|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাগজিয়াপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কাশেমের শিশির দুগ্ধ খামারের লালিত ফ্রিজিয়ান জাতের বিশাল আকৃতির ষাঁড় যুবরাজকে ঘিরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে লালন-পালন করা ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
কুরবানির এ ঈদে এটি বিক্রির জন্য এখন বিভিন্ন হাটে নেওয়া হচ্ছে। ষাঁড়টি দেখতে প্রায় প্রতিদিনই খামারে ভিড় করছেন স্থানীয় ব্যাপারীরা।
খামারি আবুল কাশেম বলেন, ২০১৯ সালে শখের বশে পাঁচটি গাভি দিয়ে খামার শুরু করি। বর্তমানে আমার খামারে ৩৫টি গরু আছে। ২০২১ সালে খামারেই জন্ম নেয় ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় যুবরাজ। জন্মের সময় ওজন ছিল ৫০ কেজি। রাজপুত্রের মতো দেখতে এর নাম রাখা হয় যুবরাজ। বর্তমানে যুবরাজের উচ্চতা প্রায় ৯ ফুট।
খামারির দাবি, এ উচ্চতায় ষাঁড়টির দেহে প্রায় ৪০ মন মাংস হতে পারে। তবে ষাঁড়টি বিশাল আকৃতি হওয়ার কারণে এখন যুবরাজকে বের করতে হচ্ছে। কারণ তার খামারের গেটটি সাড়ে ৩ ফুট।
আবুল কাশেম আরও বলেন, জন্মের পর থেকেই যুবরাজ গোয়ালঘরের ভেতরে রয়েছে। একদিনের জন্যও বের করা হয়নি তাকে। খাওয়া-দাওয়া, গোসলসহ সব ধরনের পরিচর্যা করা হয় ঘরের ভেতরে। তিনি ও তার স্ত্রী সানোয়ারা খাতুন নিজের সন্তানের মতো করে ষাঁড়টির যত্ন নিয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ কেজি দানাদার খাদ্য খাইয়ে কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই পাঁচ বছর ধরে একে লালন-পালন করা হয়েছে। যুবরাজকে বিক্রির টাকায় আমি একটি ডিজিটাল খামার করতে চাই।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মরিয়ম রহমান বলেন, যুবরাজকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। খামারিকে পশু পালনে সব রকম পরামর্শ দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। শখের বসে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কাশেমের এমন সাফল্য জেলাজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। এখর কুরবানির পশুর হাটে শেষ পর্যন্ত যুবরাজ কত দামে বিক্রি হয়- সেটাই দেখার বিষয়।
