ভিটেমাটি বন্ধক রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন মহেশখালীর দুই যুবক
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
রবিউল আলম এবং মোহাম্মদ এহসান। ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাহাড়ের গহীনে টানা পাঁচ দিন বন্দি জীবন। চোখ বেঁধে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে সরিয়ে নেওয়া,সামান্য ভুল হলেই অমানুষিক নির্যাতন। আর এদিকে সন্তানদের জীবিত ফেরাতে শেষ সম্বল ভিটেমাটি, পানের বরজ বন্ধক রেখে ও গরু বিক্রি করে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ে মরিয়া পরিবার।
অবশেষে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে অপহৃত দুই যুবক বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তবে ফিরে এলেও এখনো আতঙ্কে রয়েছেন তারা।
অপহৃত দুই যুবক হলেন মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়াকাটা এলাকার লাল মিয়ার ছেলে রবিউল আলম এবং একই এলাকার বাদশাহ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ এহসান।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, গত ১২ মে সংঘবদ্ধ একটি অপহরণ চক্র মহেশখালী থেকে কৌশলে ওই দুই যুবককে কক্সবাজারে নিয়ে যায়। পরে ইনানীর পাটুয়ারটেক সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে প্রথমে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ফিরে আসা যুবকরা জানান, অস্ত্রধারী অন্তত পাঁচজন সন্ত্রাসী সার্বক্ষণিক তাদের পাহারা দিত। নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে একদিন পরপর তাদের এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে সরিয়ে নেওয়া হতো। এ সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদের ফোনে ভয়ভীতি দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অপহরণ চক্রটির নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিস্তৃত ও ভয়ংকর। এতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী ও মিয়ানমারের কিছু অপরাধী জড়িত থাকতে পারে। এমনকি ভারতের কয়েকজন অপরাধীর সম্পৃক্ততার কথাও তারা জানতে পেরেছেন। নিজস্ব যানবাহন রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের টার্গেট করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দেনদরবারের পর শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। এই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে দুই পরিবার কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়ে। গরু বিক্রি, জমানো সঞ্চয়, পানের বরজ এবং ভিটেমাটি বন্ধক রেখে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ওসি মুহাম্মদ আবদুস সুলতান বলেন, দুই যুবকের অপহরণের বিষয়টি পুলিশ জানত এবং বিষয়টি জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছিল।
তবে মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়া পাওয়ার বিষয়টি পুলিশের জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

-6a0c991d67c9c.jpg)