মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা, খাদ্য সহায়তা পাননি জেলেরা
Advertisement
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মা ইলিশ সংরক্ষণে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। তবে সরকারি বরাদ্দের খাদ্য সহায়তা জেলেদের না দিয়েই এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাচ্ছে। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে জেলেদের মাঝে।
তবে সহায়তার সরকারি বরাদ্দের চাল ইউনিয়নে ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
কিন্তু জেলেদের দাবি, সরকার শুধু চাল দেয়, তাও অপ্রতুল। এছাড়া শুধু চাল দিয়ে ভাত খাওয়া যায় না, অন্যান্য খরচও রয়েছে। মাছ না ধরলে উপার্জন বন্ধ, সেখান অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। এজন্য চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে বুধবার মধ্যরাত থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চলবে। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ ও মজুতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রয়েছে জেল-জরিমানা ও উভয়দণ্ডের বিধান।
মৎস্য বিভাগ জানায়, রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইতোমধ্যে জেলেদের সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিংসহ সব ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।
এদিকে জেলেরাও নদী থেকে ঘাটে ফিরছেন। নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী মাছ ধরার নৌকা নোঙর করছেন। অনেককে দেখা গেছে জাল ঠিক করে, নৌকা ধুয়েমুছে নদীর কিনারায় রেখে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জেলে পরিবারকে প্রায় ১৫৩ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি হারে চাল সরবরাহ করা হবে। বরাদ্দ কম থাকায় বাকি ১১ হাজার ৮৫০ জেলে ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন না।
ইসমাইল মাঝি, ইউছুফ হোসেন, মনির হোসেন ও জালাল উদ্দিনসহ কয়েকজন জেলে জানান, তারা খাদ্য সহায়তা পাননি। জেলে তালিকা নিয়েও প্রকৃত জেলেদের রয়েছে নানা অভিযোগ। পেশার ২০ বছরেও মেলেনি কোনো সহায়তা। নিষেধাজ্ঞার আগেই বরাদ্দকৃত চাল দেওয়ার দাবি জেলেদের। আবার কেউ কেউ বলছেন অপ্রতুল সহায়তা নিয়ে অসন্তোষের কথা। পরিবার পরিজন ও ঋণের বোঝার কথাও অনেকের।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য সহায়তা শিগগিরই দেওয়া হবে। আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, তা প্রাপ্তিসাপেক্ষে বাদ পড়াদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
