২০ দিনের ব্যবধানে ফের ডাকাতের হানা, এবারও পালিয়েছে গুলি করতে করতে
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে একই যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বাড়িতে আবারও হানা দিয়েছে একদল সশস্ত্র ডাকাত। এবারও তারা পালিয়েছে গুলি করতে করতে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে তেতলী ইউনিয়নের লালারগাঁও গ্রামের মোকামবাড়ির বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজু ইসলামের বাড়িতে এই দ্বিতীয় দফা ডাকাতির চেষ্টা চালানো হয়।
পরপর দুইবার একই প্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দলের হানা দেওয়ার ঘটনায় প্রবাসী পরিবার ও পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১৯ মে ভোররাতে ১২-১৪ জনের একটি ডাকাত দল এই বাড়িতে প্রথমবার হানা দিয়েছিল। সে সময় ডাকাতরা গ্রিলের তালা ও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে নারী ও শিশুসহ সবাইকে মারধর করে জিম্মি করে এবং মোবাইল, স্বর্ণালংকার ও কোরবানির গরু কেনার টাকাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। ওই সময় গ্রামবাসী টের পেয়ে ধাওয়া দিলে ডাকাত দল গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।
ওই ঘটনার পর দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা হলে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে।
প্রথমবার ডাকাতি প্রতিহতের চেষ্টা করে ডাকাতদের বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত ও বর্তমানে চিকিৎসাধীন প্রবাসীর ছোট ভাই হাফিজ মো. মাহিদুল ইসলাম জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ডাকাতদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত।
এদিকে প্রথম ডাকাতির খবর শুনে গত ৩০ মে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসেন প্রবাসী রাজু ইসলাম। তিনি জানান, প্রথম দফার রেশ কাটতে না কাটতেই গত মঙ্গলবার ভোররাতে আবারও ৭-৮ জনের একটি ডাকাত দল প্রথমে তাদের ওয়াইফাই লাইন কেটে দিয়ে বাড়িতে হানা দেয়। তবে পরিবারের সদস্যরা জেগে থাকায় এবং নড়াচড়ার শব্দ শুনে বের হয়ে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ডাকাত দল প্রথম দিনের মতোই ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।
সংসদ সদস্য এমএ মালিকের পার্শ্ববর্তী এই গ্রামে বারবার ডাকাতের হানায় পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আহ্বান জানান তিনি।
ডাকাতির চেষ্টার খবর শুনে লালারগাঁও গ্রামের সিনিয়র মুরব্বি ও সালিশি ব্যক্তিত্ব জামাল খান, বিশিষ্ট মুরব্বি আব্দুল হাফিজ, ইউপি বিএনপি নেতা ইলিয়াস খান ও আব্দুল হকসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ির পাশের ইউনিয়নে এমন পুনরাবৃত্তিমূলক অপরাধের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং ডাকাত দলকে দ্রুত গ্রেফতারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, অপরাধ দমনে এলাকায় টহল পুলিশের টিম বাড়ানো হয়েছে।
তবে গ্রামের ভেতরের অনেক রাস্তা ভাঙা থাকায় পুলিশের গাড়ি ঢুকতে সমস্যা হয় উল্লেখ করে তিনি এলাকার যুবসমাজকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রাতের পাহারার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
