রক্ত না নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, রক্ত দেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৃহবধূ
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের নান্দাইলে রোগীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ না করেই রক্ত ক্রস-ম্যাচিংয়ের ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ উঠেছে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে।
ওই ভুয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে রক্ত পুশ করার পর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তাইবা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার উত্তরায় পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকালে উপজেলার ‘হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ এ ঘটনা ঘটে। তাইবা আক্তার নান্দাইল পৌরসভার কাকচর গ্রামের মো. ওয়াহাব মিয়ার স্ত্রী।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাইবা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে রক্তস্বল্পতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার বিকালে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তের ক্রস-ম্যাচিং করাতে তিনি নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান।
অভিযোগ রয়েছে- ল্যাবের টেকনোলজিস্ট রোগীর শরীর থেকে কোনো রক্ত সংগ্রহ করেননি। এর কিছু সময় পর টাকার বিনিময়ে একটি সম্পূর্ণ ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করেন।
ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পুশ করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাইবা আক্তারের শরীরে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকার উত্তরায় পপুলার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর রোগীর স্বজনরা ল্যাবে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে কর্তৃপক্ষ প্রথমে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ল্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম (আল আমিন) প্রথমে বিষয়টি ‘ভুলবশত’ হয়েছে বলে স্বীকার করলেও পরে ঘটনাটি অস্বীকার করে একে ‘অ্যালার্জিজনিত সমস্যা’ বলে দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলম ও জিটু মিয়া জানান, নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ল্যাবে অদক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী ওয়াহাব মিয়া বলেন, হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চরম অবহেলা ও জালিয়াতির কারণে আমার স্ত্রী মরতে বসেছিল। তারা তাদের ভুল স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানা জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগকারীর স্বামীর অনুরোধে আপাতত তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
তদন্ত কার্যক্রম স্থগিতের ব্যাপারে মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে ওয়াহাব মিয়া যুগান্তরকে বলেন, সোমবার রাতে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য আমার কাছে আসে এবং রোগীর চিকিৎসাসহ সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেয়। তবে আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
