আত্মীয়ের বাড়ি থেকে চেক চুরি-স্বাক্ষর জালিয়াতি, আইনজীবী কারাগারে
Advertisement
লক্ষ্মীপুর ও রায়পুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
হুমায়ুন কবির হাওলাদার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে চেক চুরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় হুমায়ুন কবির হাওলাদার নামে এক আইনজীবীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার বিকালে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সন্ধ্যায় আদালতের জারিকারক মো. মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে করা চেক জালিয়াতির মামলাটি সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) তদন্ত করেছেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেফতারকৃত হুমায়ুন কবির হাওলাদার লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বাদীর আইনজীবী ফিরোজ আলম বলেন, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে গত ৭ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। রোববার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলার অপর আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ইউছুফ আলী রায়পুর উপজেলার উদমারা গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের আত্মীয় হন। মরিয়মের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দরগঞ্জ শাখার একটি চেক কৌশলে চুরি করেন হুমায়ুন। পরে সেই চেকে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা লিখে মরিয়মের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে জমা দেন। তবে স্বাক্ষরে অমিল থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মরিয়মকে জানায়।
এ ঘটনায় মরিয়মের স্বামী ইউছুফ বাদী হয়ে হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদ নামে দুজনের বিরুদ্ধে রায়পুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সহকারী পুলিশ সুপারকে (রায়পুর সার্কেল) দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ তদন্ত এবং সিআইডির হস্তলিপি বিশারদের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় চেকের স্বাক্ষর জালিয়াতির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, সমিতির সভাপতি হিসেবে আদালত আমাকে বিষয়টি সমঝোতার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমরা সাত দিনের সময় চেয়েছিলাম। তবে বাদীপক্ষ অনড় থাকায় বিষয়টি আর সমঝোতা হয়নি।
