Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বিএমডিএর সেই পরিত্যক্ত কূপে পড়ে শিশু মৃত্যুর পর এবার মহিষের মৃত্যু

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

বিএমডিএর সেই পরিত্যক্ত কূপে পড়ে শিশু মৃত্যুর পর এবার মহিষের মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে একটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে একই ধরনের একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পরও কূপটি বন্ধ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের শাহানাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে প্রায় চার ফুট ব্যাসের এবং প্রায় ৮০ ফুট গভীর কূপে পড়ে যাওয়ায় সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিষটির মালিক বিকাশ খা। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি মহিষ কিনেছিলেন। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা কিস্তিতে নেওয়া হয়েছিল। হালচাষ করে সংসার চালানো এবং কিস্তির টাকা পরিশোধই ছিল তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন। দুটি মহিষের মধ্যে একটি মারা যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

বিকাশ খার মেয়ে মন্দিরা খা জানান, শনিবার বিকালে মহিষটি ছুটে গিয়ে খোলা কূপে পড়ে যায়। খবর পেয়ে তার বাবা ঘটনাস্থলে এসে মহিষের অবস্থা দেখে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে সেবা দেন। তিনি বলেন, মহিষটি ছিল তাদের পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। এখন সংসার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

গোদাগাড়ী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ রফিকুজ্জামান বলেন, কূপটি পানি দিয়ে ভরাট করলে মহিষের মৃতদেহ ভেসে উঠতে পারত। তবে মালিক মৃত মহিষ উদ্ধারে আগ্রহ না দেখানোয় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে মালিগাছা গ্রামের বাশির উদ্দিন বাবুসহ কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। খননকাজ শেষ হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। এরপরও কূপটি খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়, যার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বাশির উদ্দিন বাবু বলেন, কয়েকজন মিলে ওই জমিতে একটি গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খননকাজের পর সেখানে পানির স্তরও পাওয়া যায়। তখন বিএমডিএ আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলে। কিন্তু পরে জমির মালিক আব্দুর রহিম আর কাগজপত্র নিয়ে যাননি। সে কারণে গভীর নলকূপটি স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। 

আজ বা কাল সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে আশা করে খনন করা কূপটি বন্ধ করা হয়নি বলে জানান তিনি। 

বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-২-এর সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুল আহসান বলেন, সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের কথা থাকলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কূপটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। কেন তা করা হয়নি, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .