Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

‘দুই বছর আগে গরুর গোশত খাইছিলাম, এরপর কেউ খোঁজ নেয়নি’

Advertisement

Icon

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

‘দুই বছর আগে গরুর গোশত খাইছিলাম, এরপর কেউ খোঁজ নেয়নি’

মেঘনা নদীর তীরবর্তী রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষের ঈদকেন্দ্রিক কষ্ট এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

Advertisement

‘আইজকা তিন বছর ধরে আমরা এই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকি। আমার শরীরও ভালো না। এক দিনের ওষুধ কিনলে বাকি চারদিন আর খাইতে পারি না। দুই দিন পর কুরবানির ঈদ। আমাদের যদি সরকার একখান গরু দিত, তাহলে সবাই মিলমিশে ভাগ করে খাইতে পারতাম।’

এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করছিলেন হাজেরা বেগম। মেঘনা নদীর তীরবর্তী রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষের ঈদকেন্দ্রিক কষ্ট এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

প্রায় তিন বছর আগে মেঘনা নদীর পাড়ে মিয়ারহাট ও হাজিমারা এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে একবার গরু জবাই করে কুরবানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের দেওয়া কুরবানির গোশত পেয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছিলেন। তবে এবার সেই কোনো উদ্যোগ না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বাসিন্দারা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বেপারীর হাট সংলগ্ন কারিমিয়া আশ্রয়কেন্দ্রে সরেজমিনে গেলে বৃদ্ধ হাজেরা বেগমসহ কয়েকজন তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কুরবানি দিতে না পারায় উপজেলার ৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত প্রায় সাড়ে ৪০০ পরিবার এবারের ঈদ কাটাবে নিরানন্দে। এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেঘনার তীরবর্তী কারিমিয়া ও মিয়ারহাট আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বাসিন্দাদের মুখে ক্লান্তি ও হতাশার ছাপ। কোনোভাবে দুই বেলা খেয়ে তারা দিন পার করছেন। ঈদ উদযাপনের চিন্তা কারও মধ্যেই নেই।

দিনমজুর মন্তাজ হোসেন ও আবদুল মান্নান বলেন, এই আশ্রয়কেন্দ্রে রিমাল ও টানা বৃষ্টিতে পুরো কেন্দ্রেই জলাবদ্ধতা হয়। দুই বছর আগে মিয়ারহাট আশ্রয়কেন্দ্রে গরুর গোশত খাইছিলাম, কিন্তু এরপর আর কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।  বাড়িতে থাকলে অন্তত কেউ না কেউ কুরবানির গোশত দিত, এখানে কে দেবে?

আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধা কন্যা বিধবা হামিদা বেগম বলেন, দুই সন্তান নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঈদ করতে হবে—এটা কখনো ভাবিনি।  নদীভাঙনে সব হারিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। নিজেরাই ঠিকমতো খাবার পাচ্ছি না, ঈদের কথা ভাবার সুযোগ নেই।

হাজিমারা আশ্রয়কেন্দ্রের সভাপতি ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের ছেলে চান মিয়া বলেন, ২০২২ সালে এখানে প্রশাসন থেকে গরুর গোশত দেওয়া হয়েছিল।  এরপর মিয়ারহাটে একবার গরু জবাই করা হয়েছিল। 

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।  তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু জবাইয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪৬৫টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে এসব পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

‘আমি আর বিচার পাব না’—মেহেদী হত্যার চার মাস পর বাবার আক্ষেপ

‘আমি আর বিচার পাব না’—মেহেদী হত্যার চার মাস পর বাবার আক্ষেপ

প্রকৃত শিক্ষায় নজর না দিলে বিপজ্জনক হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকৃত শিক্ষায় নজর না দিলে বিপজ্জনক হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী

ভূমি অফিসের আত্মসাতের ১২ লাখ টাকা জমা দিলেন দুই কর্মচারী

ভূমি অফিসের আত্মসাতের ১২ লাখ টাকা জমা দিলেন দুই কর্মচারী

সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে পিছু হটেছে সরকার: মামুনুল হক

সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে পিছু হটেছে সরকার: মামুনুল হক

‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সাবেক ওসির বিরুদ্ধে

‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সাবেক ওসির বিরুদ্ধে

আত্মীয়ের বাড়ি থেকে চেক চুরি-স্বাক্ষর জালিয়াতি, আইনজীবী কারাগারে

আত্মীয়ের বাড়ি থেকে চেক চুরি-স্বাক্ষর জালিয়াতি, আইনজীবী কারাগারে

আরও পড়ুন

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম