Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নিল গ্রামবাসী

Icon

যশোর ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নিল গ্রামবাসী

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নিল গ্রামবাসী

Advertisement

যশোরের শার্শায় পুলিশ সদস্যকে পেটানোর মামলার প্রধান আসামি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতার করতে গিয়ে মবের শিকার হয়েছে পুলিশ। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের জড়ো করে মিন্টুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার দাবি, সুনির্দিষ্ট মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী পুলিশকে বাধা দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ টিম শ্যামলাগাছি গ্রামে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতার করতে যায়। তার বাড়ির সামনে মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় মিন্টুর সমর্থকরা গ্রামের একাধিক মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়। মাইকের ঘোষণা শুনে কয়েকশ নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। মব সৃষ্টি করে আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ছিনিয়ে নেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে পুলিশ ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

এলাকার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় মোস্তফা কামাল মিন্টুকে পুলিশ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মিন্টুকে মুক্ত করতে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। তখন মাইকের ঘোষণা শুনে কয়েকশ নারী-পুরুষ জড়ো হন। তারা পুলিশকে ঘিরে ফেলেন। গ্রেফতার করলেও জনরোষে মিন্টুকে রেখেই চলে যায় পুলিশ।

মিন্টুর সমর্থকদের দাবি, পুলিশের মারপিটের ঘটনায় মিন্টু জড়িত নয়। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অবৈধভাবে মিন্টুকে গ্রেফতার করতে এসেছিল। এলাকাবাসী পুলিশের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করেছেন।

পুলিশ পেটানো মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু

যশোর শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে মামুন হাসান ওরফে জুয়েল বর্তমানে টুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে নায়েক পদে কর্মরত আছেন। তিনি কুরবানির ঈদে ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে এসে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তার ছোটভাই মেহেদী হাসান রয়েল গত ৪ জুন শার্শা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

ওই মামলার প্রধান আসামি শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শ্যামলাগাছি গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু। অপর আসামিরা হলেন- মোস্তফা কামাল মিন্টুর ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, আবদুস সালামের ছেলে সুজন হোসেন ও সবুজ হোসেন, আলাউদ্দিনের ছেলে টিটন হোসেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ২৯ মে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশ সদস্য মামুন হাসান মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে শার্শা বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শ্যামলাগাছি গ্রামের জনৈক হাবিবের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছলে আসামিরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে মামুন হাসানের গতিরোধ করে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হাসান মামুনকে বেধড়ক মারপিট করে জখম করে।

এদিকে পুলিশ সদস্য হাসান মামুন কর্মস্থলে থাকলেও তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামিদের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়িতে থাকতে পারছেন না।

শুক্রবার দুপুরে শ্যামলাগাছি গ্রামে হাসান মামুনদের বাড়িতে গিয়ে তার ভাই ও পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের পাওয়া যাইনি। তার ছোট চাচা সফিয়ার রহমানকে বাড়িতে পাওয়া গেলেও তিনি বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে আছেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন।

শফিয়ার রহমান বলেন, তার ভাইয়ের (মামুন হাসানের পিতা) বালির ব্যবসা ছিল। প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের উত্তোলন করা বালু আছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সেই বালু বিক্রি কিংবা সরিয়ে নিতে দেয়নি আসামিরা। তারা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল; কিন্তু শেষপর্যন্ত দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও বালু বিক্রি করতে দেয়নি। এজন্য তারা আমার ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।

তিনি বলেন, এবার কুরবানির ঈদে বাড়িতে এসে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যান ভাইপো হাসান মামুন। সেখানে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিটনের সঙ্গে হাসান মামুনের দেখা হলে তাদের বালু বিক্রিতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি অবহিত করে। এ সময় তার পাশে থাকা কেউ মিন্টুকে জানিয়ে দেয়। কেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ দিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাইপোকে বেধড়ক মারপিট করেছে আসামিরা। পুলিশ মিন্টুকে গ্রেফতার করতে আসায় আসামিরা আমাদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। বাড়িতে ঘুমাতে পারছি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারপিটের ঘটনায় আমি জড়িত নই। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে মামলা নেই। ওয়ারেন্ট ছাড়াই শার্শা থানার ওসি সাহেব জোরপূর্বক আমাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে আমাকে মুক্ত করেছেন। সুনির্দিষ্ট মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়া পুলিশের এমন আচরণ অপেশাদার। পুলিশ টাকা খেয়ে প্রভাবিত হয়ে আমাকে গ্রেফতার করতে এসেছিল।

তিনি দাবি করেন, ওই পুলিশ সদস্য ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে দাপট দেখিয়ে এলাকার মানুষকে নির্যাতন করেছে। নির্যাতিতদের কেউ কেউ তাকে কিলঘুসি মেরেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারপিটের ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মামলা হয়েছে। ওই মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টু। তাকে গ্রেফতারের সময় মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

‘নিজেদের তৈরি মরণফাঁদে’ ঝরছে প্রাণ

‘নিজেদের তৈরি মরণফাঁদে’ ঝরছে প্রাণ

মাদককারবারি আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

মাদককারবারি আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

যশোরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, অজ্ঞাতদের নামে মামলা

যশোরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, অজ্ঞাতদের নামে মামলা

তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী, স্মরণসভা ও দোয়ায় নেতাকর্মীর ঢল

তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী, স্মরণসভা ও দোয়ায় নেতাকর্মীর ঢল

যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

পরকীয়া গোপন রাখতে দম্পতিকে হত্যা: পুলিশ

পরকীয়া গোপন রাখতে দম্পতিকে হত্যা: পুলিশ

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম