ষাদিসহ বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
