এক যুগ পর নাতি হওয়ায় ঘোড়ার গাড়িতে গ্রাম ভ্রমণ, বিতরণ ৩ হাজার মিষ্টি
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
নাতি মুসালিনকে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ব্যান্ডপার্টির নাচ-গানের তালে তালে নিজ গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে জামাতার বাড়ি শাহবাজপুরে পৌঁছে দেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই। দীর্ঘ এক যুগ পর একমাত্র মেয়ের ঘরে ছেলে সন্তানের জন্ম হওয়ায় আনন্দে আত্মহারা নানা। সেই বিশেষ আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজকীয় ও ব্যতিক্রমী এক উৎসবের আয়োজন করলেন তিনি। সাত মাস বয়সি নাতিকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে, ব্যান্ডপার্টির নাচ-গানের তালে তালে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে বিতরণ করলেন ৩ হাজার পিস মিষ্টি।
ব্যতিক্রমী ও জমকালো এ ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা গ্রামে। ওই নানার নাম মো. হান্নান।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে চলে এ আনন্দ উৎসব।
সরেজমিন জোরমল্লিকা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, হান্নান মিয়ার নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই। তার একমাত্র মেয়ে পান্না খাতুনকে একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর গ্রামের মনির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের পর এ দম্পতির ঘরে প্রথমে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর কেটে যায় প্রায় এক যুগ। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাদের ঘর আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।
একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর নাতির জন্ম হওয়ায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় নানা হান্নান মিয়ার মনে। বর্তমানে নাতি আব্দুর রহমান বিন মুসালিনের বয়স সাত মাস। নাতির আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এ অভিনব উৎসবের আয়োজন করেছেন। নাতি মুসালিনকে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ব্যান্ডপার্টির নাচ-গানের তালে তালে নিজ গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে জামাতার বাড়ি শাহবাজপুরে পৌঁছে দেন।
শিশুটির মা পান্না খাতুন বলেন, আমার প্রথম কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার দীর্ঘ এক যুগ পর আল্লাহ আমাকে পুত্রসন্তান দিয়েছেন। আমার ছেলে হওয়ার আনন্দে বাবা ঘোড়ার গাড়িতে করে পুরো গ্রাম ঘুরে মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব করছেন। বাবার এই আনন্দ দেখে আমরাও আনন্দিত।
নানা হান্নান মিয়া বলেন, আমার নিজের কোনো ছেলে নেই। মহান আল্লাহতায়ালা আমার মেয়ের ঘরে একটি নাতি উপহার দিয়ে আমার মনের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতেই আমি আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের নিয়ে এ আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।
