পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের ফিটনেসসহ সব কাগজই ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহণের বাসটির ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন এবং রুট পারমিট—সবগুলোরই মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রো-১৫-৫৬৪৯ নম্বরের বাসটি গত ৫ জুন দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক লিটন কুমার দত্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে বিআরটিএর ডাটাবেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাসটির ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ এবং রুট পারমিট—সবগুলোরই মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।
এ ঘটনার পর বাসটির নিবন্ধন এবং চালকের প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বাসডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে জানান, প্রতিবেদনে ঘাট এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম ও নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয় উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা এড়াতে ও নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পন্টুন ব্যবস্থাপনায় মেরিন বিভাগের যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা দ্রুত সংশোধন এবং বাসটির রুট পারমিট সংক্রান্ত অনিয়ম তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব সাথী দাস বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার বিষয়ে একাধিক ত্রুটি পাওয়া গেছে। সেগুলো প্রতিকারের সুপারিশও করা হয়েছে। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।
সড়কে ও ঘাটে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ে জানতে চাইলে পাংশা হাইওয়ে থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন বলেন, বিভিন্ন ধরনের তদবির ও প্রভাবের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সময় বাসের রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদ যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
গোয়ালন্দ মোড় আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত যানবাহনের কাগজপত্র চেক করি। তবে অনেক সময় সব গাড়ির কাগজপত্র একসঙ্গে যাচাই করা সম্ভব হয় না।
