বাড়ছে পানি ভাঙছে পাড়, ভয়ে রাত কাটছে হাজারও বসতির
Advertisement
মিজানুর রহমান, চারঘাট (রাজশাহী)
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
বাড়ছে পানি ভাঙছে পাড়, ভয়ে রাত কাটছে হাজারও বসতির
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাড়ছে পানি, ভাঙছে পাড়, ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে রাত কাটছে নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজারও বসতির। দীর্ঘদিন ধরে এমন ভাঙন নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর, গৌড়শহরপুর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।
তবে এবার প্রথম ভাঙনকবলিত অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
তারই প্রচেষ্টায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে ভাঙনকবলিত পিরোজপুর এলাকায় ৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নদীর তীরে বসবাসকারীরা।
জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরে চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর, গৌড়শহরপুর ও রাওথা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নদী ভাঙন চলে আসছে। দিনের পর দিন বছরের পর বছর ধরে এভাবে নদী ভাঙনের ফলে নদীর তীরে বসবাসকারী অনেকেই হারিয়েছেন জন্ম ভিটা জমি ও জীবন জীবিকার ফসলের মাঠ। কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকায় কয়েকটি গ্রামের ঠিকানা এখন নদীগর্ভে। নতুনভাবে ভাঙন চলায় যেটুকু বাড়ি ঘর অবশিষ্ট রয়েছে, এখন সেগুলোও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন নদীর তীরে বসবাসকারীরা।
এমন ভয়াবহ ভাঙনের খবর জানতে পেরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল রোববার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের সময় বিকুল স্থানীয় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এমপি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগ করে ভাঙনকবলিত এলাকায় রোববার ৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আরও ব্যাগ লাগলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নদীর তীরে বসবাসকারী ফজলুর রহমান, আনিছুর রহমান, সোলেমান আলী, ইসলাম আলী, সুমন আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বছরের পর বছর ধরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে অনেকেই আজ নিঃস্ব। অনেকেই হারিয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। হারিয়েছে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি। আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে কয়েক মাস ধরেই। অসময়ে ভাঙনে যেটুকু মাথা গোঁজার ঠাঁই অবশিষ্ট রয়েছে তাও হারানোর ভয়ে রাত কাটছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী আবু রওশন মাসুদ বলেন, এখনই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নদীর তীরে বসবাসকারী কারো বাড়ি ঘর হয়ত থাকবে না। এ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদের নির্দেশক্রমেই জিওবাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
