Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর জানায় ক্রাইম পেট্রোলে আসক্ত কিশোরী

Advertisement

Icon

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর জানায় ক্রাইম পেট্রোলে আসক্ত কিশোরী

গ্রেফতার কিশোরী

Advertisement

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে  ভাড়াটিয়ার আড়াই বছরের এক শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৪ বছরের কিশোরীর বিরুদ্ধে। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যার দায় স্বীকার সে।

পুলিশ জানায়, হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কিশোরী নিজেই থানায় জানায়- সে হত্যা করেছে। শিশুটি অপরাধ ভিত্তিক টেলিভিশন ধারাবাহিক ক্রাইম পেট্রোলে আসক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রোববার দুপুরে শিশু হত্যায় অভিযুক্ত কিশোরীকে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ। পরে আদালতের বিচার তাকে হাজতবাসে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় মৃত শিশুর বাবা রোববার সকালে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এর আগে শনিবার বিকালে পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোরী নিজেই থানায় গিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে।

নিহত শিশু আরিশা আক্তার জান্নাত রাজবাড়ী জেলার রামকান্তপুর এলাকার আলহাজ শেখ ও গোলাপি বেগমের মেয়ে। আলহাজ শেখ চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় আবুল কালামের বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন এবং সেভেন রিংস সিমেন্ট কারখানায় কর্মরত।

অভিযুক্ত কিশোরী বাড়ির মালিকের মেয়ে (১৪)। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও নিহত শিশুর বাবার বরাতে জানা গেছে, দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত কিশোরীর মা ছোট্ট আরিশাকে বিশেষভাবে পছন্দ করতেন এবং আদর করতেন। শনিবার বিকালে বাড়ির উঠানে দুজন একসঙ্গে খেলছিল। এ সময় দুই পরিবারের লোকজন ঘরের ভেতরে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর‌্যায়ে গোসল খানায় ঢুকে বালতির পানিতে শিশুটিকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বাবা-মা। পরের ডাক-চিৎকার করলে বাড়ির লোকজন এসে আরিশা আক্তার জান্নাতকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিশার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোরী হাসপাতালে গিয়ে আরিশার অবস্থা জানতে চায়। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সে সরাসরি থানায় গিয়ে পুলিশকে বলে, আমি আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছি। এরপর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছে। কিশোরীর মা মৃত আরিশাকে খুবই আদর করতেন — এই বিষয়টি অভিযুক্ত কিশোরী মেনে নিতে পারেনি। এ থেকে তার মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া সে দীর্ঘদিন ধরে ‘ক্রাইম পেট্রোল’-এর মতো অপরাধভিত্তিক টেলিভিশন ধারাবাহিকে আসক্ত ছিল, যা তাকে এ ঘটনায় প্ররোচিত করে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। অভিযুক্ত কিশোরী মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ নয় বলেও জানা গেছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'অভিযুক্ত কিশোরীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ হত্যার পেছনে আরও কোনো কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

খালে মরা মুরগি ফেলতে গিয়ে আটক, পুলিশে দিলেন এমপি

খালে মরা মুরগি ফেলতে গিয়ে আটক, পুলিশে দিলেন এমপি

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ল পুলিশ

শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ল পুলিশ

স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুদিন ঘরবন্দি থেকে থানায় ভুক্তভোগী

স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুদিন ঘরবন্দি থেকে থানায় ভুক্তভোগী

গাজীপুরের সেই ওষুধ কারখানা বন্ধ ঘোষণা

গাজীপুরের সেই ওষুধ কারখানা বন্ধ ঘোষণা

গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

আরও পড়ুন

কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ

কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ

মালচিং পদ্ধতিতে ১০ একর জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য

মালচিং পদ্ধতিতে ১০ একর জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য

কুমিল্লায় যুবদল নেতা হত্যায় অভিযুক্ত ঘাতক তৌহিদ গ্রেফতার

কুমিল্লায় যুবদল নেতা হত্যায় অভিযুক্ত ঘাতক তৌহিদ গ্রেফতার

বাজার থেকে ছোট মাছ কিনে আনেন স্বামী, যা করলেন স্ত্রী

বাজার থেকে ছোট মাছ কিনে আনেন স্বামী, যা করলেন স্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম